রাজশাহীতে বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধারের ঘটনায় ইদু গ্রেপ্তার

রাজশাহী

রাজশাহী মহানগরীতে সাড়ে ৪ কেজি ৫৪০ গ্রাম বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধারের ঘটনায় আরো এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তার নাম ইদু মিয়া (৩০)। তিনি কুমিল্লা সদর উপজেলার শুভপুর গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে।

গ্রেপ্তারকৃত ইদু চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত থেকে কুমিল্লায় বড় বিস্ফোরকের চালান নিতে ইতিপূর্বে গ্রেপ্তারকৃত তিন ব্যক্তিকে সম্পৃক্ত করেছিলেন। বিস্ফোরকের দাম মেটানোসহ সার্বিক বিষয়টি তিনি কুমিল্লা থেকেই নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) এবং কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এসব তথ্য এখন যাচাই করে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বুধবার দিবাগত রাতে তাকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে রাজশাহীতে আনা হয়। বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহাদাত হোসেন খান কৃহস্পতিবার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শক্তিশালী ওই বিস্ফোরকগুলো ইদুর কাছেই পৌঁছানোর কথা ছিল।

এর আগে গত সোমবার রাতে নগরীর শিরোইল এলাকায় ঢাকাগামী যাত্রীবাহী একটি বাস থেকে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আকুইশা গ্রামের শফিকুর রহমানের ছেলে আবদুল লতিফ (৩৫) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বারিকবাজার গাজিপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে সাকিরুল ইসলামকে (৩৪) বিস্ফোরকসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার বিস্ফোরকের সরবরাহকারী হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চাঁদলাই গ্রামের তরিকুল ইসলামের ছেলে ফরহাদ হোসেনকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বোয়ালিয়া থানায় আলাদা দুটি মামলা করে পুলিশ।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা বোয়ালিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান জানান, গত বুধবার তিনি তিন আসামির ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন। বৃহস্পতিবার আবেদনের শুনানি হয়। এদিন আসামি ইদুকেও আদালতে তুলে তারও ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। পরে শুনানি শেষে আদালত ইদুর সাত দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আর বাকি তিন আসামির রিমান্ড মঞ্জুর হয় পাঁচ দিন করে।

মতিউর রহমান জানান, রাজশাহীর মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক জুলফিকার উল্লাহ বিকেলে রিমান্ডের এই আদেশ দিয়েছেন। পরে সন্ধ্যায় সব আসামিকেই থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

এদিকে বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলাটির তদন্ত করছেন নগরীর মালোপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাসির আহমেদ। তিনি সব আসামিকে ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেছেন। প্রথম রিমান্ড শেষ হলে তার আবেদনের শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

এসআই নাসির আহমেদ বলেন, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরক দ্রব্যগুলো ঢাকা হয়ে কুমিল্লা যেত। সেসব বিস্ফোরক দিয়ে বোমা বানিয়ে তা নাশকতার কাজেই ব্যবহার করা হতো।

খবরঃ রাইজিংবিডি