রাজশাহীতে ধানের দামে খুশি চাষিরা

পবা রাজশাহী

রাজশাহীতে পুরোদমে বোরো ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষকরা কিছুটা হলেও বিপাকে পড়েছেন। তবে কাংখিত ধানের দামে চাষিরা মহাখুশি। প্রেক্ষিতে চাষিরা ধানের কাজেই ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোন হয়রানি ছাড়াই খোলা বাজারে প্রতি মণ (৪০ কেজি) ধান বিক্রি হচ্ছে এক হাজার টাকার ওপরে।

জানা গেছে, বর্তমানে জেলা জুড়ে বোরো ধান কাটা মাড়াই শুরু হলেও শ্রমিক সংকট লেগেই আছে। ফলে চাষীরা তাদের কষ্টার্জিত ফসল ঘরে তুলতে চরম হয়রানিতে ভুগছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই সোনালী ধান ক্ষেত থেকে ঠিকই উঠছে খলানে। সেই ধান অনেকে তুলেছেন গোলাই। আবার বাজারে বিক্রিও করছেন অনেকে।

এবারে ধান চাষিরা একটা নতুন আনন্দ উপভোগ করছেন। অন্যান্য বছরে বোরো ধান উঠার সাথে সাথে বাজারে ধানের দাম অনেকটা পড়ে যেত। কিন্তু এবারে তার ব্যতিক্রম হচ্ছে। নতুন ধান বাজারে আসলেও ধানের দাম পড়েনি। তাাই চাষিরা মনের সুখে ধান কাটা-মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ করা হয়েছে। আগাম বোরো ধানে প্রচন্ড গরম আবহাওয়ায় কিছুটা নষ্ট হলেও শেষ পর্যন্ত চাষিরা বোরো আবাদের কাংখিত ফলন পেয়েছেন। তবে জেলার তানোর ও মোহনপুর উপজেলার শিবনদী তীরবর্তী আবাদে পানি উঠাই কিছুটা বিপাকে পড়েছিলেন চাষিরা। এসব ক্ষেতে ফলন একটু কম হলেও দামে পুষিয়ে যাচ্ছে বলে চাষিরা জানিয়েছেন।

ওই এলাকার ধানচাষি মিজান উদ্দিন বলেন, ক্ষেতে যখন পানি উঠছিল তখন দুঃচিন্তার সীমা ছিল না। তবে দু’তিন দিনের মধ্যেই পানি নেমে গেছে। ধান কাটতে বেশ কষ্ট হলেও এবং শ্রমিক খরচ বেশী বেশী লাগলেও ধানের কাংখিত দাম পেয়ে সকল কষ্ট ভুলে গেছি।

মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি গ্রামের শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম ও বাগমারা উপজেলার কাবাড়িপাড়া গ্রামের শিক্ষক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম জানান, এবারে বোরো ধানে চাষিরা কাংখিত লাভবান হচ্ছেন। প্রান্তিক কৃষকরা অপরের জমি লীজ নিয়েও প্রতি বিঘায় (প্রতি হেক্টরে প্রায় সাড়ে সাত বিঘা) ৫-৬ হাজার টাকা লাভ করবেন।

নুড়িয়াক্ষেত্র গ্রামের মোবারক আলী বলেন, এবারে লীজসহ প্রতি বিঘা বোরো আবাদে খরচ হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার টাকা। যার মধ্যে প্রতি বিঘা জমি লীজ ৫ হাজার টাকা, বীজ এক হাজার টাকা, শ্রমিক ধান লাগানো থেকে কাটা মাড়াই পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার টাকা, সার ও কীটনাশক ৩ হাজার টাকা, সেচ প্রায় ২ হাজার টাকা এবং চাষ এক হাজার টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে এবারে গড়ে ফলন হয়েছে প্রায় ২০ মণ (প্রতি মণ ৪০ কেজি)। যার বর্তমান বাজার মূল্য ২০ হাজার টাকা। আবার খড় শুকাতে পারলে লাভের অংক আরো বেড়ে যাবে। প্রান্তিক চাষিরা অপরের জমি লীজ নিয়ে প্রতি বিঘায় লাভ করবেন প্রায় ৬ হাজার টাকা।

চাল ব্যবসায়ী ও রাজশাহী চালকল মালিক সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জানান, আঠাস প্রতিমণ ধানের বাজার দর ১০২০ থেকে ১০৫০ টাকা। জিরাশাইল ১০৫০ থেকে ১১শ’ টাকা এবং খাটো-১০ এক হাজার দরে বিক্রি হচ্ছে।
পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম মনজুরে মাওলা জানান, মাঠে বোরো ধান ভাল হয়েছে। দাম ভাল পাওয়ায় কৃষকরা লাভবান হবেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দেব দুলাল ঢালী জানান, শেষ পর্যন্ত চাষিরা বোরো ধান তাদের ঘরে তুলেছেন। তবে আগাম লাগনো ক্ষেতে ঝড়ের কারণে ধান পড়ে গিয়েছিল। এরপরেও ধানের বাজার ভাল থাকায় চাষিরা লাভবান হবেন।

খবরঃ দৈনিক সানশাইন

1 thought on “রাজশাহীতে ধানের দামে খুশি চাষিরা

Comments are closed.