রাজশাহীতে প্রশিক্ষণ প্লেন বিধ্বস্ত: ফ্লাইং একাডেমির বিরুদ্ধে মামলা করবে তামান্নার পরিবার

রাজশাহী

রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম (রহ.) বিমানবন্দরে বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমির প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট তামান্না রহমান হৃদির নিহতের ঘটনায় শিগগিরই মামলা করতে যাচ্ছে তার পরিবার।

সোমবার (৪ মে) দুপুরে রাজশাহী মহানগরের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিহত তামান্নার বাবা ডা. আনিসুর রহমান সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত তামান্না রহমানের মা রেহানা ইয়াসমিন।

তামান্নার বাবা ডা. আনিসুর রহমান বলেন, এরই মধ্যে তারা তামান্নার নিহতের ঘটনায় প্রশিক্ষণ পরিচালনা নিয়ে বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমির অবেহেলা ও গাফিলতির বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত হাতে পেয়েছেন। আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। সবকিছু হাতে এলেই তামান্নার মৃত্যুতে চরম অবহেলার দায়ে তারা আইনি প্রক্রিয়া অর্থাৎ একাডেমির বিরুদ্ধে মামলায় যাবেন।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী ফ্লাইং একাডেমি অ্যান্ড সিভিল এভিয়েশনসহ যেকোনো বিমানবন্দরের রানওয়েতে ২৪ ঘণ্টা ফায়ার সার্ভিস টিম, রেসকিউ টিম ও অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখার কথা। যাতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটার দুই মিনিটের মধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। কিন্তু রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম (রহ.) বিমানবন্দরে যখন প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়, তখন সেখানে কিছুই ছিল না। ঘটনার পর স্থানীয়রা এগিয়ে এলেও ২১ মিনিট পর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা সেখানে গিয়ে পৌঁছান। ততোক্ষণে কো-পাইলট তামান্না পুড়ে কয়লা হয়ে যান।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত তামান্নার মা রেহানা ইয়াসমিন অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি তিন দশকেরও বেশি পুরোনো ভাঙা এয়ারক্রাফট (সেসনা-১৫২) দিয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এর নষ্ট সিটবেল্ট একবার বাধলে খোলা যায় না, আর খুললে লাগানো যায় না। যে কারণে সুদক্ষ প্রশিক্ষক বের হয়ে যেতে পারলেও তামান্না সিটবেল্টটি খুলে ককপিট থেকে বের হতে পারেননি। জীবন্তই দগ্ধ হয়েছেন। এছাড়া প্লেনগুলোর হুইল নষ্ট এবং ইঞ্জিনও পুরোনো ক্ষয়ে যাওয়া।

সুত্র: বাংলানিউজ