রাজশাহীতে মেঘলা আকাশ, বইছে ঠাণ্ডা বাতাস

রাজশাহী

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে রাজশাহীতে শনিবার (৯ নভেম্বর) সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। সকাল থেকেই কালো মেঘে ঢেকে আছে রাজশাহীর আকাশ। সেসঙ্গে বইছে ঠাণ্ডা বাতাস। তবে, শাহ মখদুম (রহ.) বিমানবন্দর অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী ফ্লাইটগুলোর উঠানামা এখনো স্বাভাবিক রয়েছে।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে, তেমন কোনো আশঙ্কা না থাকলেও ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে শনিবার বিকেল থেকে রাজশাহীতে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হবে। বাতাসের তীব্রতা বাড়বে আরও।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে শুক্রবার (৮ নভেম্বর) বিকেল থেকেই রাজরাজশাহীর আবহাওয়া পরিবর্তন হতে শুরু করে। শনিবার সকালে পুরোপুরি পাল্টে যায়। মেঘলা আবহাওয়া ও ঠাণ্ডা বাতাস জানান দিচ্ছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আসছে। এছাড়া ঠাণ্ডা বাতাসের কারণে হেমন্তের শেষভাগেই অনুভূত হচ্ছে শীতের আমেজ।

পরিবর্তিত আবহাওয়ার কারণে প্লেন ওঠা নামায় কোনো সমস্যা হচ্ছে কী না জানতে চাইলে রাজশাহীর শাহ মখদুম (রহ.) বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক সেতাফুর রহমান বলেন, আবহাওয়া মেঘলা থাকলেও প্লেন ওঠা নামায় তাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ রুটের সব ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে বৃষ্টি হলে এবং আবহাওয়া অন্যরকম রূপ নিলে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন হতে পারে বলে উল্লেখ করেন বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক।

শনিবার ভোর ৬টা ১৭ মিনিটে সূর্যোদয় হলেও মেঘের কারণে তার মুখ দেখা যায়নি বলে জানান রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক দেব কুমার মৈত্র।

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল’র প্রভাবে শনিবার আবহাওয়ায় ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। সকাল থেকে কালো মেঘে ঢেকে আছে রাজশাহীর আকাশ। ভোর ৬টায় রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওই সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ।

সাত কিলোমিটার বেগে রাজশাহীতে ঠাণ্ডা বাতাস বয়ে যাচ্ছে বলেও যোগ করেন এই আবহাওয়া কর্মকর্তা।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল’র প্রভাবে আবহাওয়া কেমন থাকবে প্রশ্নে রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন বলেন, খুব একটা বেশি আশঙ্কা নেই রাজশাহীর জন্য। তবে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বিকেল থেকে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হতে পারে। সেসঙ্গে বয়ে যাবে দমকা হওয়া। ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আঘাত হানলে এই বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়ার তীব্রতা বাড়তে পারে। পাশাপাশি এখন পর্যন্ত রাজশাহীর জন্য আর কোনো পূর্বাভাস নেই বলেও জানান কামাল উদ্দিন।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের জন্য এরই মধ্যে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে চার নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে, এমন তথ্যই জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ বাংলানিউজ২৪