রাজশাহীতে তাপমাত্রা বাড়লেও কমেনি শীতের দাপট

রাজশাহী

রাজশাহীতে তাপমাত্রা বাড়লেও বৃষ্টির কারণে শীতের অনুভূতি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) ভোর ৫টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয় রাজশাহীতে। এ সময় মহানগরীতে ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

সকাল ৯টার দিকে বৃষ্টি থামলেও বেলা ১১টা পর্যন্ত মেঘাচ্ছন্ন ছিল রাজশাহীর আবহাওয়া। দুপুর ১২টার দিকে কিছুক্ষণের জন্য মেঘলা আকাশ রৌদ্রোজ্জ্বল হয়ে ওঠে। খানিক বাদে আবারও শুরু হয় মেঘ আর রোদের লুকোচুরি। বর্তমানে বৃষ্টি না থাকলেও হুহু করে বইছে ঠাণ্ডা বাতাস। ফলে আজ তাপমাত্রা বাড়লেও তার সুফলভোগী হতে পারেনি রাজশাহীবাসী। শীতের তীব্রতা এতোটুকুও কমেনি পদ্মাপাড়ের এ শহরে।

এদিকে ভোরের দিকে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির কারণে মহানগরীর অনেক নিচু এলাকা কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি ও হিমেল বাতাসের ফলে সকালে সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে স্কুলগামী শিশু ও কর্মজীবী মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানায়, বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৬টায় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯০ শতাংশ। বিকেলে তা কমে দাঁড়ায় ২৫ শতাংশে।

ঢাকা আবহাওয়া অধিদফতরের বরাত দিয়ে রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন জানান, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এছাড়া মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান নিয়েছে। এজন্য রাজশাহী, ঢাকা, সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টি অথবা গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত রাজশাহীসহ অন্যান্য স্থানে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। এছাড়া আজকের দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

এদিকে দিনভর সূর্যের আলো কম থাকায় ঠাণ্ডা বাতাসের দাপট বেড়েছে দ্বিগুণ। এতে ছিন্নমূল মানুষ আরও বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। শৈত্যপ্রবাহের ধকল কোনোভাবেই কাটিয়ে উঠতে পারছেন না তারা। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে ঠাণ্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে তাদের অনেকেই রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভিড় করছেন।

হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম ফেরদৌস জানান, রাজশাহীর ওপর দিয়ে প্রায় দেড় মাস ধরে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে বেড়েছে নবজাতকের সংখ্যাও। তীব্র শীতের ফলে বেশিরভাগ নবজাতকই নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোরে শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ, কোল্ড ডায়রিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসছেন।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ বাংলানিউজ