রাজশাহীতে নেই বিদেশফেরতদের সঠিক তথ্য

রাজশাহী

করোনা ভাইরাস বিশ্বজুড়ে এখন এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম। তবে অনেক খারাপ খবরের মধ্যে একটি ভালো খবর হচ্ছে, রাজশাহীতে এখনো কোনো করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে এই নিয়ে নিশ্চিন্ত হওয়ারও সুযোগ নেই। কারণ বিদেশফেরতদের কোনো সঠিক তথ্য বা সংখ্যা নেই রাজশাহীর স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে! ফলে এরই মধ্যে তারা শহর থেকে গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছেন।

আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা হোম কোয়ারেন্টিনে থাকছেন না। ফলে এই মুহূর্তে রাজশাহীকে ‘লকডাউন’ না করা হলে জেলা ও বিভাগে করোনা পরিস্থিতি নাগালোর বাইরে চলে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে কানাডাফেরত রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মোকবুল হোসেন হোম কোয়ারেন্টিনে না গিয়ে ভিআইপিদের সঙ্গে সভা-সমাবেশে উপস্থিত থাকার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

তবে কানাডা থেকে দেশে ফিরে আসা রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান মোকবুল হোসেনকে আজ রোববার (২২ মার্চ) থেকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বাধ্য করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক। তিনি গত ১১ মার্চ কানাডা থেকে দেশে ফিরেছেন।

এদিকে করোনা সন্দেহে রাজশাহীতে ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টিনে গেছেন নতুন ৭৬ জন। এই নিয়ে মোট কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়ালো ১৪৮ জনে। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১০ জন। ফলে এখন কোয়ারেন্টিনে আছেন ১৩৮ জন।

তবে বর্তমানে বিদেশফেরত ব্যক্তিদের নিয়ে চরম আতঙ্কে আছেন বলে জানিয়েছেন খোদ রাজশাহীর স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

তাদের দাবি, যেহেতু এখন পর্যন্ত বিদেশ ফেরতদের চিহ্নিত করা যায়নি এবং সবাইকে হোম কোয়ারেন্টিনে আনা যায়নি, সেক্ষেত্রে দ্রুত সময়ের মধ্যে রাজশাহীকে ‘লকডাউন’ করা উচিত। তা না করলে হঠাৎ পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্র নাথ আচার্য্য বলেন, তাদের কাছে পর্যাপ্ত কর্মী নেই। এ কারণে বিদেশফেরত ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করা সম্ভব হয়ে উঠছে না। তবে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে শুরু করে রাজশাহী সিটি করপোরেশন যদি একটি তালিকা তৈরি করে দিতো, সেটি ধরেও হোম কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করা যেতো। কিন্তু সেই কাজটি রাজশাহীতে হয়নি। ফলে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে রাজশাহী। এজন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে রাজশাহীকে লক ডাউনের বিকল্প নেই।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, গত ১৫ দিনে রাজশাহী শহরে বিদেশ থেকে এসেছেন এমন প্রবাসীর সংখ্যা ৮০৯ জন। এই ব্যক্তিরা মহানগরীর ১২টি থানা এলাকায় রয়েছেন। আর পুরো জেলায় এখন অবস্থান করছেন আরও ১ হাজার ৩০৮ জন।

কিন্তু  রোববার রাজশাহী মহানগরী ও জেলা মিলে মোট হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন মাত্র ৭৬ জন। এ নিয়ে মোট কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১৪৮ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১০ জন। ফলে এখন কোয়ারেন্টিনে রয়েছে ১৩৮ জন।

এছাড়া পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে গত বুধবার বিদেশফেরত ব্যক্তিদের একটি তালিকা রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে পাঠানো হয়েছে। জেলার এক হাজার ৩১৩ জনের মধ্যে গোদাগাড়ীতে রয়েছেন প্রায় ৩০০ জন। আর বাগমারায় রয়েছে ১৯৫ জন। তবে রাজশাহী মহানগরীর ৮০৯ জনের মধ্যে বোয়ালিয়া থানায় এলাকাতেই রয়েছেন ৪০৮ জন। এর মধ্যে ২৭ জনের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা নেই।

বিদেশফেরত এই ৮০৯ জনের তালিকা পাওয়ার কথা স্বীকার করে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (সদর) গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, এক অনুসন্ধানে তারা প্রায় ৭৮০ জনের খোঁজ পেয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকেরই ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। আর যাদের শেষ হয়নি, তাদের বাড়িতেই থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরা যেন বাইরে বেরোতে না পারেন, সেজন্য পুলিশোর পক্ষ থেকে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।

অন্যদিকে রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদ হাসান বলেন, হেড কোয়ার্টার থেকে পাওয়া এক হাজার ৩০৮ জনের তালিকার ব্যক্তিদের সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ওই তালিকার নাম-ঠিকানা সঙ্গে বাস্তবে অনেকগুলোর মিল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে তাদের খুঁজতে যেয়েও অনেক বেগ পেতে হচ্ছে। এরপর তারা তাদের অনুসন্ধানের কাজ অব্যাহত রেখেছেন বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

জানতে চাইলে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম ফেরদৌস বলেন, তাদের কাছে ৭০টি পিপিসি সামগ্রী ছিল। আরও কিছু পিপিসি সামগ্রী নিয়ে আসা হচ্ছে। তবে সর্দি-জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত রোগীর এখনও স্বাভাবিক রয়েছে। আর সব ধরনের প্রস্তুতি থাকলেও এখন পর্যন্ত তারা কোনো করোনা আক্রান্ত রোগী পাননি।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ বাংলানিউজ