রাজশাহীতে গভীর রাতে হানা, সিআইডির এসআইসহ ৪ জনকে গণপিটুনি

গোদাগাড়ী রাজশাহী

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) এক উপপরিদর্শকসহ চারজন গণপিটুনির শিকার হয়েছেন। শুক্রবার রাতের এ ঘটনার পর শনিবার সকালে তাঁদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়। গোদাগাড়ী উপজেলার মাণ্ডইল গ্রামের এক আদিবাসী পল্লীতে এ ঘটনা ঘটে।

আটক চারজন হলেন সিআইডির টিএইচবি শাখার রাজশাহী জোনের উপপরিদর্শক (এসআই) এম এস মাহবুব আলী (৩২), তাঁর সঙ্গী রাজশাহী মহানগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকার শহিদুল ইসলাম (৪৮), বালিয়াপুকুর এলাকার আমিরুল ইসলাম (৫৫) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বিশ্বনাথপুর গ্রামের আতিকুর রহমান (২৮)।

পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি, সরকারি একটি গোয়েন্দা সংস্থা ও আদিবাসী নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাণ্ডইল গ্রামের জয়েন হাসদা (৫০) নামের এক ব্যক্তি মনসা পূজা করেন। তাঁর বাড়িতে পূজার মণ্ডপ আছে। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে সিআইডির ওই এসআইসহ আটক চারজন নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে জয়েন হাসদার বাড়িতে ঢোকেন। ওই সময় জয়েন হাসদা বাড়িতে ছিলেন না। এসআই বাড়ির সদস্যদের বলেন, এই বাড়িতে একটি মরদেহ পুঁতে রাখা হয়েছে। তাঁরা সেটি উদ্ধার করতে এসেছেন।

এ সময় এসআই মাহবুবের নির্দেশে জয়েন হাসদার মামাশ্বশুর সরকার কিস্কু ও তাঁর ছেলে রুবেল হাসদাকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। এরপর বাড়ির তিন জায়গা কোঁদাল দিয়ে খোঁড়া হয়। এ সময় হৈ চৈ শুনে স্থানীয়রা ওই বাড়িতে গেলে এসআই মাহবুব তাঁদের বলেন, এ বাড়িতে একটি কষ্টিপাথরের মূর্তি আছে। তাঁরা সেটি উদ্ধার করতে এসেছেন।

এসআই মাহবুবের অসংলগ্ন কথা শুনে পরিবারের সদস্যরা ‘ডাকাত’ বলে চিৎকার দেন। এ সময় ওই আদিবাসী পল্লীর প্রায় দেড় হাজার মানুষ জড়ো হয়ে তাঁদের ঘিরে ফেলে। এরপর তাঁদের বেঁধে রাখা হয়। এ সময় স্থানীয়রা তাঁদের মারধর করেন। খবর পেয়ে গোদাগাড়ীর কাঁকনহাট তদন্ত কেন্দ্র ও পবা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এরপর শনিবার সকাল ১০টার দিকে পুলিশ তাঁদের গোদাগাড়ী থানায় নিয়ে যায়।

ঘটনাস্থল গোদাগাড়ী থানার ভেতরে হলেও খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মণ। তিনি বলেন, ক্ষুব্ধ আদিবাসীরা আটক ব্যক্তিদের নিয়ে যাওয়া একটি ধূসর রঙের মাইক্রোবাস ও একটি সাদা রঙের অ্যাপাচি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে। মাইক্রোবাসের জানালার একটি কাচও ছিল না। আর মোটরসাইকেলের হেডলাইটসহ বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করা হয়েছে। সেগুলোর জব্দ তালিকা করে গোদাগাড়ী থানার পুলিশ নিয়ে গেছে।

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি বিমল চন্দ্র রাজেয়াড় বলেন, জয়েন হাসদা আদিবাসী হলেও তিনি হিন্দু ধর্মের অনুসারী। এ জন্য তাঁর বাড়িতে পূজামণ্ডপ আছে। তাই ওই বাড়িতে কষ্টিপাথরের মূর্তি আছে এমন সন্দেহে সিআইডির এসআই মাহবুব তিনজন সোর্সকে নিয়ে বাড়িতে অভিযান চালান। ওই তিন সোর্সও নিজেদের সিআইডি সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তবে তাঁদের অসংলগ্ন কথাবার্তায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। এ সময় ডাকাত ভেবে স্থানীয়রা তাঁদের বেঁধে রাখেন। কেউ কেউ তাঁদের মারধরও করেন।

এ ব্যাপারে জানতে শনিবার রাতে গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সি বলেন, সকাল ১০টার দিকে সিআইডির এসআইসহ চারজনকে আটক করে থানায় আনা হয়। তাঁদের থানায় রাখা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আদিবাসীদের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করলে তা নেওয়া হবে। আর তা না হলে সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত দেবে, সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানতে চাইলে সিআইডির রাজশাহী বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম বলেন, ‘এসআই মাহবুব বিভাগের কাউকে জানিয়ে অভিযানে যাননি। স্থানীয় থানার পুলিশকেও তিনি অবহিত করেননি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগটি গুরুতর। একজনের অপকর্মের দায় পুরো বিভাগ নেবে না। তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত এবং বিভাগীয় ব্যবস্থায় নেওয়া হবে।’

খবরঃ এনটিভি

5 thoughts on “রাজশাহীতে গভীর রাতে হানা, সিআইডির এসআইসহ ৪ জনকে গণপিটুনি

  1. এভাবেই তো দুর্নীতি বাজেরা নিজ দপ্তরে ফাকি দিয়ে সাধারণের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আর দোষ হচ্ছে সকলের। এদের চাকুরি চ‍্যুত করা দরকার।

Comments are closed.