রাজশাহীতে টাকা না পেয়ে ময়লা ফেরত!

রাজশাহী

নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বাসাবাড়ির তথ্য সংগ্রহ অভিযান চলছে। এ জন্য একটি করে ফরম দেওয়া হচ্ছে। ফরমের দাম রাখা হচ্ছে ১০০ টাকা।
এই ফরমের দাম না দেওয়ার অভিযোগে নগরের একটি বাসার সামনে এক গাড়ি ময়লা ফেলে এসেছেন সিটি করপোরেশনের কর্মচারীরা। গতকাল শনিবার রাজশাহী নগরের তালাইমারী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ কথা শুনে নগরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র বলেছেন, সহযোগিতা না করায় আবর্জনা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
বাসার মালিকের নাম সুলতান মাহমুদ। তিনি রাজশাহী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মচারী। তিনি বলেন, তাঁর বাড়িতে তিনজন ভাড়াটে থাকেন। গতকাল বেলা ১১টার দিকে সিটি করপোরেশনের দুজন কর্মচারী ভাড়াটেদের তথ্য সংগ্রহ করতে তাঁর বাসায় যান। তাঁরা নিচতলা ও দ্বিতীয় তলার ভাড়াটের ফরম পূরণ বাবদ তাঁদের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে নেন। তৃতীয় তলার ভাড়াটে তাৎক্ষণিক টাকা দিতে পারেননি। এ নিয়ে তাঁর সঙ্গে ফোনে সিটি করপোরেশনের কর্মচারীদের বচসা হয়।
সুলতান মাহমুদ জানান, বচসা হওয়ার কিছুক্ষণ পর সিটি করপোরেশনের ময়লা টানার গাড়ি এসে তাঁর বাসার সামনে এক গাড়ি ময়লা ফেলে রাখে। দুর্গন্ধে প্রতিবেশীরা হইহল্লা জুড়ে দেন। খবর পেয়ে ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তরিকুল আলম ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি এসে বলেন, সিটি করপোরেশনের কাজে বাধা দিচ্ছেন তিনি (সুলতান মাহমুদ)। জবাবে সুলতান মাহমুদ বলেন, আগে বাসার সামনে থেকে ময়লা সরাতে হবে। এ কথা বলার পর তাঁর বাসার সামনে থেকে ময়লা তুলে নেওয়া হয়।
কাউন্সিলরের মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র নিযাম উল আযীম বাসার সামনে ময়লা ফেলার কথা শুনে হাসতে হাসতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঠিকই করেছে। সহযোগিতা না করার জন্য তাঁর ময়লা তাঁকে ফেরত দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ১০০ টাকা দিয়ে একটি ফরম কিনে তথ্য সরবরাহ না করলে ওই ব্যক্তির বাসার ময়লা সিটি করপোরেশনের গাড়িতে করে আর টানা হবে না। তাঁর বাসার সামনের ড্রেন পরিষ্কার করা হবে না। বাসার সামনের লাইট আর জ্বলবে না।
রাজশাহী নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত ছয় মাস ধরে মহানগর পুলিশ বাসাবাড়ির তথ্য সংগ্রহ করছে। এ কাজে সিটি করপোরেশন তাদের কর্মচারী দিয়ে সহযোগিতা করছে।

খবরঃ প্রথম আলো

5 thoughts on “রাজশাহীতে টাকা না পেয়ে ময়লা ফেরত!

Comments are closed.