রাজশাহীতে টমেটোর বাম্পার ফলন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ রাজশাহী রাজশাহী বিভাগ

রাজশাহী বিভাগে সবচেয়ে বেশি টমেটো উৎপাদন হয় রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। মাত্র তিন মাসে টমেটোতে এ দুই জেলায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়। এ সময় বহু মানুষের কর্মসংস্থান হয় শুধু টমেটোকে কেন্দ্র করে। লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছরই এ অঞ্চলে বাড়ছে টমেটোর চাষ। তবে সংরক্ষণ ও পরিবহন সুবিধা বাড়লে কৃষকরা আরও লাভের মুখ দেখতে পারবেন বলে জানিয়েছেন টমেটো চাষি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সূত্র বলছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর রাজশাহীতে টমেটোর আবাদ বেশি হয়েছে। এ বছর রাজশাহীতে মোট ৩৬৬০ হেক্টর জমিতে টমেটোর চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৬ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন। গত বছর ২৯২৫ হেক্টর জমিতে ৬৬৩৬২ মেট্রিক টন টমেটো উৎপাদন হয়েছিল।

রাজশাহীতে ৭৬ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫০ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন উৎপাদন হলে মোট উৎপাদন হয় ১ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। গড়ে ৪০ টাকা কেজি হিসেবে টমেটোর দাম ধরলে মোট দাম দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি টাকা।

রাজশাহীর পবা উপজেলার চর খোলাবনা গ্রামের কৃষক আব্দুস সোবহান মন্ডল মাচা পদ্ধতিতে পাঁচ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেন। তিনি বলেন, কোনো ধরনের বিষ প্রয়োগ ছাড়াই টমেটো চাষ করছি। পাইকারি হাটে টমেটো বিক্রি করছি। অন্যরা কীটনাশক ও বিষপ্রয়োগ করে বলে তাদের টমেটোর দাম কম। সোমবার রাজশাহীর খড়খড়ি বাইপাস হাটে ১৮ মণ টমেটো বিক্রি করেছি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা মণ হিসেবে। আমার টমেটো গাছ পাকা ও বড় হওয়ায় দাম ভালো পাচ্ছি। মাচা পদ্ধতিতে টমেটো চাষে খরচ বেশি পড়ে। বিঘায় ৬০ হাজার টাকা খরচ পড়ে।

রাজশাহীতে টমেটোর সবচেয়ে বেশি আবাদ হয় গোদাগাড়ী উপজেলায়। সেখানকার নাজিরপুর গ্রামের কৃষক মো. ওয়ালিউল্লাহ দুই বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছিলেন। তিনি জানান, এ বছর টমেটো চাষের পর ব্যাকটেরিয়ার প্রাদুর্ভাব ও আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় অনেক কৃষকেরই উৎপাদন কম হয়েছে। যাদের উৎপাদন কম হয়েছে তাদের খরচ উঠানো কঠিন হয়ে পড়বে। তাদের লোকসান হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। শুরুতে টমেটোর দাম বেশি থাকলেও এখন দাম কমে গেছে।

jagonews24

তিনি আরও জানান, ১৯৯০ সাল থেকে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে প্রচুর টমেটোর উৎপাদন শুরু হয়। টমেটোর চাষাবাদের তিন মাস এবং বাজারজাতকরণের দুই মাসে প্রচুর শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। ফলে টমেটো উৎপাদন ও বিপণনের সাথে প্রচুর মানুষকে জড়িত থাকতে হয়। প্রচুর লোকের কর্মসংস্থান হয়। যেসব এগ্রো ইন্ডাস্ট্রি আছে তারাও টমেটো কিনে নেয়।

ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে টমেটো বিক্রির পাশাপাশি প্রাণ এগ্রো বিজনেস লিমিটেডও রাজশাহীর টমেটো ক্রয় করে।

গোদাগাড়ীর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, গত বছরের আগের বছরও অন্যরা পাকা টমেটো কিনতো। এখন শুধু প্রাণকেই টমেটো কিনতে দেখা যায়।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. শামসুল হক জানান, শীতকালীন সবজি হিসেবে আগাম টমেটো চাষের জন্য রাজশাহীর টমেটো দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে। আগাম বলে এ অঞ্চলের চাষীরা দামও ভালো পায়। শুরুতে এক কেজি টমেটো বিক্রি হয় কেজিতে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। পরে শেষ দিকে টমেটোর দাম কমে ২০ থেকে ২৫ টাকায় টমেটো বিক্রি হয়। টমেটোর গড় দাম ৪০ টাকা কেজি ধরে হিসাব করা যায়। সে হিসাবে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫০০ কোটি টাকার বেশি টমেটোর ব্যবসা হয়।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ জাগোনিউজ২৪