রাজশাহীতে ফের কালবৈশাখীর তাণ্ডব: শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

রাজশাহী

sila

দুইদিনের ব্যবধানে আবারো কালবৈশাখী তাণ্ডব চালিয়েছে রাজশাহী অঞ্চলে। দুইদিন আগের ছোবল থেকে ক্ষতিগ্রস্থ ঘর গোছানোর আগেই আবারো কালবৈশাখীতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টিপাতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও ভারি বৃষ্টিতে রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে চারটা থেকে শুরু হওয়া শিলাবৃষ্টিতে গ্রামাঞ্চলের উঠতি বোরো ধান, গম, ভট্টা, পানের বরজ, কলা, সবজি পেঁপেবাগান আম ও লিচুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়বৃষ্টি শুরুর পরপরই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে রাজশাহী নগর ও জেলা জুড়ে।

এদিকে প্রবল বেগে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখীর আঘাতে আবারো লণ্ডভন্ড হয়ে গেছে গ্রামীণ জনপদ। জেলার তানোর, গোদাগাড়ী, পবা, মোহনপুর, চারঘাট, দুর্গাপুর ও পুঠিয়া এলাকায় অসংখ্য ঘরবাড়ির চালা উড়ে গেছে। দুইদিন আগে উড়ে যাওয়া ঘরের ছাউনি না থাকায় অনেক কাচা ঘরবাড়ি ধ্বসে গেছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো প্রাণহানীর খবর পাওয়া যায় নি।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের সহকারী আশরাফুল আলম জানান, ঘণ্টা ৫৫ থেকে ৬০ কিলোমিটর বেড়ে কালবৈশাখী ও বজ্রসহ শিলাবৃষ্টিপাত হয়েছে। রাজশাহী অঞ্চলে আধাঘণ্টায় ৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমের বেশী ভারী বৃষ্টিপাত বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।

এসব উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘর-বাড়ির টিনের চালা উড়ে গেছে এবং তীব্র ঝড়ে গাছপালার ডাল ভেঙ্গে পড়েছে। গোদাগাড়ীর পাকড়ি ইউনিয়নের পাকড়ি পশ্চিম পাড়ার অন্তত ৬০ টি বাড়ির চালা উড়ে গেছে। তানোর বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, অনেক স্থানে বিদ্যুতের লাইনের তার ছিড়ে পড়ে গেছে। ঝড়ে কামারগাঁ ইউনিয়নের ধানুরা চকপ্রভুরাম উচ্চ বিদ্যালয়ের টিন উড়ে গেছে। বোরো ধানের শীষ বের হওয়া ধান মাটিতে নুইয়ে পড়েছে।

তানোর উপজেলার কৃষক এহসান আলী জানান, ঝড়ের সঙ্গে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হওয়ায় আম, লিচু, পেপে ও কলা ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি জানান, দুইদিন আগের ক্ষতির ওপর দ্বিতীয় দফার বৃষ্টিতে কৃষকের সীমাহীন ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে ঝড়বৃস্টি শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেকস্থানে টেলিফোনের লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ঝড়ের সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাতে রাজশাহী নগরীর অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত উপশহর এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। নগরীর অনেকস্থানে ড্রেন উপচে প্লাবিত হয়েছে। অনেক বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। নগরীর উপশহর ছাড়াও কোর্ট অঞ্চলের অনেক বাড়িতে পানি উঠে গেছে। সড়কের বিভিন্ন সড়ক প্লাবিত হয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েন নগরবাসী। দীর্ঘদিন ড্রেন পরিস্কার না করায় এ অবস্থা হয়েছে বলে নগরবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী শাহিনুল আলম জানান, ঝড়ের কারনে খুটি, তার বিচ্ছিন্ন ও ট্রান্সমিটার বিষ্ফোরিত হওয়ায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের টেকনিসিয়ানরা বিদ্যুৎ সংস্কারের কাজ চলছে। খুব দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সুত্রঃ সানশাইন