রাজশাহীতে নিয়ম অমান্য করে বাড়ি নির্মাণের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

রাজশাহী

রাজশাহী মহানগরীতে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আরডিএ’র নিয়ম অমান্য করে আদালতে বিচারাধীন জমির উপরে বাড়ি নির্মানের অভিযোগ উঠেছে। রোববার বিকেল ৪টার দিকে নগরীর একটি বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী গুলশান আরা মমতা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে গুলশান আরা মমতা জানান, রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন কাদিরগঞ্জ উচুভিটা এলাকার মৃত মিজানুল হকের পৈত্রিক সম্পত্তি ২২ কাঠা ছিল। আর এই ২২ কাঠা জমির মালিক ওয়ারিশন সূত্রে তার ছয় ভাই বোন। কিন্তু জমি ভাগ বাটোয়ারার আগেই মিজানুল হক মৃত্যুবরণ করেন।
এরপর মৃত মিজানুল হকের ছেলে-মেয়েরা পৈত্রিক সম্পত্তির অংশীদারিত্ব বুঝে পাওয়ার জন্য গত ২৫/১১/১৩ তে রাজশাহীর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন। মামলায় নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই মামলার বাদী এহসানুল হক, মুশাব্বিরুল হক, তানজিলা ও নাজমার ফুফু ফেরদৈসি আবু শামিম নামের এক ব্যক্তির কাছে ৩ কাঠা জমি বিক্রি করে দেন। জজ আদালতের মামলা নং ২৪৭/১৩। আবু শামিম ওই তিন কাঠা জমিতে বাড়ি নির্মান শুরু করেন। বিষয়টি জানার পরে এহসানুল হক বাদী হয়ে ০৪ আগস্ট ২০১৫ইং তারিখে অভিযোগ প্রদান করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর আরডিএ গত ২৬ আগষ্ট ১৫ কাজ বন্ধ করে দেয়ার জন্য নোটিশ পাঠায় এবং ৬ তারিখে আরডিএতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ওই শুনানিতে আবু শামিম আরডিএ’র অনুমোদন দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং পুকুর ভরাট করা মামলা চলাকালীন জমিতে বাড়ি নির্মান করায় তাকে পূনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাড়ি নির্মান না করতে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়। এছাড়াও উক্ত জমিতে যাতে আবু শামীম বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বাড়ি করতে না পারেন সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নগরীর বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর একটি নির্দেশনা পাঠায় আরডিএ। এরপর মমতার স্বামী গত ১০ আগস্ট ২০১৫ইং তারিখে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে রাজশাহীর সদর সিনিয়র সহকারী আদালতে এবং গত ১৮ আগস্ট ২০১৫ইং তারিখে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি আইনে ১৪৫ধারা চেয়ে আবু শামিমের উপর মামলা করেন। এছাড়া গত ১০ অক্টোবর বোয়ালিয়া ভূমি অফিসে খারিজ বাতিলের জন্য একটি মামলা করেন যার শুনানী আগামী ২ ফ্রেবুয়ারী’১৬ইং অনুষ্ঠিত হবে।
মামলার পর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশকে মামলা চলাকালীন যাতে সেখানে আইনশৃঙ্খলার অবনতি না হয় তার নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেন। তারপর বোয়ালিয়া থানা থেকে গত ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ইং তারিখে নোটিশের মাধ্যমে কাজ বন্ধ রাখার এবং আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য উভয় পক্ষকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বলা হয়। পরে সিনিয়র সহকারী জজ আদালত তাদের চাওয়া অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ নভেম্বর’১৫ইং পবরবর্তী শুনানির তারিখ পর্যন্ত ওই জমিতে স্থিতি বজায় রাখার নির্দেশ দেন। এতকিছুর পরেও আবু শামিম জায়গায় আরডিএ এবং আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বাড়ি নির্মাণ করছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরো অভিযোগ করেন আবু শামিম প্রভাবশালী এবং মাস্তান ভাড়া করে তাদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে জোর করে বাড়ি নির্মান অব্যাহত রেখেছেন। প্রতিপক্ষের এমন আচরণে ভীত হয়ে মমতা গত ১৯ নভেম্বর বোয়ালিয়া থানায় একটি জিডি করেন।
তিনি আরো বলেন, যাতে তাকে হুমকি-ধামকি না দেয়া হয় সুস্থ্য ও নিরাপদভাবে পরিবারসহ বাঁচতে পারেন সেজন্য তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে আবু শামিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ওই জায়গা টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছি। আমার জমিতে আমি বাড়ি বানাতেই পারি। তবে আরডিএ কাজ বন্ধ করার জন্য নোটিশ পাঠানোর পরে আর বাড়ি নির্মানের কাজ করা হয়নি। আর ওই জমির বৈধ কাগজপত্র তার কাছে আছে বলেও দাবী করেন শামিম।