রাজশাহীতে পুলিশের মালখানায় নষ্ট হচ্ছে কয়েক কোটি টাকার যানবাহন

রাজশাহী

রাজশাহী জেলা ও মহানগরের থানা এবং ট্রাফিক বিভাগে জব্দকৃত যানবাহনগুলো দীর্ঘদিন ধরে খোলা জায়গায় পড়ে আছে। রোদ, বৃষ্টিতে মরচে পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের এসব যানবাহন। অকশানসহ বিভিন্নভাবে নিলামে তুলে এসব যানবাহন যদি বিক্রি করা হলে সরকারি কোষাগারে কোটি টাকা জমা হবে বলেও সংশি¬ষ্টরা মনে করেন।
রাজশাহী মহানগরীর ৪টি ও জেলা ৯টি থানাসহ ট্রাফিক বিভাগে মোটরসাইকেলসহ চার শতাধিক যানবাহন খোলা আকাশের নিজে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। এসব যানবাহনের মধ্যে ডাকাতি, চুরি, মাদক পাচারসহ সড়ক দুর্ঘটনায় জব্দকৃত মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও ট্রাক রয়েছে। যা কয়েক কোটি টাকার সম্পদ।

পুলিশ জানায়, এসব যানবাহন মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুলিশের হেফাজতে রাখার নির্দেশ থাকে। সে কারণে ওইসব যানবাহনের বিরুদ্ধে পুলিশের কিছুই করার থাকে না। তবে, গাড়িগুলো নিলামে দিতে পারলে সরকার তা থেকে অনেক রাজস্ব পাবে।

রাজশাহী ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট রাজিব হোসেন জানান, রাজশাহী মহানগরের বিভিন্ন থানার ও মহানগর ট্রাফিক পুলিশ বিভিন্ন সময় আটককৃত গাড়িগুলো রাখার জন্য পর্যাপ্ত জায়গারও সমস্যা আছে। যে কারণে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ট্রাফিক বিভাগ রাজশাহী মহিষবাথান পুলিশ কোয়াটারের সামনে জব্দকৃত মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনগুলো রাখা হয়। এসব যানবাহন মামলার ড্রাম্পিং হয়ে আছে। এসব গাড়ির মধ্যে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বেশি। বিভিন্ন সময় কাগজপত্র ছাড় ভারত থেকে চোরাইভাবে আনা মাদকসহ আটককৃত মামলায় জব্দ করা গাড়ি সেগুলো। মামলা থাকার কারণে আইনগত জটিলতার জন্য এসব গাড়ির কোন কুল কিনারা হচ্ছে না।

মহানগর ছাড়াও জেলার বিভিন্ন থানার অবস্থাও এমন। বিভিন্ন থানায় বিভিন্ন মামলায় জব্দকৃত যানবাহনগুলো সুরক্ষিত রাখার কোন নিদিষ্ট গ্যারাজ না থাকায় কোটি টাকা দামের যানবাহনগুলো পড়ে থেকে বিকল হয়ে যাচ্ছে।
রাজশাহী চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারন চন্দ্র বর্মন জানান, প্রত্যেক দপ্তরের বাধ্য বাধকতা রয়েছে। পুলিশের দায়িত্ব দোষিদের আটক করে আদালতে সোপর্দ করা। বিজ্ঞ আদালতের রায়ে সংশিষ্টদের বিচার করা হয়। একই সাথে জব্দকৃত যানবাহনগুলোর মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুলিশের হেফাজতে রাখার নির্দেশ থাকে। বিধায় যানবাহন গুলোর বিষয়ে পুলিশের কিছু করার থাকে না।

চারঘাট মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম জানায়, চারঘাট মডেল থানায় জব্দকৃত যানবাহনগুলোর মধ্যে ৩৮টি মোটরসাইকেল, ৩টি প্রাইভেট কার, একটি মাইক্রোবাস ও দুইটি ট্রাক রয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য কোটি টাকার উপরে।
এ বিষয়ে রাজশাহী ট্রাফিক বিভাগের (টিআই) মোসাকখারুল ইসলাম জানান, জব্দকৃত যানবাহনগুলো মামলায় জড়িত যা আদালত কর্তৃক নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুলিশের করার কিছুই থাকে না। শুধু যে সব জব্দকৃত যানবাহন গুলো যত্রতত্র পড়ে আছে এমনটি নয়। মামলা দীর্ঘ সময় চলার কারণে লাখ লাখ টাকা মূল্যের যানবাহনগুলো মরিচা পড়ে ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাচ্ছে। তবে সরকারিভাবে তড়িৎ ব্যবস্থা নিলে সরকারি কোষাগারে লাখ লাখ টাকা জমা হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

খবরঃ দৈনিক সানশাইন

6 thoughts on “রাজশাহীতে পুলিশের মালখানায় নষ্ট হচ্ছে কয়েক কোটি টাকার যানবাহন

  1. বাংলাদেশে যানবহন বহন তৈরি করতে পারেনা কিন্তুু নষ্ট করতে পারে। তার সাথে সাথে অর্থ গুলো নষ্ট করছে। বাংলাদেশ সরকার যদি সারা বাংলাদেশর সব থানার জবদো করা গাড়ী গুলো যদি নষ্ট না করে সেগুলো যতনো করে রাখার ব্যাবস্থা করে বা অন্য কোনো ভাবে সেগুলো ঠিক রাখার ব্যবস্থা করে তাহলে দেশের অনেক অর্থ বেচে জাবে।

    আমাদের দেশে কোনো জানবহন তৈরি হয় না। তাই আমাদের জানবহন কিনলে অন্য দেশ থেকে নিয়ে আসতে হয় । তাই নিয়ে আসা জানবহন এর দাম অনেক বেশি হয়। আর এভাবে গাড়ি নষ্ট হয়ে আমাদের দেশের আনেক অর্থ বাইরে দেশে চরে জাবে।

Comments are closed.