রাজশাহীতে নতুন বছরে বই পাবে ৬ লাখ শিক্ষার্থী

রাজশাহী

আসছে নতুন শিক্ষাবর্ষ। বছরের প্রথম দিন বই উৎসবে নতুন বই প্রাপ্তির আনন্দ বয়ে যায় দেশের প্রতিটি স্কুলে।

কয়েক বছর ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় চিরচেনা এই উচ্ছ্বাসের দেখা মেলে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তর মিলিয়ে রাজশাহীতে এবারও প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হবে।

তবে এবার মহামারি করোনা সব কিছু এলোমেলো করে দিয়েছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এবার ১ জানুয়ারি ঘটা করে বই উৎসব হচ্ছে না।

এছাড়া বই ছাপার কাজ বিলম্বিত হওয়ায় এবার মাধ্যমিকের সকল স্তরের (মাধ্যমিক, দাখিল, ইবতেদায়ি, এসএসসি ভোকেশনাল ও ইংরেজি ভার্সন) বই রাজশাহীতে এখনো পৌঁছায়নি। ফলে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা একযোগে বই পাবে না। তবে জেলা শিক্ষা অফিস বলছে, বছর শুরুর ১২ দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া হবে।

রাজশাহী জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার জেলায় ১ হাজার ৫৭টি প্রাথমিক স্কুলের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ হয়েছে মোট ১৩ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭৬ বই। যার মধ্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে এসে পৌঁছেছে ১৩ লাখ ৪ হাজার বই। শতাংশের হিসেবে যা ৯৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ। বাকি ৭ দশমিক ২ শতাংশ বই কেন্দ্র থেকে ট্রাকযোগে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে রাজশাহীতে মাধ্যমিকের সকল স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৪৪ লাখ ১৯ হাজার ২৯৮ বই। যার মধ্যে জেলা শিক্ষা অফিসে এসে পৌঁছেছে মাত্র ১১ লাখ ২১ হাজার ২৮৬ বই। শতাংশের হিসেবে ২৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। এখনো ৭৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ বই রাজশাহী জেলা শিক্ষা অফিসে পৌঁছায়নি।

বিভিন্ন স্তরের মধ্যে মাধ্যমিকের (৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণি) জন্য বরাদ্দকৃত ৩৪ লাখ ৩১ হাজার ১৯১ বইয়ের মধ্যে ঘাটতি আছে ২৭ লাখ ১০ হাজার বই। দাখিলের জন্য ৬ লাখ ১৪ হাজার ১২৬ বইয়ের মধ্যে ঘাটতি ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৪২৬ বই। ইবতেদায়ির জন্য ৩ লাখ ৫ হাজার ১৭৬ বইয়ের মধ্যে ঘাটতি ৮৮ হাজার ২৮৬ বই। ভোকেশনালের জন্য বরাদ্দকৃত ৫২ হাজার ৫৯০ বইয়ের মধ্যে একটি বইও এসে পৌঁছায়নি। ইংরেজি ভার্সন ১৬ হাজার ২১৫ বইয়ের মধ্যে ঘাটতি প্রায় ১২ হাজার।

জেলা শিক্ষা অফিস জানায়, করোনা মহামারির কারণে একই প্রেস থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বিভিন্ন স্তরের বই ছাপাতে দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রাথমিকের সব বই ছাপানো হয়ে গেছে এবং কেন্দ্র থেকে তা সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসগুলোতে পাঠানো হয়েছে। তবে একই প্রেসে মাধ্যমিকের সব স্তরের বই দেরিতে ছাপানোয় সময়মতো পাঠানো সম্ভব হয়নি।

এদিকে, করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধে তাই এবার বিকল্প পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে স্কুল থেকে বই নিতে হবে। এবার ক্লাস ও রোল অনুযায়ী নতুন বই প্যাকেটজাত করে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ভিন্ন ভিন্ন দিনে ক্লাস ও রোল অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নোটিশ বোর্ডে শিডিউল দেওয়া থাকবে। নির্ধারিত দিনে শিডিউলভুক্ত ক্লাসের শিক্ষার্থীরা বই সংগ্রহ করতে পারবে।

রাজশাহী জেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষসহ তারা প্রস্তুত আছেন। কেন্দ্র থেকে বই এসে পৌঁছালেই তারা স্কুলগুলোর মাধ্যমে সব শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিতে পারবেন। প্রাথমিকের সব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দের প্রায় সব বই এরই মধ্যে রাজশাহীতে এসে পৌঁছেছে।

জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা প্রথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালাম জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে এবার আগের মতো ঘটা করে বই উৎসব হবে না। প্রাথমিকের জন্য কেন্দ্র থেকে বরাদ্দের অধিকাংশ বই রাজশাহীতে চলে এসেছে। যে ৭ শতাংশ বাকি আছে তাও ট্রাকযোগে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী জেলা শিক্ষা অফিসার নাসির উদ্দীন বলেন, মাধ্যমিকের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত বই পর্যায়ক্রমে আসছে। আশা করছি বছর শুরুর ১২ দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের কাছে বই পৌঁছে দিতে পারবো।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ বাংলানিউজ