রাজশাহীতে পেঁয়াজকলির কেজিই ১৪০!

রাজশাহী

রাজশাহীর বাজারে মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) থেকে উঠেছে নতুন দেশি পেঁয়াজ। তবে এ পেঁয়াজের দামেও আগুন লেগেছে। গত দু’দিন ধরে টিসিবি খোলা বাজারে ৪৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করলেও এর কোনো প্রভাবই পড়েনি লাগামহীন পেয়াঁজের বাজারে। নতুন পেঁয়াজ ওঠার প্রথম দিনই দেখা যায় পেঁয়াজের কলিই বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা কেজি দরে। অন্যদিকে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২০০ টাকা দরে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মহানগরীর সাহেববাজার, মাস্টারপাড়া, নিউমার্কেট ও শালবাগান ঘুরে একই চিত্র দেখা যায়। নতুন পেঁয়াজ উঠলেও তা নিয়ে বিন্দুমাত্র স্বস্তি ফেরেনি সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে। অথচ অন্য বছরগুলোর ইতিহাস বলে, বাজার নতুন দেশি পেঁয়াজ উঠতে শুরু করলেই পুরনো পেঁয়াজের দাম পড়ে যায়।

পেঁয়াজের বাজার প্রসঙ্গে সাহেব বাজার এলাকার কাঁচামাল ব্যবসায়ী শাহীন শেখ জানান, আজ তারা দোকানে নতুন পেঁয়াজ তুলেছেন। পেঁয়াজের কলি বিক্রি করছেন প্রতি কেজি ১৪০ টাকা দরে। খালি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২০০ টাকা দরে। চাহিদার তুলনায় নতুন দেশী পেঁয়াজের আমদানি কম থাকায় অন্য বছরের চেয়ে দাম তুলনামূলক বেশি বলে মন্তব্য করেন এ কাঁচামাল ব্যবসায়ী।

পেঁয়াজের বাড়তি দাম নিয়ে মাস্টার পাড়া এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদ বলেন, বাজারে আজ দেশি পুরনো পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৪০ টাকা কেজি। এছাড়া দেশের বাইরে থেকে আসা পেঁয়াজ ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশ ট্রেডিং করপোরেশনের (টিসিবি) মাধ্যমেও পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। তবে  অধিকাংশ মানুষই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তা কিনতে পারছেন না। সে কারণেই টিসিবির পেঁয়াজ বিক্রি নতুন পেঁয়াজের দামের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলছে না। এছাড়া বাজারে যে পরিমাণ পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে সে তুলনায় সরবরাহ কম থাকার ফলেও দাম কমছে না বলে জানান আব্দুল মজিদ।

দেশী নতুন পেঁয়াজ ওঠার খবরে মহানগরীর সবচেয়ে বড় বাজার ‘সাহেব বাজার’ গিয়েছিলেন  সুলতানাবাদ এলাকার জমির উদ্দিন। কিন্তু দাম শুনে তিনি হতাশ। ক্ষোভের সঙ্গে এ ভোক্তা বলেন, সারা জীবন দেখে আসলাম নতুন পেঁয়াজ উঠলে পুরোনো পেঁয়াজের দাম কমে। নতুন পেঁয়াজের দামও থাকে কম। কিন্তু সবই পাল্টে গেছে। পেঁয়াজের বাজার বাদ যাবে কেন? আজ দেখলাম নতুন পেঁয়াজের ফুলকাই (ফুলকলি) বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা কেজিতে! তাই কেবল দরদাম করে নতুন দেশী পেঁয়াজ না কিনেই বাড়ি ফিরছি। এর চেয়ে ২৪০ টাকা দরে পুরোনো পেঁয়াজ খাওয়াই অনেক ভালো।

কেবল জমির উদ্দিনই নন, মঙ্গলবার নতুন পেঁয়াজ কিনতে এসে একই রকম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন আরও অনেকেই। পেঁয়াজের বাজারে নজিরবিহীন এ অরাজকতা কবে নাগাদ থামবে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ভোক্তারা।

পেঁয়াজের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির হাত থেকে ভোক্তাদের রক্ষায় গত ২৪ নভেম্বর (রোববার) সকাল থেকে মহানগরীর পাঁচটি পয়েন্টে নির্ধারিত ডিলারের মাধ্যমে খোলা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে সেখান থেকে পেঁয়াজ কেনার চেষতা করছেন ভোক্তারা।

টিসিবির রাজশাহী কার্যালয়ের আঞ্চলিক প্রধান প্রতাপ কুমার জানান, খোলাবাজার থেকে একজন ভোক্তা প্রতিদিন সর্বোচ্চ এক কেজি পেঁয়াজ কিনতে পারছেন। প্রতি কেজি ৪৫ টাকা। যা বাজারের চাইতে প্রায় ১০০ টাকা কম।

তিনি বলেন, বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা পুরণে টিসিবি প্রতিদিন সরবরাহ করছে মোট পাঁচ টন পেঁয়াজ। প্রতি পয়েন্টে দেওয়া হচ্ছে এক টন করে। দেশে পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত টিসিবির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সম্ভব হলে পরে বিক্রির পয়েন্ট আরও বাড়ানো হবে।

মহানগরীতে পেঁয়াজ বিক্রির এ পয়েন্টগুলো হলো- সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট, কোর্ট চত্বর, ভদ্রা মোড়, রেলগেট ও আম চত্বর।

টিসিবির কার্যক্রম প্রসঙ্গে রাজশাহী জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক জানান, বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সরকার বাইরে থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে টিসিবির মাধ্যমে বিক্রি করছে। এ পেঁয়াজ বিক্রি কার্যক্রম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও মনিটরিং করা হচ্ছে। টিসিবির পেঁয়াজ যদি কোনো ব্যবসায়ী বা বাজারের কোনো দোকানে বিক্রি করতে দেখা যায়, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে দেরিতে হলেও গত ১৭ নভেম্বর রাজশাহীর বাজারে পেঁয়াজের মজুদ ভাঙতে ও দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ অদালত। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চালানো এ অভিযানের প্রথম দিনই মহানগরীর মাস্টারপাড়া এলাকার আমদানিকারক হাসিবুল ইসলামের বাড়িতে ৩০০ বস্তা পেঁয়াজের মজুদ মেলে।

পরে তাকে প্রতিদিন ৫০ বস্তা করে পেঁয়াজ বিক্রির নিদের্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ১৮ নভেম্বর থেকে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা করে নির্ধারণ করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। কিন্তু তা মানা হচ্ছে না। মঙ্গলবারও ২৪০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হয়।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ বাংলানিউজ