রাজশাহীতে জমে উঠেছে ছিট কাপড়ের বাজার

রাজশাহী

নতুন পোষাক ঈদের আনন্দ অনেকগুন বাড়িয়ে দেয়। ঈদে পরিবারের জন্য নতুন পোষাক কেনার চেষ্টা থাকে সকল শ্রেণী পেশার মানুষের। এবারের ঈদে রেডিমেড পোষাকের পাশাপাশি থান ও ছিট কাপড়ের দিকে ঝুকছেন সকল শ্রেনীর ক্রেতারা। সেই সাথে ভিড় বাড়ছে টু-পিস ও থ্রি-পিস’র দোকানগুলোতে।

এবছর অত্যধিক গরম পড়ার কারনে সুতির পোষাকে দিকে ঝুঁকছেন ক্রেতারা। তাই গরমের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সুতির কাপড়ের পছন্দমত পোষাক বানিয়ে নিতেই থান ও ছিট কাপড়ের দোকানগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা। অনেকেই রোজার শুরুতেই পোষাক তৈরী করে নিতে পছন্দের ছিট কাপড় কিনেছেন।

রোববার সরেজমিন নগরীর সাহেব বাজার কাপড়পট্টিতে গিয়ে চোখে পড়ে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। পরিবারের সদস্যদেরকে নিয়ে এসেছেন কেনাকাটা করতে। কাঙ্খিত পোষাক তৈরীর জন্য কিনছেন পছন্দের কাপড়। সেই উপচে পড়া ভিড় মঞ্জুর ক্লথ ষ্টোরেও। ক্রেতাদের আকৃষ্ট দোকানের কর্মচারীরা একের পর এক থ্রি-পিস’র কাপড় প্রদর্শণ করেই চলেছে।

ঐ দোকানের সেল্সম্যান রহিম জানান, এবার বাজারে সব থেকে বেশি হিট হচ্ছে ভারতীয় ডিজিটাল প্রিন্ট থ্রি-পিস। চমৎকার প্রিন্টের সাথে নাগালের মধ্যেই রয়েছে দাম। তাই বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। এছাড়াও রয়েছে ১০-১২ হাজার টাকা দামের থ্রি-পিস। এগুলোও প্রচুর বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এদিকে ডানা টেক্সটাইল’র সত্বাধিকারী খুশবু জানান, বিগত বছরে বেচাকেনা ভালো হয়েছে। এবছর সামান্য কম হলেও বিক্রি মন্দ নয়। বেতন পেয়ে রোজার মধ্যে কাপড় কেনার ঝামেলা এড়াতে অনেক ক্রেতাই রোজা শুরুর আগেই পরিবারের সদস্যদের জন্য কাপড় কিনেছেন বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, সকালে ও বেলা পড়ার বাজারে কাস্টমারের সংখ্যা বাড়ছে। ইফতারের পরে ক্রেতা সমাগম আরো বেড়ে বাড়ছে। ৭০০ থেকে ৮ হাজার টাকার মধ্যেই মিলবে এসকল পোষাক। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত বেচাকেনা সন্তোষজনক নয় বলে মন্তব্য করেন এই ব্যবসায়ী।

তবে ভিড় ছিলনা থান কাপড় ও শাড়ীর দোকানে। এর কারন জানতে চাইলে বিক্রেতারা বলেন, প্রায় রেডিমেড’র মত থ্রি-পিস বাজারে রয়েছে। কাপড় কাটার প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র সেলাই করে পরতে হবে। ফলে ক্রেতারা সেদিকেই ঝুঁকছেন। আর কয়েকদিন পর থেকে শাড়ীর বেচাকেনা ভালো হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দোকান মালিকগণ।
কথা হয় বাজারে কাপড় কিনতে আসা সামিয়া, রিয়া, বনা, মানিক, আঁখি ও বেনির সঙ্গে। তারা জানান, বাজারে পছন্দমত পোষাক তৈরীর জন্য রয়েছে বাহারী ডিজাইনের ছিট কাপড়, থ্রি-পিস কাপড় ও ম্যাচিং পোষাক তৈরীর কাপড়। তবে এবার কাপড়ের দাম অনেকটাই বেশি। দোকানদারগণ বেশি দাম হাকাচ্ছেন। অনেক সময় ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন। একটি থ্রি-পিস’র কাপড় যেখানে ৭০০-১০০০ টাকা দাম হওয়ার কথা, সেখানে সেল্সম্যানরা দাম চাচ্ছেন তিন থেকে চারগুন বেশী। ফলে তাদের সাথে দর-দাম করা কষ্টকর হয়ে পড়ছে। রমজানে মার্জিত ও সততার সাথে ব্যবসা করার জন্য দোকানদের প্রতি অনুরোধ জানান তারা।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ Daily Sunshine