রাজশাহীতে প্রতিমন্ত্রী-উপাচার্য ও রাজশাহীর সাবেক মেয়রসহ ৮ জনকে হত্যার হুমকি

জাতীয় রাজশাহী রাজশাহী বিভাগ

রাজশাহীতে এবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মিজানউদ্দিন, কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হক ও রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি ইকবাল বাহারসহ আটজনকে হত্যার হুমকি দিয়ে উড়ো চিঠি পাঠানো হয়েছে।

আনসার আল ইসলাম (আল-কায়দা ভারতীয় উপমহাদেশ) নামের একটি সংগঠনের বরাত দিয়ে রাজশাহীর স্থানীয় একটি পত্রিকার কার্যালয়ে এই চিঠি পাঠানো হয়। রাজশাহীর স্থানীয় দৈনিক সানশাইন পত্রিকার কার্যালয়ে আজ সোমবার সকালে ডাকযোগে চিঠিটি পৌঁছে। সংগঠনটির প্যাডে চিঠিটি লেখা হয়েছে।

চিঠিতে আরও যাঁদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে তাঁরা হলেন রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হায়াত, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার ও দৈনিক সানশাইন পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ইউনুস আলী। চিঠির ওপরে লেখা রয়েছে ‘রাজশাহী শহরে আমাদের টার্গেটসমূহ’।Ansar_al_islam

চিঠির শুরুতেই লেখা হয়, ‘আলহামদুল্লিহ। আমাদের বাংলাদেশ শাখার উপশাখা রাজশাহী অঞ্চলে আমাদের কার্যক্রম শুরু করেছি, তারই ধারাবাহিকতায় আমরা রাজশাহী অঞ্চলে আল্লাহ, রাসূল ও মুসলমানের নিকৃষ্টতম দুশমনদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করেছি। আল্লাহ ও রাসূলের দ্বীন প্রতিষ্ঠায় এদের প্রত্যেককে হত্যা করা হবে।’
এরপর আটজন বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম লেখা হয়েছে। শেষে ‘মূলকথা’ শিরোনাম দিয়ে লেখা হয় ‘আল্লাহ ও রাসূলের দ্বীনের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিয়েছেন এবং আল্লাহ নয়, অন্য কারও কাছে নতি স্বীকার করেছে, তারা আমাদের টার্গেট। সাধারণ কোনো মুসলমান আমাদের টার্গেট নয়।’

চিঠির নিচে আনসার আল ইসলাম (আল-কায়দা ভারতীয় উপমহাদেশ) প্রধান হিসেবে মুফতি আবদুল্লাহ আশরাফ ও রাজশাহী অঞ্চলের স্থানীয় প্রধান নির্দেশক হিসেবে রাজশাহী কলেজের শিক্ষক হবিবুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও চিঠির খামে প্রেরক হিসেবে অধ্যাপক আবু সিদ্দিকের নাম ব্যবহার করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ হবিবুর রহমান বলেন, এগুলো ফেক। তাঁকে বেকায়দায় ফেলতে কোনো চক্র তাঁর নাম ব্যবহার করে থাকতে পারে।

জানতে চাইলে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি ইকবাল বাহার বলেন, এগুলো মিথ্যাও হতে পারে। তবে সত্য হোক আর মিথ্যা হোক এগুলোকে কম গুরুত্ব দিয়ে দেখার সুযোগ নেই।

এ ব্যাপারে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে এ এইচ এম খায়রুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তার ফোনটি বার বার ব্যস্ত পাওয়া যাচ্ছে।

প্রথম আলো