রাজশাহীতে ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণা!

রাজশাহী

রাজশাহীতে ভবন নির্মাতা একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফ্ল্যাট নির্মাণের জন্য যাঁরা জমি দিয়েছেন এবং ফ্ল্যাট কেনার জন্য যাঁরা বুকিং দিয়েছেন, উভয়েই এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তাঁরা ইতিমধ্যে ওই প্রতিষ্ঠানের নামে থানায় জিডি করেছেন। কেউ উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন। কেউ চেক জালিয়াতির মামলা করেছেন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ চিকিৎসক ও প্রকৌশলী রয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভবন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির নাম টিএইচ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড। তাদের প্রধান কার্যালয় ঢাকার মিরপুরে। রাজশাহীতে তারা চারটি ভবন নির্মাণের কাজ হাতে নেয়। এর মধ্যে নগরের উপশহর এলাকায় দুটি ও কাজলা এলাকায় দুটি। এই চারটি ভবনের একটিরও কোনো ফ্ল্যাট এখন পর্যন্ত হস্তান্তরযোগ্য হয়নি। অথচ তিনটি ভবনের ফ্ল্যাট হস্তান্তরের সময় পার হয়ে গেছে। একটির মেয়াদ থাকলেও কাজ বন্ধ রয়েছে।

উপশহরের একটি ভবনের ষষ্ঠ তলার ছাদ পর্যন্ত কাজ হয়েছে। এটি আটতলা হওয়ার কথা। এখন পর্যন্ত এর একটি ফ্ল্যাটও হস্তান্তরযোগ্য হয়নি। এই ফ্ল্যাটের জন্য জমি দিয়েছেন প্রকৌশলী মোস্তাক হোসাইন। তিনি বলেন, টিএইচ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের সঙ্গে ফ্ল্যাট নির্মাণের চুক্তি করেছিলেন। ২০১৪ সালে আটতলা ভবনটি হস্তান্তর করার কথা ছিল। পরে তারা দুই বছর সময় বাড়িয়ে নেয়। সে সময়ও পার হয়ে গেছে। তিনি তাদের উকিল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন। আরও একটি উকিল নোটিশ দেবেন।

এই ভবনের চতুর্থ তলার দুটি ফ্ল্যাটের জন্য চিকিৎসক তারিকুল ইসলাম খান প্রায় ৩৬ লাখ টাকা দিয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁর ফ্ল্যাট হস্তান্তরের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তারা আর ফোন ধরে না। কাজের অগ্রগতি না দেখে হতাশ হয়ে তিনি কিস্তি দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তাপসী রাবেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ মাহবুবা বেগম এই কোম্পানির কাজলা এলাকার একটি ভবনের ফ্ল্যাট কেনার জন্য ২৪ লাখ টাকা দিয়েছেন। তাঁর ছেলে ব্যাংক কর্মকর্তা আশফাক মাহবুব বলেন, তাঁদের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষক টাকা দিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। দুই বছর আগে তাঁদের ফ্ল্যাট পাওয়ার কথা ছিল।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আবদুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে কাজলার ফ্ল্যাটের জন্য ১৫ লাখ টাকা দিয়েছেন। কাজের কোনো অগ্রগতি না দেখে তিনি টাকা ফেরত চেয়েছেন। এখন তারা আর ফোন ধরছে না।

কাজলায় একটি ফ্ল্যাটের জন্য সাত লাখ টাকা দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক ইলিয়াস হোসেন। তিনি গত ১১ ফেব্রুয়ারি ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হরেনচন্দ্র দাস, চেয়ারম্যান প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম, রাজশাহী অঞ্চলের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. ইমরুল ও চেয়ারম্যানের ছোট ভাই ইকবাল হোসেনের নাম উল্লেখ করে রাজশাহী নগরের মতিহার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তাঁরা টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য তাঁকে চেক দিয়েছিলেন, যা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। পরে কিস্তি করে টাকা দেওয়ার কথা ছিল, তাও দেননি।

জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হরেনচন্দ্র দাস ১১ মার্চ প্রথম আলোকে বলেন, ব্যবসা করলে দু-একটি মামলা থাকতেই পারে। এটা কোনো ব্যাপার না। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ইলিয়াস হোসেনের চেকে ঝামেলা থাকলে আবার দেবেন। শিক্ষক আবদুর রহমান সিদ্দিকীর টাকাও ফেরত দেবেন। তিনি আরও বলেন, যাঁরা ফ্ল্যাটের বুকিং দিয়েছেন, তাঁরা ঠিকমতো টাকা না দেওয়ার কারণেই কাজ করতে পারছেন না। আর যাঁরা টাকা ফেরত চেয়েছেন, তাঁদের টাকা ফেরত দিয়ে দেবেন।

খবরঃ প্রথম-আলো

3 thoughts on “রাজশাহীতে ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণা!

Comments are closed.