রাজশাহীতে গ্রেফতারের পর আদিবাসীর মৃত্যু

রাজশাহী

রাজশাহীতে পুলিশ হেফাজতে এক আদিবাসীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গ্রেফতারের দুইদিন পর ফিলিপ বিশ^াস নামের ওই আদিবাসীর লাশ ফেরত দেওয়া হয়েছে পরিবারকে। এখন এ নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে পুলিশের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে নিহতের পরিবারকে। অসুস্থ থাকায় ফিলিপের মৃত্যু হয়েছে এমন সনদও লিখিয়ে নিয়েছে পুলিশ।
রাজশাহী মহানগরীর নতুনপাড়ার আদিবাসী পল্লীতে বসবাস ছিল ফিলিপ বিশ^াসের। স্ত্রী আর সন্তান নিয়ে ভালোই দিন কাটছিল তার। কিন্তু পুলিশের এক অভিযান তাকে নিয়ে গেছে না ফেরার দেশে। স্থানীয়রা জানান, ভাত পচিয়ে বিশেষ কায়দায় মদ তৈরি করতো ফিলিপ। নিজে সেই মদ পান করতেন। মদ তৈরি ও পানের অভিযোগে ৬ ডিসেম্বর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছিল। গ্রেফতারের দুইদিন পর পুলিশ জানায়, ফিলিপ মারা গেছে। স্বজনদের লাশ নিয়ে আসতে বলে হাসপাতাল থেকে।

ফিলিপের ভাই আলফসন বিশ^াস জানান, আদিবাসীরা ভাত পচিয়ে মদ তৈরি করে পান করে থাকে। ফিলিপ বিশ^াসও তাই করতেন। কিন্তু পুলিশ হঠাৎ করেই তার বাড়িতে অভিযান চালায়। কিন্তু ফিলিপকে না পেয়ে ফিরে যায়। পরে ৬ ডিসেম্বর তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। ওই এলাকার আদরী মিন্স জানান, সুস্থ মানুষ ধরে নিয়ে যাওয়ার দুইদিন পর পুলিশ খবর দেয় ফিলিপ মারা গেছে। তাদের হাসপাতাল থেকে লাশ নিয়ে আসতে বলা হয়। এরপর হাসপাতাল থেকে লাশ নিয়ে এসে তারা সমাহিত করেছেন।

হাসপাতাল থেকে লাশ নিয়ে আসলেও আতঙ্ক কাটেনি আদিবাসী ওই পরিবারটির। ফিলিপের মৃত্যু নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে গ্রেফতারের হুমকি দেওয়া হয়েছে ছেলে শ্যামল বিশ^াসকে। পুলিশের অব্যাহত হুমকিতে এখন এলাকা ছাড়া শ্যামল। শ্যামল বিশ^াস জানান, তারা বাবার মৃত্যু নিয়ে কোনো বাড়াবাড়ি করলে পুলিশ তাকেও গ্রেফতার করে মামলা দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। মাঝে মাঝে পুলিশ এলাকায় এসে তার খোঁজ করছে। তাকে ধরে নিয়ে গেলে ছাড়ানোর কেউ নেই। তাই তিনি আত্মগোপনে থাকছেন।

শুধু শ্যামলকে গ্রেফতারের হুমকি নয়, ফিলিপের মৃত্যুর খবর ধামাচাপা দিতে পুলিশ নিজে লিখে দিয়ে যায় কীভাবে পৌর মেয়রের কাছ থেকে মৃত্যুর সনদ নিয়ে আসতে হবে। সে অনুযায়ী পরিবারটির কাছ থেকে সনদও নিয়েছে পুলিশ। আর ছেলেকে গ্রেফতার না করতে নিয়েছে টাকা। ফিলিপের স্ত্রী শেফালী মিন্স জানান, তাকে পুলিশ যেভাবে লিখে দিয়ে গেছে, সেভাবে পৌর মেয়রের কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র লিখে নিয়ে আসতে বলা হয়। সুস্থ মানুষ তারা ধরে নিয়ে যায়। কিন্তু মারা যাওয়ার পর বলে সে নাকি অসুস্থ ছিল। পুলিশের চাপে তিনি সেভাবেই লিখে এনে দিয়েছেন। ছেলেকে বাঁচাতে পুলিশকে টাকাও দিয়েছেন। এখনও পুলিশ তাকে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে নগরীর শাহ মখদুম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, ঘটনা সত্য নয়। ফিলিপ অসুস্থ ছিলেন। চিকিৎসারত অবস্থায় মারা গেছেন। আর ওই পরিবারকে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো হুমকিও দেওয়া হচ্ছে না।

খবরঃ দৈনিক সানশাইন