রাজশাহীতে বন্ধ হওয়া সেই বিমানবন্দরেই উড়ছে ৩ সংস্থার উড়োজাহাজ

রাজশাহী

একসময় সপ্তাহে তিনদিন উড়োজাহাজ চলাচল করতো। কিন্তু যাত্রীর অভাবে পরে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘ আটটি বছর কেটে গেছে। শেষ পর্যন্ত দক্ষিণের আকাশপথে পাখা মেলে বিমান ‘মেঘদূত’। তারপর যোগ হয়েছে আরো কয়েকটি।

এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে এভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে রাজশাহীর শাহ্ মখদুম (র.) বিমানবন্দর। বর্তমানে এ বিমানবন্দর থেকে সপ্তাহের প্রতিদিনই পরিচালনা করা হচ্ছে অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইট। কোনো দিন দু’টি ফ্লাইটও চলছে।

সকাল হলেই কর্মকর্তাদের ওয়াকিটকিগুলো এখন সচল হয়ে উঠছে। ভেসে আসছে ‘অ্যাটেনশন অল, অ্যালার্ট, ওকে, সেফ ল্যান্ডিং ও টেকঅফ’র মতো নানা শব্দ। আকাশপথে হাতছানি দিচ্ছে অপার সম্ভাবনাও।

রাজশাহীর শাহ্ মখদুম বিমানবন্দর কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, আট বছর বন্ধ থাকার পর গত বছরের ০৭ এপ্রিল আবারও উড়োজাহাজ চলাচল শুরু হয়। রাজশাহী-ঢাকা অভ্যন্তরীণ রুটে উড়ান শুরু করে পতাকাবাহী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট। ‘মেঘদূত’ ও ‘ময়ূরপঙ্খী’ নামে কানাডার তৈরি ৭৪ আসনের ড্যাশ-৮-কিউ-৪০০ মডেলের দু’টি উড়োজাহাজ দেওয়া হয় ফ্লাইট পরিচালনার জন্য।

বিমানের পথ ধরে এ রুটে চলতে শুরু করে ‘ফ্লাই ফাস্ট, ফ্লাই সেফ’ স্লোগানে আকাশপথ জয় করা দেশের অন্যতম বেসরকারি এয়ারলাইন্স ইউএস-বাংলা। ওই বছরের ১১ জুলাই বিকেলে এ বিমানবন্দর থেকে ডানা মেলে সর্বোচ্চ সেবার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এ সংস্থার ফ্লাইট।

এরপর গত ০১ এপ্রিল এ রুটের বহরে যুক্ত হয় নভোএয়ারের এটিআর ৭২-৫০০ মডেলের এয়ারক্রাফট।

এখন সপ্তাহের শুক্রবার, রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার- এ চারদিন বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং শনিবার, সোমবার ও বুধবার- এ তিনদিন ইউএস-বাংলা ফ্লাইট পরিচালনা করছে। শুক্রবার, সোমবার ও বুধবার উড়োজাহাজ ছাড়ছে নভোএয়ার।

বিমানের ফ্লাইট সপ্তাহের চারদিন ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছাড়ে সকাল ৮টায়, পৌঁছে ৮টা ৪০ মিনিটে। আর রাজশাহীর শাহ্ মখদুম বিমানবন্দর থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে ছাড়ে সকাল ৯টায়, পৌঁছে ৯টা ৪০ মিনিটে।

ইউএস-বাংলার ফ্লাইট সপ্তাহের তিনদিন ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছাড়ে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে, পৌঁছে ২টা ৫০ মিনিটে। আর রাজশাহী থেকে রাজধানীর উদ্দেশ্যে ছাড়ে দুপুর ৩টা ১০ মিনিটে, পৌঁছে ৩টা ৫০ মিনিটে।

এছাড়া নভোএয়ারের ফ্লাইট সপ্তাহের তিনদিন ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছাড়ে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে, পৌঁছে বেলা ১১টা ৩০মিনিটে। আর রাজশাহী-ঢাকা রুটে ছেড়ে যায় বেলা ১২টায়, পৌঁছে ১২টা ৪৫ মিনিটে।

শাহ্ মখদুম বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক সেতাফুর রহমান জানান, এ বছর আপাতত এভাবেই উড়োজাহাজ চলাচল করবে। ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় অভ্যন্তরীণ রুটে আরও বেশি ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে আগামী নতুন বছরে।

তিনি বলেন, ‘আকাশপথে যাত্রী বৃদ্ধি আমাদের সবার জন্য আশাব্যঞ্জক। আগের চেয়ে মানুষের প্রয়োজনীয়তা ও সক্ষমতা দু’টিই বেড়েছে। এখন সময় বাঁচাতে নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য অনেকেই আকাশপথকে বেছে নিচ্ছেন। তাই এয়ারলাইন্সগুলোর কর্তৃপক্ষও যাত্রীদের সর্বাধিক সুযোগ-সুবিধার বিষয়টিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। এটি অব্যাহত থাকলে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না’।

রাজশাহীর নওহাটায় ১৬২ একর জমিতে ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বিমানবন্দরটি। ২০০৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিমানবন্দরটি ছিল লাভজনক অবস্থানে। তবে সময়মতো না ছাড়া-আসা এবং দুপুরে চলাচলের সময় থাকায় যাতায়াতে আগ্রহ হারান যাত্রীরা।

এক পর্যায়ে মাত্র দু’জন যাত্রী নিয়েও ফ্লাইট ছেড়েছে এ বিমানবন্দর থেকে। মালামাল বুকিংয়ের পরিমাণও কমতে থাকে। এ রুগ্নদশা চলতে চলতে ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কর্তৃপক্ষ এ রুটে উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে।

তবে ২০১০ সালে গ্যালাক্সি ফ্লাইং একাডেমি ও ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি নামে দু’টি প্রতিষ্ঠান পাইলট প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করে বিমানবন্দরটিতে।

২০১১ সালে সপ্তাহে দু’দিন ঢাকা থেকে সৈয়দপুর হয়ে রাজশাহী পৌঁছাতো ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের দু’টি ফ্লাইট। তবে কয়েকদিন পর সেটিও বন্ধ হয়ে যায়।

খবরঃ বাংলানিউজ