রাজশাহীতে ফিরোজের হাত ছিঁড়ে দেওয়া সেই বাস জব্দ, চালক শনাক্ত

রাজশাহী

সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ফিরোজ সরদারের (২৫) হাত ছিঁড়ে দেওয়া সেই বাস জব্দ এবং চালককে শনাক্ত করা হয়েছে। বাসটির নাম ‘মোহাম্মদ পরিবহন’। নম্বর- ‘ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-০৪৬২’।

রোববার (৩০ জুন) সকালে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে শনিবার (২৯ জুন) দিনগত রাতে রাজশাহী মহানগরের শিরোইল বাস টার্মিনালের ভেতর থেকে বাসটি জব্দ করে পুলিশ।

গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, ফিরোজ এই বাসেরই যাত্রী ছিলেন। রাজশাহী-রংপুর রুটে চলাচলকারী বাসটি রাজশাহীর নওদাপাড়া বাস টার্মিনালে থাকার কথা। কিন্তু সেটিকে লুকিয়ে শিরোইল বাস টার্মিনালে রাখা হয়েছিলো।

মোহাম্মদ পরিবহনের সেই বাস। ছবি: বাংলানিউজ‘ফিরোজ জানিয়ে ছিলেন, তিনি যে বাসের যাত্রী ছিলেন তার ইংরেজি নামের প্রথম দুই অক্ষর ‘এম এবং ও’। তার এই ‘ক্লু’ কাজে লাগিয়ে পুলিশ তদন্ত করে। ফিরোজ মোহাম্মদ পরিবহনেরই যাত্রী ছিলেন, এটি নিশ্চিত হওয়ার পর বাসটিকে জব্দ করে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’

তবে চালক ও মালিক পলাতক। চালককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

শনিবার সন্ধ্যায় ফিরোজ যে গাড়ির যাত্রী ছিলেন সে গাড়ির চালক এবং যে গাড়ির চাপায় তার হাত বিচ্ছিন্ন হয়েছে সে গাড়ির চালককে আসামি করে নগরের কাটাখালী থানায় মামলা হয়েছে। ফিরোজের বাবা মাহফুজ আর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। তখন পর্যন্ত শনাক্ত না হওয়ায় মামলায় আসামিদের অজ্ঞাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এরপরই পুলিশ একটি বাস জব্দ করলো।

ফিরোজ সরদার রাজশাহী কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। বগুড়ার নন্দীগ্রাম পৌরসভার নামোইটগ্রাম মহল্লায় তার বাড়ি। গত শুক্রবার (২৮ জুন) তিনি বাসে চড়ে রাজশাহী ফিরছিলেন। তার ভাষ্যমতে, তিনি বাসের একেবারে শেষের সিটে বসে ছিলেন। আর ডান হাতে জানালার ভেতর দিয়েই সামনের সিট ধরে ছিলেন। ওই সময় বাসটি চলছিলো খুব বেপরোয়া গতিতে।

হঠাৎ ঝাঁকুনিতে তার হাত সিট থেকে আলাদা হয়ে জানালার বাইরে চলে যায়। তখনই বিকট শব্দে পাশের গাড়ির সঙ্গে বাসটি ধাক্কা খায়। এতে চাপা পড়ে তার ডান হাত কনুইয়ের ওপর থেকে কেটে পড়ে যায়। তবে সেই সময় ফিরোজসহ কেউই পাশের গাড়িটিকে চিনতে পারেননি। সেটি ট্রাক নাকি বাস তাও জানেন না কেউ। তবে এখন সেটি শনাক্ত করা সম্ভব বলে মনে করছে পুলিশ।

মহানগরের কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মণ জানিয়েছেন, ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার একটি ফুটেজ দেখে মোহাম্মদ পরিবহনের চালককেও শনাক্ত করা হয়েছে। তার নাম মো. ফারুক। বাড়ি রাজশাহীর পুঠিয়ায়।

এই চালককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তাকে গ্রেফতার করা গেলেই জানা যাবে, কোন গাড়ির সঙ্গে তার বাসের চাপা লেগেছিলো। ফারুক তা নিশ্চয় জানেন বলেও উল্লেখ করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর