রাজশাহীতে বৈশাখ নিয়ে তরুণদের ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ

রাজশাহী

আগামীকাল শুক্রবার বাংলা ১৪২৪ বর্ষের প্রথম দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখ। বাঙালীরা এ দিনটিকে অত্যান্ত উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে দিয়ে উৎযাপন করে। এ দিনটিকে উৎযাপনের একটি অংশ হিসেবে অতীতে পহেলা বৈশাখ উৎযাপন করা হতো পান্তাভাত, কাঁচামরিচ, পিঁয়াজ আর আলুভর্তা খেত বাঙালিরা। তবে বর্তমান সময়ে পান্তাভাত’র সঙ্গে ইলিশ মাছ খাওয়াকে যুক্ত করে নিয়েছে তারা।

এদিকে বছরের এই সময়টি ইলিশের প্রজননকাল। প্রজননকালে ইলিশ খেয়ে বৈশাখ উৎযাপন করার ফলে ইলিশ মাছের স্বাভাবিক বংশবিস্তার ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তাই পহেলা বৈশাখে ইলিশ মাছ খাওয়া থেকে বিরত থাকার মধ্যে দিয়ে ইলিশ মাছের বংশবিস্তার স্বাভাবিক রাখতে জনগনকে সচেতন করার লক্ষে ব্যতিক্রম উদ্যোগ গ্রহণ করছে রাজশাহী মহানগরীর একঝাঁক তরুণ।

গতকাল বুধবার বিকেলে নগরীর বড়কুঠি মুক্তমঞ্চে ‘আসুন আমরা ইলিশ মুক্ত পহেলা বৈশাখ পালন করি’ শিরোনামে জনসচেতনতামূলক ব্যতিক্রমধর্মী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে রাজশাহী মহানগরীর একদল সংস্কৃতিমনা তরুণ। তারা বাদ্যযন্ত্র (গিটার) নিয়ে খালি গলায় গান গেয়ে জনগনকে আনন্দ দেয়। পাশাপাশি পহেলা বৈশাখ উৎযাপনের নামে ইলিশ মাছের প্রজননকালে ইলিশ মাছ খাওয়া হতে রিবত থাকার জন্য জনগণকে সচেতন করে।

ব্যাতিক্রমধর্মী এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন, বাদ্যযন্ত্র বাদক (গিটারিস্ট) যথাক্রমে- সিফাত, আকাশ, আলভী, আল ইস্তিয়াক, নিলয়, সাকিব, শুভ, আলামিন, সিজু, ফাহিম, সাদীদ পারভেজ প্রমুখ।

তাদের এ অনুষ্ঠান দেখে ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই অশ্চর্য হয় এবং তরুণদের ব্যতিক্রমধর্মী এ উদ্যোগের প্রশংশা করেন।

ব্যাতিক্রমধর্মী এ আয়োজনের উদ্যোক্তাদের একজন আল ইস্তিয়াক বলেন, ‘ইলিশ হচ্ছে আমাদের জাতীয় মাছ। বছরের এই সময়টি ইলিশের প্রজননকাল। অথচ বৈশাখ পালনের নামে ইলিশের প্রজননকালীন সময় ইলিশ শিকার করে জনগণ খেয়ে নিচ্ছে। এতে মাছের স্বাভাবিক বংশবিস্তার ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তাই প্রজননকালীন সময়ে ইলিশ খাওয়া থেকে রাখতে এবং মাছের স্বাভাবিক বংশবিস্তার রক্ষা করতে জনগণকে সচেতন করার লক্ষে আমাদের এ ক্ষুদ্র উদ্যোগ।

খবরঃ দৈনিক সানশাইন

4 thoughts on “রাজশাহীতে বৈশাখ নিয়ে তরুণদের ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ

Comments are closed.