রাজশাহীতে তাপদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

রাজশাহী

রাজশাহীতে তাপমাত্রার পারদ যেন আর কোনোভাবেই কমছে না। কেবলই উপরের দিকে উঠছে! আর পদ্মাপাড় থেকে বয়ে আসছে ‘লু’ হাওয়া। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যেন আগুন ঝরছে। এজন্য মৌসুমি বায়ু ঢুকলেও তা সক্রিয় হতে পারছে না। তাই প্রশান্তির বৃষ্টির জন্য চারিদিকে হাহাকার পড়ে গেছে।

রাজশাহী অঞ্চলের ওপর দিয়ে গত কয়েক দিন থেকে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বুধবার (০৬ জুন) বেলা ৩টায় রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিলো ৩৭ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার (০৭ জুন) রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তার আগের দিন মঙ্গলবারও (০৫ জুন) ছিল ৩৭ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাই রাত-দিন পাল্টালেও তাপমাত্রা কমছে না বরং বাড়ছে। আর গরেমর এ খতিয়ানেই কাহিল হয়ে পড়েছেন পদ্মাপাড়ের মানুষ। বিশেষ করে রোজাদাররা যারপরনাই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। উষ্ণ আবহাওয়ার স্বাভাবিক জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠেছে। সকাল থেকে দুপুর গড়াতেই বাতাসের আদ্রতা কমে আসছে। এতে শ্রমজীবী মানুষতো বটেই গাছের ছায়ায় বসে থাকা মানুষের শরীর দিয়েও দরদর করে ঘাম ঝরছে। আর ওপর গরম বাতাস শরীরে বিধছে আগুনের হলকার মত।

মানুষের পাশাপাশি পশু-পাখিরাও হাঁসফাঁস করছে। ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তি নেই। প্রখর রোদে মাটি ফেটে চৌঁচির হয়ে যাচ্ছে। একটু শীতল প্রশান্তির জন্য শিশু-কিশোররা পুকুর, নদী-নালার পানিতে নেমে দাপাদাপি করছে। পথচারীরা কলের পানিতে মুখ ভিজিয়ে আগ্নিকুণ্ড থেকে বাঁচার চেষ্টা করছে। সেখানেও স্বস্তি নেই! কল দিয়েও গরম পানিই বের হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ছুটির আগের দিন দুপুর ১২টা গড়াতেই রাস্তা-ঘাট জনশূন্য হয়ে পড়ে। কিন্তু আগুনমুখো আবহাওয়ায় স্বস্তি মিলছে না ঘরেও। ভোগান্তিতে থাকা মানুষ প্রশান্তির বৃষ্টির জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করছেন।

তবে রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক আবদুস সালাম বলেন, দু’একদিনের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তাই তাপপ্রবাহ আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে রাজশাহীর ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তা মাঝারিতে রূপ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন এ আবহাওয়া কর্মকর্তা।

জানতে চাইলে আবদুস সালাম বলেন, সকাল থেকে দুপুর গড়াতেই রোদের তাপ বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাতাসের আদ্রতাও কমে আসছে। ফলে অত্যাধিক গরম অনুভূত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। কিন্তু দুপুর ৩টা গড়াতেই বাতাসের আদ্রতা কমে দাঁড়িয়েছে ৫২ শতাংশে। ফলে অসম্ভব খরতাপে কষ্ট পাচ্ছেন রাজশাহীর সাধারণ মানুষ।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. খলিলুর রহমান জানান, গত কয়েক দিন থেকে হঠাৎ করে আবারও তাপমাত্রা বাড়ায় ঘরে ঘরে ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছেই। এসব রোগে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। পাশাপাশি এ তীব্র গরমে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ও হৃদরোগে আক্রান্তদের দুর্ভোগ বেড়েছে।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ বাংলানিউজ২৪