রাজশাহীতে ফিরোজের হাত ছিঁড়ে দেওয়া বাসের হদিস পাচ্ছে না পুলিশ!

রাজশাহী

দুই বাসের চাপায় হাত হারিয়েছেন রাজশাহী কলেজের মাস্টার্সের ছাত্র ফিরোজ সরদার (২৫)। কিন্তু ঘটনার একদিন অতিবাহিত হলেও হাত ছিঁড়ে দেওয়া সেই বাসের হদিস পায়নি পুলিশ।

এমন কি ফিরোজ কোন বাসের যাত্রী ছিলেন এবং কোন বাসের সঙ্গে চাপা লেগেছে তাও তারা নিশ্চিত হতে পারেনি। এছাড়া পাশের গাড়িটি বাস ছিল নাকি ট্রাক সেটাও কেউ জানাতে পারেনি। তবে এসব বিষয়ে নিশ্চিত হতে কাজ করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩১নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ফিরোজ সরদার জানান, তিনি বাসের একেবারে শেষ সিটে বসে ছিলেন। ডান হাত দিয়ে তিনি জানালার ভেতর দিয়েই সামনের সিট ধরে ছিলেন। হঠাৎ একটা ঝাঁকুনিতে তার হাত সিট থেকে আলাদা হয়ে জানালার বাইরে চলে যায়। তখনই বিকট শব্দে পাশের গাড়ির সঙ্গে বাসটি ধাক্কা খায়। এতে চাপা পড়ে তার হাত কেটে পড়ে যায়।

তিনি জানান, হাত কেটে যাওয়ার পরও হাসপাতাল আসা পর্যন্ত তার জ্ঞান ছিল। কিন্তু যে গাড়ির সঙ্গে চাপা লেগে তার হাত বিচ্ছিন্ন হয়েছে সেটি তিনি চিনতে পারেননি। তবে যে গাড়িতে তিনি আসছিলেন সেটির ইংরেজিতে নামের প্রথম দুই অক্ষর ‘এম, ও’ তার মনে আছে।

এছাড়া গাড়িতে ওঠার সময় খেয়াল করেছিলেন গাড়ির সামনের কাঁচ ছিল ফাটা। আর গাড়ির দরজার সঙ্গে যে জানালা থাকে তার একটিতে কোনো কাঁচ ছিল না। নন্দীগ্রামে ওই বাসে ওঠার সময় চেইন মাস্টার তাকে জানিয়েছিলেন, গাড়িটি বগুড়া থেকে আসছিল।

ওভারটেকিং নাকি ক্রসিং কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটেছে সেটিও ফিরোজ জানেন না। তবে দুই চালকের দোষে দুর্ঘটনা ঘটেছে বলেই মনে করেন তিনি। তাই দোষী দুই চালকের শাস্তি চান ফিরোজ।

রাজশাহীর নওদাপাড়া বাস টার্মিনালের বগুড়া কাউন্টারে গিয়ে জানা গেছে, বেলা ১১টার পর রংপুরের কোনো গাড়ি রাজশাহী আসে না। কিন্তু বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত রংপুর থেকে রাজশাহীর মালিকদের গাড়ি ছেড়ে আসে। শুক্রবার (২৮ জুন) রাজশাহী থেকে ‘শ্রাবন্তী’, দিবারাত্রি’, ‘সেতু’, ‘বিসমিল্লাহ’ ও ‘মহানগর’ নামের পাঁচটি বাস রংপুর গিয়ে ফেরত এসেছে।

এর মধ্যে নামের প্রথম দুই অক্ষর ‘এম এবং ও’ শুধু মহানগর গাড়ির। তাই যে বাসে ফিরোজ আসছিলেন সেটি মহানগর হতে পারে।

তবে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মুনজুর রহমান পিটার বলেন, মহানগর নামে কয়েকজন মালিকের গাড়ি চলাচল করে। কার গাড়িটি শুক্রবার রংপুর গিয়েছিল সেটা বলা মুশকিল। তার দাবি, ফিরোজ যে গাড়ির যাত্রী ছিলেন সেটি মহানগর নয়।

এদিকে, দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীর হাত হারানোর ঘটনায় থানায় দুটি সাধারণ ডায়েরি হলেও এখন পর্যন্ত  কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস।

তিনি বলেন, ঘটনায় জড়িত বাস বা ট্রাকের কাউকে এখনও চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ এ বিষয়ে তৎপর রয়েছে।

দ্রুত ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় ফিরোজের বাবা বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর