রাজশাহীতে বিকাশ নিয়ে প্রতারণার ফাঁদ ॥ প্রতারিত আইনজীবীর আদালতে মামলা

রাজশাহী

বিকাশের মাধ্যমে নিরাপদে অর্থ আদান প্রদানের কথা বলা হলেও বিকাশ নিয়ে চলছে নানান রকম প্রতারনা। এমনকি খোদ বিকাশ এজেন্টারও হরহামেশা প্রতারকের খপ্পড়ে পড়ে খোয়াচ্ছেন অর্থ। জনপ্রিয় হয়ে উঠা এই মাধ্যমটি প্রতারক চক্রের নিত্য নতুন প্রতারনার ফাঁদে ক্রমেই হয়ে উঠছে ঝুকিপূর্ন।

এ নিয়ে বিভিন্ন সময় পত্র পত্রিকায় শিরোনাম হলেও তাতে ভ্রুক্ষেপ নাই কতৃপক্ষের এমন অভিযোগ এজেন্ট থেকে গ্রাহকের। সমপ্রতি এমনি এক প্রতারনার শিকার হয়ে আদালতে মামলা করেছেন একজন আইনজীবী। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজশাহীর চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট “খ” আঞ্চল আদালতে বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন রাজশাহী আইনজীবী সমিতির সদস্য আজিমুশমান উজ্জল। আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জুলফিকার উল্লাহ  বাদির অভিযোগটি এজাহার হিসাবে গ্রহনের জন্য রাজপাড়া থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান বাদির আইনজীবী শামীম আখতার হৃদয়। মামলায় আসামি করা হয়েছে বিকাশ পরিচালক, স্বাধীনতা টাওয়ার জাহাঙ্গীর গেট ঢাকাসহ অজ্ঞাত আরো ৩ জনকে। অভিযোগে বলা হয়েছে গত ৫ ডিসেম্বর বিকাল ৪ টার দিকে বাদির বোনর স্বামী কক্সবাজার বিকাশ এজেন্ট নং – ০১৭৭৮৭০৭১৭০ নম্বর থেকে ১০ হাজার ২০০ টাকা প্রেরন করেন। ওইদিনই বিকাল পোনে ৬ টার দিকে বাদি রাজশাহী মহানগরীর লক্ষীপুর পুলিশ বক্সের পাশে অবস’ান কালে অজ্ঞাত ব্যক্তি ০১৭৫৯৮২৬৪৫১ নম্বর মোবাইল থেকে ফোন করে বাদিকে বলে তার বিকাশ নম্বরটি ভুল আছে এবং তার বিকাশ নম্বরে ১০ হাজার ২০০ টাকা আছে। যা কখনো উত্তোলন করা যাবে না। বাদি তার পরিচয় জানতে চাইলে বিকাশ অফিস ঢাকার পরিচয় দেয়। বাদি তাকে বিকাশ হেল্প লাইন থেকে ফোন দেয়ার কথা বললে তাৎক্ষনিক ১৬২৪৭ নম্বর হতে বাদিকে ফোন দিয়ে তার বিকাশ নম্বর চালু করার জন্য কিছু নাম্বার ডায়াল করতে বললে বাদি তা করে। এর পর বিকাশ পাশের বিকাশ এজেন্টের নিকট গিয়ে জানতে পারেন তার ক্যাশ আউট হয়ে গেছে। বাদি বিকাশ হেল্প লাইনে ফোন দিয়ে ক্যাশ কোন নাম্বারে গেছে তা জানতে চাইলে তাকে রাজশাহী নিউমার্কেটের পাশের বিকাশ সেন্টারে যেতে বলে। বাদি পরদিন ৬ ডিসেম্বর বাদি বিকাশ সেন্টারে গিয়ে জানতে পারেন দুজন অজ্ঞাত ব্যক্তির ব্যক্তিগত বিকাশ ০১৭৯০৪৮৮১৩৯ এবং ০১৮৪১০৪৩০৩১ নম্বরের মাধ্যমে বাদির টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। বাদির অভিযোগে আরো বলা হয় প্রতারক চক্র বিকাশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে যোগসাজসী করে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন জনকে প্রতারিত করে আসছে। এই মামলার আরেক স্বাক্ষী এডভোকেট মেজবাউদ্দিন আহমেদ বাবলুর নিকট এই নম্বর ০১৮২২২২২৩৭৯ থেকে ফোন দিয়ে ১০ হাজা টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারকরা। এদিকে অপর এক সূত্র জানায় কয়েক দিন পূর্বে একজন বিচারকও তার মায়ের নিকট টাকা পাঠিয়ে প্রতারনার শিকার হন।
বিকাশের মাধ্যমে অর্থ আদান প্রদান সহজ এবং দ্রুত সময়ে হওয়ায় তা জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে উঠে মানুষের নিকট। কিন’ প্রতারক চক্রের নানান কৌশলে প্রতারিত হওয়ার ভয়ে গ্রাহকের পাশাপাশি শংকীত খোদ বিকাশ এজেন্টরা। বিকাশ ব্যবসা ক্রমেই ঝুকিপূর্ন হয়ে উঠছে এমনই মন্তব্য এজেন্টদের। আর প্রতারনার ভিন্ন কৌশলে ব্যবসা নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন এজেন্টরা। সূত্র বলছে এক শ্রেণীর প্রতারক ভূয়া ম্যাসেজ দিয়ে এজেন্টদের প্রতারনার জালে জড়িয়ে অর্থ  হাতিয়ে নিচ্ছিল। এজেন্টরা সর্তক হওয়ায় কৌশল বদলিয়ে এজেন্টের সিম কার্ড উঠিয়ে নেয়ারও ঘটনা ঘটেছে। ঘটেছে আরো চমকপ্রদ ঘটনা। কোর্ট এলাকার এক বিকাশ এজেন্টের একাউন্ট থেকে ৬৭ হাজার টাকা গায়েব হয়ে গেছে। এব্যাপারে রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানায় সাধারন ডায়েরীও করেছিলেন ওই এজেন্ট। তার বিকাশ এজেন্ট নং ০১৭৭০৬১৯৫৮৪। সূত্র বলছে এমনি ঘটনার শিকার হয়ে ৩৭ হাজার টাকা খুইয়েছেন নগরীর লক্ষীপুর এলাকার এক এজেন্ট।

সহজে টাকা পাওয়ার এই পদ্ধতিটি মানুষ সাদরে গ্রহন করে নেয় এবং ক্রমেই বিকাশ ব্যবসা ছড়িয়ে পড়ে দেশের আনাচে কানাচে। মানুষের কল্যানে প্রযুক্তির অগ্রগতি সাধিত হওয়ার সাথে সাথে প্রতারকরাও নতুন নতুন কৌশল আবিষ্কার করছে প্রতারনার। সূত্র বলছে বিকাশে প্রতারনার কবলে পড়েছেন অনেকেই। বিভিন্ন আঙ্গিকে একের পর এক প্রতারনার ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত এই চক্রের হোতা বা জড়িতদের  রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় সংঘবদ্ধ এই চক্রটি অবলিলায় চালিয়ে যাচ্ছে তাদের অপকর্ম।

খবরঃ দৈনিক সোনালী সংবাদ

1 thought on “রাজশাহীতে বিকাশ নিয়ে প্রতারণার ফাঁদ ॥ প্রতারিত আইনজীবীর আদালতে মামলা

Comments are closed.