রাজশাহীতে ত্রাণের দিকে তাকিয়ে বানভাসিরা

বাগমারা মোহনপুর রাজশাহী

রাজশাহীর মোহনপুর ও বাগমারা উপজেলার বন্যাদুর্গত এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণের অভাব দেখা দিয়েছে। খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধ সঙ্কটে পড়েছেন বানভাসিরা। সরকারি-বেসরকারি কিছু সংস্থা এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেকে ত্রাণ বিতরণ করলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন বন্যার্ত এলাকার মানুষেরা। বিশেষ করে বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দিয়েছে অনেক স্থানে।

সরকারি হিসেবে, মোহনপুর ও বাগমারা উপজেলায় এখন পর্যন্ত ২১ হাজার ৬১১টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এই দুই উপজেলায় বানভাসি মানুষের সংখ্যা এক লাখ ৪২ হাজার ৬৮৫ জন। তবে এ সংখ্যা আরও বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত ত্রাণের অভাবে বানভাসি এসব মানুষ দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় দেড় লাখ বন্যা দুর্গত মানুষের জন্য গতকাল সোমবার মাত্র পাঁচ লাখ টাকা সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তবে এ অর্থ এখনও বিতরণ শুর্ব হয়নি। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ৰতিগ্রস্তদের তালিকা করে এই টাকা বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশিৱষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।
তবে এরই মধ্যে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ৭০ মেট্‌্িরক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আমিনুল হক। তিনি জানান, বন্যা কবলিত এলাকার উপজেলা প্রশাসনের পৰ থেকে চালগুলো বিতরণ করা হয়েছে। তবে চাল ছাড়া আর কিছুই বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। সরকারি বরাদ্দ যা পাওয়া যাবে তা বিতরণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, বাগমারার এমপি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক ও পবা-মোহনপুরের এমপি আয়েন উদ্দিনসহ আরও অনেকে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বেশ কিছু ত্রাণ সামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ করেছেন। তবে বহু বন্যার্ত মানুষের ঘরে এখনও কোনো ত্রাণ পৌঁছেনি।

বাগমারার গোবিন্দপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বিজন কুমার সরকার বলেন, সরকারি যে পরিমাণ চাল পাওয়া যাচ্ছে, তা কিছুই নয়। এগুলো দিয়ে চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। চালের পাশাপাশি অন্য ত্রাণসামগ্রী পাঠানো জর্বরি।
এ উপজেলার নরদাশ ইউপির চেয়ারম্যান মতিউর রহমান বলেন, বেশির ভাগ জায়গায় রান্না করার পরিস্থিতি নেই। সেখানে চাল বিতরণ করে লাভ হবে না। দরকার নগদ টাকা। তা দিয়ে বন্যার্তরা অন্য জায়গায় আশ্রয় নিতে পারবেন। পানি নেমে যাওয়ার পর ঘরবাড়ি করতে পারবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত বন্যার্তরা সরকারি কোনো অর্থ সহায়তা পাননি।

খবরঃ দৈনিক সোনালী সংবাদ