রাজশাহীতে ঢাকে পড়েছে কাঠি, মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে দেবী দর্শন আরাধনা

রাজশাহী

দশভুজা দেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।

মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে এ উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) মহাসপ্তমী। ৩০ সেপ্টেম্বর দেবীর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব।

শারদীয় দুর্গোৎসবের আজ মহাসপ্তমী। বিশুদ্ধ পঞ্জিকা মতে বুধবার সকাল ৮টা ৫৮ মিনিটে ছিল দুর্গাদেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন ও সপ্তাদি কল্পারম্ভ এবং সপ্তমী বিহিত পূজা প্রশস্ত।

বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মহাষ্টমী। এদিনে দেবী-দর্শন, দেবীর পায়ে ভক্তরা অঞ্জলি দেবে ও প্রসাদ গ্রহণ করবে।রাজশাহী হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট্রের ট্রাস্টি অনিল কুমার সরকার জানান, মূলত দুর্গোৎসবের মূলপর্ব শুরু হচ্ছে আজ। মহাসপ্তমীর সকালে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদান করা হয়। এছাড়া আজ ষোড়শ উপাচারে অর্থাৎ ষোলটি উপাদানে দেবী দ‍ুর্গার পূজা হবে। দেবীকে আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, স্নানীয়, পুষ্পমাল্য, চন্দন, ধূপ ও দীপ দিয়ে পূজা করবেন ভক্তরা। সপ্তমী পূজা উপলক্ষে বুধবার সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভক্তিমূলক সঙ্গীত, রামায়ণ পালা, আরতিসহ নানা অনুষ্ঠান হবে।

মঙ্গলবার দেবীর বোধনের মধ্যদিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এ প্রাণের উৎসবের সূচনা হয়েছে। আজ মহানগরীর মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে হিন্দু ধর্মানুরাগীদের ভজন, পূজন ও দেবী আরাধনা।

জানতে চাইলে অনিল কুমার সরকার বলেন, পঞ্জিকামতে জগতের মঙ্গল কামনায় এবার দেবীদুর্গা কৈলাশ থেকে মর্তে এসেছেন নৌকায় চড়ে, এর ফলস্বরূপ মর্ত্যলোক শস্যে পরিপূর্ণ হবে।

অন্যদিকে বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে তিনি ফিরে যাবেন ঘোটকে (ঘোড়ায়) চড়ে। যার ফল হচ্ছে রোগ, ব্যাধি বাড়বে ও ফসল নষ্ট হবে। অর্থাৎ পৃথিবীতে রোগশোক, মহামারীর আশঙ্কা বাড়বে।

মূলত মহাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী এবং মহানবমীতেই পূজার মূল আকর্ষণ। কারণ এই তিনদিনই ভক্তগণ মায়ের পায়ে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করে থাকেন। বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবীর বিদায়। এ সময় ভক্তকূলে হৃদয়ে বিদায়ের বিরহ ভর করে বলেও জানান হিন্দু ধর্মীয় এ নেতা।

এদিকে, হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধানতম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। দুর্গাপূজাকে ঘিরে রাজশাহীতে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ। আনন্দময়ী দেবী দুর্গার আগমনী গানে মুখরিত এখন চারদিক। মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে দেবী দর্শন ছাড়াও ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে অতিথি আপ্যায়ন। বাহারী পোশাকে আর অঙ্গসজ্জায় নিজেদের সাজিয়ে-রাঙিয়ে উৎসব-আনন্দে মেতে উঠেছে শিশু-কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী।

রাজশাহী মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিমল কুমার সরকার জানান, এবার রাজশাহীতে ৪শ’ ২২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে জেলায় রয়েছে ৩শ’ ৫২টি এবং মহানগরীর চার থানা এলাকায় রয়েছে ৭০টি। এবারও প্রতিটি মণ্ডপের জন্য ৫শ’ কেজি করে চাল বরাদ্দ রয়েছে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার (সদর) ইফতে খায়ের আলম জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যেনো শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন সেজন্য সতর্ক রয়েছেন তারা।

খবরঃ বাংলানিউজ