রাজশাহীতে নির্মিত হতে যাচ্ছে শহীদ কামারুজ্জামানের সমাধিসৌধ

রাজশাহী

জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের সমাধিসৌধ নির্মাণ হচ্ছে রাজশাহীতে। শহীদের পিতৃভূমি নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকায় ৭ বিঘা জমির উপর এই সৌধ গড়বে রাজশাহী সিটি করপোরেশন। আগামী এক বছরের মধ্যেই প্রকল্পটির কাজ শুরু করবে নগর সংস্থা।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ ও মোহাম্মদ মনসুরের সঙ্গে নৃশংসভাবে নিহত হন রাজশাহীর কৃতি সন্তান এএইচএম কামারুজ্জামান। পরে পৈত্রিক নিবাস কাদিরগঞ্জে তার মরদেহ সমাহিত করা হয়।

বাংলাদেশের ইতিহাসে উজ্জল নক্ষত্রসম জাতীয় এই চার নেতা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই চার নেতা বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং স্বাধীনতা পরবর্তী দেশ গঠনে অংশ নেন।

রাসিক বলছে, শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের সমাধি ঘিরে সাতবিঘা জায়গায় গড়ে তোলা হবে সমাধিসৌধ। আর এজন্য নতুন করে ৫ বিঘা জমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন হবে। পুরো প্রকল্পে ব্যয় হবে ৭৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪২ কোটি টাকা ব্যয় হবে ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণে। বাকি ৩৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে অবকাঠামো নির্মাণে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সমাধিসৌধে প্রবেশপথ সংযুক্তি থাকবে সরাসরি নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকায় গ্রেটাররোডের সঙ্গে। প্রশস্থ প্রবেশ প্লাজা পেরুলেই পড়বে প্রথম গেটঘর। এর পশ্চিম পাশে থাকবে ভিআইপি পার্কিং। গেটঘর থেকে পায়ে হাঁটাপথ। সোজা গিয়ে পৌঁছাবে সমাধিক্ষেত্রে। এর মাঝেই পড়বে পুকুর। পুকুরের উপর দিয়ে পারাপারে থাকবে আধুনিক সেতু।

সমাধিক্ষেত্র ঘিরে থাকবে লাইব্রেরি, ক্যাফে এবং গবেষণা উইং। থাকবে মাল্টিমিডিয়া সম্বলিত থিয়েটার। যেখানে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জীবন্ত হয়ে উঠবে দর্শনার্থীদের সামনে। এসবের মাঝখানে থাকবে সুপরিসর সংগ্রহ আঙিনা। সেখান থেকে আরেকটি পায়ে হাঁটাপথ গিয়ে মিশবে প্রস্থানপথে। সমাধিসৌধের দ্বিতীয় গেটঘর পেরুলেই নগরীর কাদিরগঞ্জ সড়কে পৌঁছাবেন দর্শনার্থীরা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক। তিনি জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশনের এই প্রকল্পটির অনুমোদন মেলেনি এখনো। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে রাসিক। সরকারি অর্থায়নেই এটির বাস্তবায়ন হবে। দ্রুতই প্রকল্পটির অনুমোদন মিলবে বলে জানিয়েছেন প্রধান প্রকৌশলী।

প্রসঙ্গত, শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের বাবার নাম আবদুল হামিদ ও মায়ের নাম বেগম জেবুন্নিসা। ১২ ভাই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন প্রথম। তার ডাকনাম ছিল হেনা। ১৯২৬ সালের ২৬ জুন তিনি নাটোর মহকুমার বাগাতীপাড়া থানার মালঞ্চী রেলস্টেশন সংলগ্ন নূরপুর গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এএইচএম কামারুজ্জামানের। তিনি ১৯৬২ ও ১৯৬৬ সালে পরপর দু’বার পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬৭ সালে নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বিরোধীদলীয় উপনেতা নির্বাচিত হন তিনি।

আইয়ুব সরকারের নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১-দফায় সমর্থন জানিয়ে ১৯৬৯ সালে কামারুজ্জামান পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পুনরায় তিনি জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয়। সেই মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রীর দায়িত্বভার নেন কামারুজ্জামান। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

১৯৭৩ সালের সাধারণ নির্বাচনে রাজশাহী সদর এবং গোদাগাড়ি ও তানোর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন কামারুজ্জামান। ১৯৭৪ সালের ১৮ জানুয়ারি তিনি মন্ত্রিপরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে নতুন মন্ত্রিসভায় কামারুজ্জামান শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের ছেলে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন দ্বিতীয় বারের মতো রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নেতৃত্ব এবং সময়োপযোগী পরিকল্পনায় আগাগোড়া বদলে গেছে রাজশাহী। পরিবেশসম্মত বিশ্বসেরা নগরীর খেতাবও মিলেছে রাজশাহীর।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ জাগোনিউজ২৪