রাজশাহীতে বাগে আসছে না মেস-ছাত্রাবাস

রাজশাহী

পদ্মার তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা রাজশাহীকে বলা হয় শিক্ষানগরী। কেননা প্রায় ৯৭ (৯৬.৭২) বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই মহানগরীতে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আধিক্য।

এর মধ্যে রয়েছে একটি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ও। প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার ছাত্র-ছাত্রীদের বসবাস। বলা যায়, ছাত্র-ছাত্রীদের অভয়ারণ্য হচ্ছে রাজশাহী।

তবে আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, শিক্ষানগরী রাজশাহীতে তাদের জন্য অসংখ্য মেস বা ছাত্রাবাস থাকলেও এগুলোর বেশিরভাগেরই লাইসেন্স নেই। নেই কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থাও। মেসগুলোতে কারা থাকে, কোথা থেকে আসে, কোন উদ্দেশ্যে থাকে- তার কোনো তথ্য সংরক্ষণ করে না অধিকাংশ মেসই।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসন ও ট্রেড লাইসেন্স শাখা সূত্রে জানা যায়, মহানগরে ৩০টি ওয়ার্ডে মোট এক হাজার ২শ ৮৫টি মেস-ছাত্রাবাস রয়েছে। বেশি রয়েছে মহানগরীর ১১ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানে রয়েছে ২শ ১৭টি। আর সবচেয়ে কম রয়েছে এক নম্বর ওয়ার্ডে। ওই ওয়ার্ডে মেস রয়েছে মাত্র একটি। এগুলোর মধ্যে আগস্ট পর্যন্ত মাত্র ৫০টি মেস-ছাত্রবাসের ট্রেড লাইসেন্স মিলেছে।

ফলে মহানগরীজুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা এসব মেস-ছাত্রবাস অবস্থানের জন্য আদর্শ স্থান হয়ে উঠতে পারে জঙ্গি বা সন্ত্রাসীদের কাছেও। আর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে মহানগরী।

করপোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ মোহাম্মদ নূর-ঈ-সাইদ বলেন, যারা এখন পর্যন্ত লাইসেন্স না করে মেস-ছাত্রাবাস চালাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, গত কয়েক দিন থেকে বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহীর বাইরে থেকে আসা শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীরাই মহানগরীর মেসগুলোতে বেশি অবস্থান করে। অথচ সিট ভাড়া দেওয়ার সময় বোর্ডারদের সম্পর্কে সঠিকভাবে তথ্য সংগ্রহ করেন না অধিকাংশ মেসমালিক। খালি পড়ে থাকা সিট যতো দ্রুত সম্ভব ভাড়া দেওয়াটাই তাদের প্রধান টার্গেট। বলেন, কাগজপত্র পরে দিলেও চলবে।

নিরাপত্তার স্বার্থে বেশিরভাগ মেস-ছাত্রবাসে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়নি। বোর্ডারদের কাছ থেকে নেওয়া হয় না কোনো পরিচয়পত্রও। এছাড়া বিভিন্ন ইস্যুতে ব্যস্ত থাকায় মেসগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিয়মিত তদারকি করা হয় না। তাদের কাছে কোনো তালিকাও নেই। ফলে হঠাৎ কেউ ভাড়া না দিয়ে উধাও হলে বা কোনো অপরাধ ঘটিয়ে পালিয়ে গেলে তাদের আর শনাক্ত করা যায় না।

তবে মহানগরীর মাস্টারপাড়ায় অবস্থিত হাজী ছাত্রাবাস মালিক সেলিম শেখ মাসুদ বলেন, তাদের মেসে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নেই। প্রতিটি বোর্ডারের গতিবিধি লক্ষ্য করে সিট ভাড়া দেওয়া হয়।

তিনি দাবি করে বলেন, সিট ভাড়া দেওয়ার আগেই বোর্ডারের আইডি কার্ডের ফটোকপি ও ছবিসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে তা প্রশাসনের কাছে জমা দেন। ভাড়া দেওয়ার সময় বলে দেওয়া হয়, মেসে কোনো গেস্ট থাকতে পারবে না, তবে নির্ধারিত স্থানে এসে দেখা করতে পারবে।

মেস-ছাত্রাবাসের তালিকা প্রশ্নে রাজশাহী মহানগর পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক রাশেদুল ইসলাম জানান, মহানগরীতে ঠিক কতোগুলো মেস রয়েছে তা এ মুর্হূতে বলা সম্ভব হচ্ছে না।

কিন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ চলছে। মেস-ছাত্রাবাস মালিক ও বোর্ডারদের আলাদা ফরমে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে মেসগুলো নজরদারিতেই রয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও রাজপাড়া জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম বলেন, বর্তমানে পুরোদমে ভাড়াটিয়া নিবন্ধনের কাজ চলছে মহানগরীতে।

এছাড়া আলাদা ফরমে মেস-ছাত্রবাস মালিকদেরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কাজটি শেষ হলে অপরাধীরা আর কোথাও সহজেই আস্তানা গাঁড়তে পারবে না। এর পরও প্রতিটি থানার বিট পুলিশ সেখানকার মেসগুলোয় বসবাসরতদের গতিবিধি লক্ষ্য রাখছেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।

খবরঃ বাংলানিউজ