রাজশাহীতে গাছের আম মাটিতে

রাজশাহী

রাজশাহীর কিছু এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার ঘুরে দেখা যায়, পথে পথে পড়ে আছে ঝরে পড়া আম। সরকারি হিসাবে এভাবে ঝরে পড়ায় আমের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪০ কোটি টাকার। তবে আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের হিসাবে তা অনেক বেশি।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, রাজশাহীতে ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। এবার আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ মেট্রিক টন। এই জেলায় গত রবি ও সোমবার কালবৈশাখীতে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন আম ঝরে পড়েছে। ভরা মৌসুমে আমের দাম গড়ে ৪০ টাকা কেজি ধরলে এর দাম হয় ৪০ কোটি টাকা।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আলীম উদ্দিন বলেন, এই কেন্দ্রে ছোট-বড় দেড় শ আমগাছ রয়েছে। ঝড়ে ৩০-৪০ শতাংশ আম পড়ে গেছে। হয়তো অন্য এলাকায় ক্ষতি কম হয়েছে। কেন্দ্রের ভেতরে গিয়ে ক্ষতিটা দেখা গেল স্বচক্ষেই। আলীম উদ্দিন একটি মল্লিকা জাতের গাছ দেখিয়ে বলেন, গাছটিতে থোকা থোকা আম ছিল। এখন গাছটির এক পাশে হাতে গোনা কয়েকটি আম ঝুলছে।

পুঠিয়ার বানেশ্বর এলাকার ব্যবসায়ী সাবের হোসেন বলেন, প্রায় ৪০ লাখ টাকার আম আগাম কেনা রয়েছে তাঁর। বাগানগুলো পুঠিয়া, বাগমারা ও পার্শ্ববর্তী নাটোর জেলায়। বাগানে প্রায় ৫ হাজার গাছের এক-তৃতীয়াংশ আম ঝরে মাটিতে পড়েছে।

বাঘা, চারঘাট, পবা ও পুঠিয়ার রাস্তার ধারে প্রচুর আম পড়ে থাকতে দেখা গেছে। পুঠিয়ার বিড়ালদহ ও বানেশ্বরে, চারঘাট সদর, বাঘা উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায়ও ঝরে পড়া কাঁচা আম বস্তায় ভরতে দেখা গেছে।

বাঘার আকরাম হোসেন নামের একজন ব্যবসায়ী কাঁচা আমের আড়ত খুলে বসেছেন। তিনি বলেন, ৩০ পয়সা কেজি দরে আম কিনে জেলার বাইরে তিনি ছয় ট্রাক পাঠিয়েছেন। কিন্তু আগের পাঠানো আমই সব বিক্রি হয়নি। ইতিমধ্যে তাঁর আরও দুই ট্রাক আম জমেছে।

অবশ্য রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক দেবদুলাল ঢালী বলেন, আম ঝরে পড়ার পর এখনো যে পরিমাণ রয়েছে, সেটা স্বাভাবিক বলেই মনে হচ্ছে। যে পরিমাণ আম পড়েছে, ঝড় না হলেও কিছুদিনের মধ্যে তা ঝরে পড়ত।

খবরঃ প্রথম-আলো