রাজশাহীতে দূরপাল্লার বাস বন্ধ, চলছে অভ্যন্তরীণ রুটে

রাজশাহী

রাজশাহী থেকে সড়কপথে রাজধানী ঢাকাসহ গোটা দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকেলে রাজশাহী-ঢাকা, সিলেট, বরিশাল ও চট্টগ্রামসহ দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

যদিও করোনা আতঙ্কে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় থেকে যাত্রী সঙ্কট ছিল দূরপাল্লার বাসগুলোতে। অনেক ক্ষেত্রে রাজশাহী থেকে ঢাকা অভিমুখে যাত্রী নিয়ে বাসগুলো গেলেও সেখান থেকে যাত্রী সঙ্কটের কারণে প্রায় ফাঁকাই ফিরতে হয়েছে। অবস্থা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছিল যে বাসের জ্বালানির খরচই উঠছিল না।

ফলে মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন ও বাস মালিক সমিতির এক সিদ্ধান্তে রাজশাহী থেকে দূর পাল্লার বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত দেশের উত্তরে থাকা রাজশাহী বিভাগের আট জেলা এবং আন্তঃজেলা রুটে বাস চলছে। যদিও করোনা আতঙ্কে সেখানেও যাত্রী সঙ্কট রয়েছে।

রাজশাহী-ঢাকা রুটে চলাচলকারী হানিফ এন্টারপ্রাইজের সুপার ভাইজার ইন্তাজুল ইসলাম বলেন, দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর মূলত এই যাত্রী সঙ্কট দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষ হঠাৎ করেই বাইরে চলাচল কমিয়ে দিয়েছেন। এতে কোনো কেনো দিন রাজশাহী থেকে ঢাকা অভিমুখে যাত্রী নিয়ে বাসগুলো গেলেও ফেরার পথে যাত্রী মিলছিল না। বাসচালক ও হেলপারসহ অন্যান্য স্টাফদের খরচ দূরে কথা এক সপ্তাহে এমন পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছিল যে বাসের জ্বালানির খরচই উঠছিল না। বিভিন্ন রুটের বাসগুলোরও প্রায় একই অবস্থা। তাই বাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, শুক্রবার ছিল ছুটির দিন। তবে অন্য সময় শুক্রবারও রাজশাহী মহানগরীর নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল ও ভদ্রা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীসমাগম লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু শুক্রবার (২০ মার্চ) ছিল অনেকটাই ব্যতিক্রম। আন্তঃজেলা রুটে বাস চলাচল করলেও শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ রুটগুলোর যাত্রী ছিলো না বললেই চলে।

রাজশাহী মহানগরীর নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল, ভদ্রা বাসস্ট্যান্ড, রেলগেইট বাসস্টপেজ, গোরহাঙ্গা বাস স্টোপেজগুলোয় গিয়ে দেখা যায় যাত্রীর সংখ্যা খুবই কম। আর দূর পাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকায় শিরোইলে থাকা ঢাকা বাস টার্মিনাল ছিল একেবারেই ফাঁকা। সাধারণত বাস চলাচল বন্ধ থাকলে পথে পথে যেই যাত্রীদুর্ভোগ চোখে পড়ে।

কিন্তু শনিবারের দৃশ্যপট ছিল ভিন্ন। খুব প্রয়োজনে এখন যারা রাজশাহী থেকে ঢাকা যাতায়াত করছেন তারা রেলপথকেই বেছে নিয়েছেন। এ জন্য রেলওয়ে স্টেশনে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কারণ রেলপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও স্বাভাবিক রয়েছে।

দুপুরে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে আসা সাজ্জাদুর রহমান নামের এক যাত্রী বলেন, রাজশাহী-ঢাকা রুটের বাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ। এই অবস্থায় রেলপথই একমাত্র ভরসা। তাই তিনি জরুরি কাজে ঢাকা যাওয়ার জন্য অনেক কষ্টে পদ্মা আন্তঃনগর ট্রেনের একটি টিকিট সংগ্রহ করতে পেরেছেন। বাস বন্ধ থাকায় জরুরি কাজে চলাচলকারি মানুষ রেলপথ ব্যবহার করছেন। এতে ট্রেনের টিকিট মিলছে না। তাই বাস টার্মিনালে ভিড় না থাকলেও তার মতো অনেকেই স্টেশনে ভিড় করছেন বলে জানান তিনি।

জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম জানান, রাজশাহীকে করোনা ভাইরাস মুক্ত রাখতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে বাস বন্ধ রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার অনুরোধ করা হয়। তাছাড়া এমনিতেও যাত্রী সঙ্কট চলছিল। তাই রাজধানী ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন রুটের দূরপাল্লার বাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হয়েছে। তবে রাজশাহী জেলাগুলোর সঙ্গে সীমিত সংখ্যায় বাস চলাচল করছে।

রাজশাহী বাস মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মতিউল হক টিটো বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবে এরই মধ্যে মানুষের চলাচল কমে গেছে। এতে বাসের যাত্রী কম হচ্ছে। তেলের টাকাও উঠছে না। ভাইরাসের আতঙ্কে বাসের লোকজনও কাজ করতে চাচ্ছে না। যাত্রীদের মাধ্যমেও কারোনা ভাইরাস ছড়াতে পারে। এ দুটি বিষয় বিবেচনা করে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও রাজশাহীর আট জেলায় বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন-  প্রতিনিধিরা।

বগুড়া ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট জানান, বগুড়ায় অভ্যন্তরীণসহ সকল রুটে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। বাসস্ট্যান্ডগুলোতে রয়েছে মানুষের ভিড়।

বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম জানান, বগুড়াতে সব রুটে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে যান চলাচল বন্ধের বিষয়টা মাথায় রেখেছি। যদি সরকারিভাবে কোনো ঘোষণা আসে তখন বাস চলাচল বন্ধের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব।

সিরাজগঞ্জ ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট জানান, করোনা আতঙ্ক থাকলেও সিরাজগঞ্জ থেকে দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল এখনো স্বাভাবিক রয়েছে। তবে বাসস্ট্যান্ডগুলোতে যাত্রীসংখ্যা তূলনামূলক কম। মানুষের মধ্যে করোনা নিয়ে আতঙ্ক থাকায় অনেকে প্রয়োজন ছাড়া বাসে উঠছেন না। এতে যাত্রী সংখ্যা অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক কমে এসেছে। এর পর চলাচল অব্যাহত রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা বাস মিনিবাস ও কোচ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লিটন সরকার জানান, জেলার অভ্যন্তরীণ রুটে ও দূরপাল্লার বাস চলাচল এখনো বন্ধ করা হয়নি। বাস চলাচল বন্ধ করা হবে কিনা তা নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ বলেন, বাস বন্ধের ব্যাপারে এখনো সরকারি কোনো নির্দেশনা আসেনি। এ কারণে জেলায় বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। নির্দেশনা পেলেই দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ বাংলানিউজ