রাজশাহীতে গ্রামবাসীর ফাঁদে মেছো বাঘের ছানা

বাঘা রাজশাহী

ডাঙার জঙ্গল থেকে গ্রামে বাঘ ঢোকার খবর ছড়িয়েছিল আগেই। তাই সতর্ক ছিলেন গ্রামবাসী। বাঘ ধরতে দুই রাত দুই দিন ধরে পাহারা বসান তারা। মাছ ধরা জাল দিয়ে পাতা হয় ফাঁদ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ডোরাকাটা বাঘের দেখা না মিললেও সেই ফাঁদে আটকা পড়ে মেছো বাঘের ছানা। গ্রামবাসী নানা হুলস্থ‍ূল শেষে মেছো বাঘটির জায়গা হয় বন বিভাগে।

সোমবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে রাজশাহীর সীমান্ত ঘেঁষা উপজেলা বাঘার বাজুবাঘা ইউনিয়নের ঢাকাচন্দ্রগাতি কারিগর পাড়া গ্রামের হাফিজুর ও সাজেদুলের বাড়ির আঙ্গিনায় মেছো বাঘটি ফাঁদে আটকা পড়ে। মুহূর্তেই এ খবর ছড়িয়ে পড়ে গ্রাম থেকে শহরে।

বিকেলে উদ্ধার করা হয় মেছো বাঘের ছানাটিকে। দেওয়া খাবারও। শুরু হয় তার পরিচর্যা।

বাঘ আটকের খবরে এক নজর দেখতে আশপাশের গ্রামের নারী-পুরুষ ভিড় জমান ওই বাড়িতে। তাতে আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে ছানাটি।

ঢাকাচন্দ্রগাতি কারিগর পাড়া গ্রামের সাজেদুল জানান, লোকজনের হৈ-চৈ দেখে জাল টেনে তার বাড়ির পাশে খড়ের ভেতরে মেছো বাঘের ছানাটি আশ্রয় নেয়। এ সময় শেকল পড়িয়ে রাখা হয় তাকে। পরে বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলার বাজুবাঘা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে খবর দেন। উপজেলা কর্মকর্তা খবর দেন বন বিভাগে।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হামিদুল ইসলাম জানান, রাজশাহীর বন বিভাগে যোগাযোগ করার পর বিকেলে কর্মকর্তারা গিয়ে মেছো বাঘটি নিয়ে যান।

বাঘা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আটক মেছো বাঘের ছানাটি প্রায় আড়াই ফুট লম্বা ও এক ফুট উচ্চতার। লোকালয়ে আসার পর গ্রামের লোক এটিকে বাঘ বা চিতা বাঘ বলে হুলস্থ‍ূল কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলে। পরে তারা সেখানে যান।

বাঘা উপজেলা বন কর্মকর্তা সাদেকুর রহমান জানান, রাজশাহীর বন বিভাগের কাছে বিকেলে বাঘটি হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে তাকে খাবার দেওয়া হয়। আটক হওয়ার পর আতঙ্কে ছুটোছুটি করতে গিয়ে সামান্য আহত হয়েছে মেছো বাঘটি।

বাংলানিউজ-http://www.banglanews24.com/fullnews/bn/458497.html