রাজশাহীতে ট্রেনের নিচে ধাক্কা দিয়ে নারীকে হত্যার অভিযোগ

রাজশাহী

রাজশাহী মহানগরীর দাশপুকুর ঈদগাহের পাশে চলন্ত ট্রেনের নিচে ধাক্কা দিয়ে মাবিয়া বেগম (৪৫) নামের এক নারীকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মাবিয়া ওই এলাকার দিনমজুর ভিকু মিয়ার স্ত্রী। খবর পেয়ে সন্ধ্যায় নিহত নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে রাজশাহী জিআরপি থানা পুলিশ।

ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন।

নিহত নারীর ভাই লিটন আলী ও ছেলে নয়ন আলী জানান, ছেলের নানি শাশুড়ি জরিনা বেগমের সঙ্গে মাবিয়ার দ্বন্দ্ব ছিল। মাদক ব্যবসা করতে নিষেধ করার কারণে এ দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। কয়েকদিন আগে জরিনার বাড়ি থেকে হেরোইন উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর থেকে জরিনা মনে করেন, মাবিয়া তার এই মাদক ধরিয়ে দিয়েছেন।

শুক্রবার বিকেলে বাড়ির সামনে তাদের মধ্যে এ নিয়ে ঝগড়া শুরু হয়। এ সময় বাড়ির সামনের রেললাইন দিয়ে রাজশাহী থেকে একটি কমিউটার ট্রেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। ট্রেনটি কাছাকাছি এলে জরিনা ও তার মেয়ে নাজমা মাবিয়াকে রেললাইনে চলন্ত ট্টেনের দিকে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, পাশাপাশি বাড়ি হওয়ায় মাবিয়া ও জরিনার মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। বাড়িতে পুলিশ হানা দিলেই জরিনা দুষতেন মাবিয়াকে। জরিনা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার স্বামীর নাম সম্রাট আলী। তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

রাজশাহীর রাজপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) চয়েন উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। এ সময় নিহত মাবিয়ার পড়ে থাকা মরদেহ ঘিরে জরিনাকে গ্রেফতারের দাবিতে তারা বিক্ষোভ করছিলেন। পরে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়।

এ সময় রাজশাহী জিআরপি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

রাজশাহীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, ট্রেনে কাটা পড়ে এক নারী মারা গেছেন বলে তিনি শুনেছেন। সেখানে পুলিশও পাঠানো হয়েছে। তাকে ট্রেনের নিচে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ঘটনাস্থল রেললাইনে হওয়ায় এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে রেলওয়ে থানা পুলিশই প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।

রাজশাহী জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর হোসেন বলেন, তারা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করেছেন। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা করা হবে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দিলে তাও নেওয়া হবে। পরে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান জিআরপি থানার এই কর্মকর্তা।

খবরঃ বাংলানিউজ