রাজশাহীতে প্রশান্তির বৃষ্টি, ঢাকায় কবে?

রাজশাহী

তুমুল বৃষ্টির সঙ্গে বাতাসের ঝাপটা টমটমের যাত্রীর একপাশ ভিজিয়ে দিচ্ছিলো, সামনে চালকের পাশে রাখা ব্যাগ ফেরত এলো ভিজে যাচ্ছিলো বলে! ঝড়ের বেগে উড়তে থাকা ধুলো-বালিতে নাক- মুখ- কান বন্ধ হবার যোগাড়! তবু চালক-যাত্রী সবার মুখেই এক কথা! ওহ রে বৃষ্টি, খুব দরকার ছিলো, আহা প্রশান্তির পরশ যেন!

দুপুরের খাবার সময়ই কথা হচ্ছিলো! এবার রাজশাহী বা এ অঞ্চলে যা-ই আম-লিচুর ফলন হয়েছে, অতিরিক্ত রোদের কারণে আর বৃষ্টি না হওয়ার কারণে আশানুরূপ মিষ্টি হয়নি!

অসহনীয় আবহাওয়ার রূপ ফল ব্যবসায়ীদের কাছে যেমন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী হয়ে দিনাজপুরগামী যাত্রীর কাছেও তেমন!

ব্যবসায়ীদের ফল মিষ্টি হচ্ছিলো না, আর রোদমুখী জানালার পাশে বসে যাত্রা সহ্য হচ্ছিলো না যাত্রীর!

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী নামার পর মনে হলো উত্তাপটা বাসের সিটে করেই চলে এসেছে সঙ্গে সঙ্গে!

এই রোদ মাথায় করে যাত্রাবিরতি। দুপুরের খাবার শেষ হতেই পুরো রাজশাহী শহরের আকাশ মেঘে ঢেকে কালো হয়ে উঠলো! কালো মেঘকে শৈশবে বিপদের আলামত বলতে শুনলেও এখন সবাইকে দেখা গেলো উল্লসিত হয়ে উঠতে। আল্লাহ এবার নামাও! মানুষের আর সহ্য হয় না।শান্তির বৃষ্টি। ছবি: হুসাইন আজাদ

গাড়ি ধরতে হবে বলে বিরতিস্থলের আপ্যায়নের তৃপ্তি নিয়ে দ্রুত টমটমে চেপে বসা। টমটমে আসন নেয়ার জন্যই যেন অপেক্ষা করছিলো বৃষ্টি! গুড়ুমগুড়ুম আকাশ ঢেকে নামলো বহুল কাঙ্ক্ষিত এবং আরাধ্য বৃষ্টি।

কর্মব্যস্ত রাজশাহী যেন বৃষ্টিবিলাসে মাতলো! সাইকেলে চেপে ঘুরতে বেরুনো দুরন্ত কিশোরের দল হাত দু’দিকে প্রসারিত করে বৃষ্টি উপভোগ করছে! এই বিলাসিতার স্বরূপ রাজশাহী থেকে উত্তরাঞ্চলগামী টার্মিনালেও যেন দেখা গেলো। বাতাসের ঝাপটা সবাইকে টার্মিনালের ছোট্ট ছাউনিতে ঢুকিয়ে দিলো, সেখান থেকেই হাত বাড়িয়ে বৃষ্টির পরশ নিতে দেখা গেলো দু’একজনকে!

আহা, এই প্রশান্তির বৃষ্টি কি ঢাকায় গেলো? এ বৃষ্টি কি দিনাজপুরের পথ চেনে? ক’দিন যে থাকতে হবে সেখানেও।

খবরঃ বাংলানিউজ

6 thoughts on “রাজশাহীতে প্রশান্তির বৃষ্টি, ঢাকায় কবে?

Comments are closed.