রাজশাহীতে গৃহবধু ধর্ষণের চেষ্টার রফাদফার টাকা চেয়ারম্যানের পকেটে

তানোর রাজশাহী

রাজশাহীর তানোরে গৃহবধু কে নির্যাতন করে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায় রফাদফা করে বিভিন্ন অজুহাতে সালিশের টাকা নিজ পকেটে রেখেছেন চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার সরনজাই ইউপির শুকদেব পুর গ্রামে গত রোববার ঘটে রফাদফার ঘটনাটি।

রফার পুরো টাকা চেয়ারম্যান গৃহবধূর পরিবার কে না দিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে নিজেই তছরুপ করেছেন বলে একাধিক সুত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ফলে চেয়ারম্যান আব্দুল মালেকের একের পর এক নারী নির্যাতনের ঘটনা আপোষ মীমাংসা করে নিজের পকেট ভারী করায় ফুসে উঠেছে ইউপি বাসী।

সেই সাথে খোদ নিজ দলের নেতাকর্মীরাও পড়েছেন চরম বিব্রতকর অবস্থায়। জানা গেছে উপজেলার শুকদেবপুর গ্রামের জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আরিফা বেগম কে সন্ধ্যার দিকে বাড়ীতে একা পেয়ে ধর্ষণের উদ্দশ্যে ব্যাপক ভাবে নির্যাতন করেন ওই গ্রামের নাদের আলীর পুত্র বখাটে শামিম।

গৃহবধূকে প্রচুর মারপিট করলেও ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা পান। কিন্তু গ্রামের প্রভাবশালীরা গৃহবধূ আরিফাকে চেয়ারম্যানের নির্দেশে থানায় আসা এবং চিকিৎসা পর্যন্ত নিতে আসতে দেননি। এমন কি সালিশ বিচার না হওয়া পর্যন্ত গৃহবন্দী করে রাখে অসহায় গৃহবধূ আরিফাকে। থানা পুলিশ না করে চেয়ারম্যানের নির্দেশে গত রোববার বসে সালিশ বিচার।

বিচারে বখাটে শামিমের ৫০ হাজার টাকা জরিমানাসহ হাত ধরে আপোষ মীমাংসা করে দেন চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক। কিন্তু জরিমানার পুরো টাকা ভীকটিম গৃহবধূর পরিবারকে না দিয়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বিভিন্ন অজুহাতে চেয়ারম্যান পকেটে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

একাধিক গ্রামবাসী জানান সালিশের পুরো টাকা গৃহবধূ কে দিতে বলা হলে চেয়ারম্যান উল্টো বলেন এসব ঘটনা আপোষ মিমাংসা করা যায় না। এজন্যে অনেক জায়গায় টাকা দিতে হবে। এসব কথা বলে চেয়ারম্যান প্রায় ২০ হাজারের উপরে টাকা হাতিয়ে নেয়। গৃহবধুর ভাই রাসেদুল জরিমানার কথা অস্বীকার করে জানান ঘটনা নিজেদের মধ্যে হাত ধরে আপোষ মিমাংসা হয়েছে।

৫০ হাজার টাকায় আপোষ হয়েছে আপনার বোন কত টাকা পেয়েছে জানতে চাইলে এড়িয়ে গিয়ে বলেন আমি ছিলাম না। গৃহবধুর পরিবারের এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করে জানান টাকা ২৫ হাজারের মত পাওয়া গেছে বাকি টাকা বিভিন্ন জায়গায় দেবার নামে চেয়ারম্যান নিজের কাছে রেখেছেন।

এটা চেয়ারম্যানের অমানবিক কাজ। গরীবের এসব টাকায় যদি চেয়ারম্যান থাবা মারেন তাহলে কি বলার থাকে ।এর আগে গত মাসের ১৬ সেপ্টেম্বর শনিবার সরনজাই ইউপি জামিন সিধাইড় গ্রামের ৯ মাসের অন্তঃস্বত্বা গৃহবধু শেফালীকে নির্মম নির্যাতন করে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালাতে মরিয়া হয়ে উঠেন চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক।

নির্যাতন করে গৃহবধুর মরদেহ মেডিকেলে রেখে পালিয়া যায় স্বামীর বাড়ীর লোকজন। এঘটনাও চেয়ারম্যান রফাদফা করেন ১ লাখ টাকায়। চেয়ারম্যান আব্দুল মালেকের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাক্ষাতে কথা হবে বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

থানার ওসি রেজাউল ইসলাম জানান এসব ঘটনা আপোষ যোগ্য না। গৃহবধু অভিযোগ করার পর মামলা রুজু করতে আসেননি। কেউ মামলা না করলে আমাদের তেমন কিছু করার থাকেনা। বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবি সমিতির বিভাগীয় প্রধান দিল সেতারা চুনির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন নারী নির্যাতনের ঘটনা কোন ভাবেই আপোষ যোগ্য না।

এসব ঘটনা আপোষ করা হলে নির্যাতন কারীরা আরো অনেক ঘটনার জন্ম দিয়ে থাকেন। এজন্য এসব ঘটনার চরম বিচার হওয়া দরকার মনে করেন তিনি। আর এসব বিচার পেতে হলে ভিকটিমের পরিবারকে এগিয়ে আসতে হয় বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গগত চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে উপজেলা সরনজাই ইউপির শুকদেবপুর গ্রামের অসহায় গৃহবধুকে সন্ধ্যার দিকে বাড়ী ফাকা পেয়ে একই গ্রামের নাদের আলীর বখাটে পুত্র এক সন্তানের পিতা শামিম ধর্ষণের উদ্দশ্যে গৃহবধুর ঘরে ঢুকে মারপিট করে ধর্ষণের চেষ্টা করতে লাগলে গৃহবধু আত্ম চিৎকার দেয়া শুরু করেন।

তার চিৎকারে শামিম পালিয়ে গেলেও তার ব্যবহিত সিগারেটের প্যাকেট ম্যাচ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পড়ে থাকা অবস্থায় প্রতিবেশিরা গৃহবধুকে উদ্ধার করলেও গ্রামের প্রভাবশালী সেলিম সহ আরো কয়েকজন গৃহবন্দি করে রাখেন। কোন ধরনের চিকিৎসা নিতে দেননি তাকে।

খবরঃ ডেইলি সানশাইন