রাজশাহীতে ফুটপাতের পর রাস্তা দখল, ঝুঁকিতে নগরবাসী!

রাজশাহী

মহানগরীতে পথচারীদের চলাচলের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে পারছেনা সংশিৱষ্ট প্রশাসন। প্রতিনিয়ত জীবন ঝুঁকি ও চরম ভোগান্তি নিয়ে সড়ক দিয়ে চলাচল করছে মানুষ। একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় অবৈধভাবে চলছে এই ফুটপাত দখল ও অর্থ বাণিজ্য। কিছু অসাধু পুলিশ অফিসার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। দখলকৃত এলাকাগুলো হচ্ছে নগরীর হুনুমানজির আখড়া হতে সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট, বড় মসজিদ হয়ে গণকপাড়ার মোড় পর্যন্ত পথচারীদের চলাচল দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

এদিকে জিরোপয়েন্ট হতে সোনাদিঘীর মোড় পর্যন্ত ফুটপাত দখলে রেখেছে স’ানীয় ব্যবসায়ীরা এবং রাস্তার অর্ধেক পর্যন্ত দখলে রেখেছে ফুটপাত ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও সোনাদিঘীর মোড় সংলগ্ন গুড়পট্টি নামক স’ান সহ বিভিন্ন গুর্বত্বপূর্ণ রাস্তায় নির্মাণ সামগ্রী রেখে ফুটপাতসহ রাস্তার অর্ধেক দখল করে লোকজনের স্বাধীনভাবে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। সাহেব বাজার জিরোপয়েন্টে ২৪ ঘণ্টা সংশিৱষ্ট প্রশাসনের লোকজনের উপসি’তি থাকা সত্বেও প্রতিনিয়ত এ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। এছাড়াও নগরীর ভুবন মোহন পার্কের সামনে, লক্ষ্মীপুর, শিরোইল বাসস্ট্যান্ড, রেল স্টেশনসহ বিভিন্ন গুর্বত্বপূর্ণ এলাকাগুলো অবৈধভাবে দখল অব্যাহত রয়েছে। ফুটপাত ছেড়ে সড়ক দিয়ে চলাচলের কারণে প্রতিদিন ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। নিহত ও আহতের সংখ্যাও কম নয়।

আব্দুল বারিক নামে একজন মুসলিৱর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বড় মসজিদে  যাতায়াতকারী মুসলিৱ, পথচারী ও গাড়ি চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সেখান দিয়ে নারী ও শিশু চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ। দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রাস্তার দুই ধারে অর্ধেকের বেশী রাস্তা দখল করে গরম তেল ভরা কড়াইয়ে ভাজাপোড়া বিক্রি হচ্ছে। সেখানে শত শত খেতে আসা ক্রেতা দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে ভাজাপোড়া খেয়ে থাকে। এতে করে পথচারীদের চলাচল বিঘ্নিত হয়। স’ানীয় ওষুধ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এ সকল কারণে ক্রেতাদের ভীড় ঠেলে আসতে হয়। এতে করে বৃদ্ধ নারী ও শিশুদের জটিলতায় পড়তে হয় এবং ওষুধ ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত আর্থিকভাবে ৰতিগ্রস্ত হচ্ছে।

নাম না প্রকাশে একজন পথচারী অভিযোগ করে জানান, নগরীর জিরোপয়েন্টসহ খাবার হোটেলগুলো এমনভাবে ফুটপাত দখল করে রেখেছে যে, ফুটপাত দিয়ে আসা-যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। খাবার মানও নিম্নমানের। ফুটপাতে বসানো হয়েছে জ্বলন্ত আগুনের চুলা, বড় বড় তাওয়া ও কড়াইয়ে চলছে ভাজাপোড়া রান্না।

সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এ রান্না চলে। এতে করে প্রতিনিয়ত সেখান দিয়ে চলাচলকারী মানুষের গায়ে ছিটকে পড়ে গরম তেল। যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। মহানগরীতে বসবাসকারী প্রায় ৮ লৰ শিশু, নারী ও পুর্বষ প্রতিনিয়ত এই ঝুঁকি বহন করছে। এছাড়াও জেলা ও উপজেলা থেকে বিভিন্ন জর্বরী কাজে প্রতিদিন শহরে আগত লোকজনও একই ঝুঁকিতে রয়েছে।

এদিকে, উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েও সুবিধা করতে পারছেনা সংশিৱষ্ট প্রশাসন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক শ্রেণীর স’ানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়াই অবৈধভাবে চলছে ফুটপাত দখল এবং বাণিজ্য। ফুটপাত ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, স’ানীয় প্রভাবশালীদের মাসোহারা দিয়ে ব্যবসা করছে তারা। তবে তাদের নাম জানাতে অস্বীকৃতি জানান ব্যবসায়ীরা।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দীন জানান, বিষয়টি আরএমপি পুলিশ দেখে থাকে। তবে আমরা পুলিশের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ফুটপাত উচ্ছেদের বিষয়টি দেখবো।

খবরঃ sonali sangbad

5 thoughts on “রাজশাহীতে ফুটপাতের পর রাস্তা দখল, ঝুঁকিতে নগরবাসী!

  1. রাস্তা দখল করে মটর সাইকেল রেখে গোল হয়ে গল্প করে, ছোট ছোট চা দোকানদার বেন্চ পেতে রাখে, লোকজন বসে চা খায়। হাঁটার জন্য জায়গা পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে ফুটপাত বাদ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হয়।

Comments are closed.