রাজশাহীতে পদ্মার তীরে ধসে পড়েছে পিচঢালা সড়ক, এলাকায় আতঙ্ক

রাজশাহী

পদ্মা নদীর তীরবর্তী সড়কে হঠাৎ ধস নেমেছে। রাজশাহী মহানগরীর শেখেরচক বিহারীবাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। ওই এলাকার ২০০ মিটার সড়ক মূল অবস্থান থেকে প্রায় পাঁচ ফুট নিচে দেবে গেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে এখন ভবন ধসেরও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তবে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের দাবি, ওই সড়কের নিচে থাকা আবর্জনা পচে গিয়ে ধস নামতে পারে। বন্যার পানি বা ব্লক সরে গিয়ে সড়কে এমন ধস নামেনি। যদিও এমন আশঙ্কার কথা উড়িয়ে দিয়েছে সড়কটি নির্মাণ করে দেওয়া প্রতিষ্ঠান রাজশাহী সিটি করপোরেশন।

এদিকে, ওই সড়কে ধস নামায় পাশের ২০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এর মধ্যে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সড়ক ঘেঁষে থাকা দশটি বাড়ি যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে।

তবে সড়কের দেবে যাওয়া অংশ ছাড়াও অন্যান্য স্থানেও এরইমধ্যে ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়া সড়কের পাশের মাটিও খসে পড়ছে। দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে এলাকাবাসী আপাতত নিজ উদ্যোগে সড়কের দুই ধারে বাঁশ ও তার দিয়ে কোনোভাবে বেঁধে রেখেছেন। তবে তাও যেকোনো সময় খুলে যেতে পারে।

ওই এলাকার অধিবাসী আজমত আলী জানান, এক সপ্তাহ আগে তারা সড়কে ফাটল দেখতে পান। কিন্তু ওই সময় বুঝতে পারেননি যে, এভাবে সড়কটি দেবে যাবে। ধস নামলেও সিটি করপোরেশনের পানি নিষ্কাশনের ড্রেন থাকায় পাশের বাড়িগুলো আপাতত ভেঙে পড়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

সেলিম শেখ নামের অপর অধিবাসী বলেন, এ বছর বর্ষায় পদ্মা নদীর তীর রক্ষার সিসি ব্লকগুলো ধসে নদীগর্ভে চলে গেছে। বর্তমানে সেখানে একটা ব্লকও আর অবশিষ্ট নেই। রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড এখন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় একইভাবে তাদের বাড়ি-ঘরও ধসে যেতে পারে।

তবে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর পরই তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ওই সড়কে পদ্মার নদীর পানির কারণে বা সিসি ব্লক সরে গিয়ে এমন ধস নামেনি। নিচে জমে থাকা আর্বজনা পচে গিয়ে ধস নামতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।

নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, পরিদর্শনের সময় তারা দেখেছেন এলাকার ব্লকগুলো ঠিকমতই রয়েছে। এরপরও বর্তমান করণীয় নিয়ে সভা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। নির্দেশনা মিললেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সড়ক ধস প্রশ্নে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, তিন বছর আগে ওই এলাকায় সড়কটি নির্মাণ করা হয়। তখন মাটিতে কোনো সমস্যা ছিল না। রোলার দিয়ে মাটি মজবুত করে তারপর সড়ক নির্মাণ করা হয়। দেশের বেশিরভাগ সড়কই আর্বজনার ওপর নির্মিত।

তাই নিচে আবর্জনা থাকলে সড়ক দেবে যাবে তা ঠিক নয় বলে দাবি রাসিক’র এ প্রকৌশলীর।

খবরঃ বাংলানিউজ

2 thoughts on “রাজশাহীতে পদ্মার তীরে ধসে পড়েছে পিচঢালা সড়ক, এলাকায় আতঙ্ক

Comments are closed.