রাজশাহীতে মেয়েদের পছন্দ কারুকরা পোশাক, ছেলেদের পাঞ্জাবি

রাজশাহী

শেষের পথে মাহে রমজান, ঈদ কড়া নাড়ছে প্রতিটি দরজায়। ঈদ উপলক্ষে কেনাকাটায় ব্যস্ত সচ্ছল মানুষরা।

রাজশাহীর মার্কেটগুলোতে রমজানের শুরুতে তেমন ক্রেতা না থাকলেও এখন  উপচেপড়া ভিড়। নারীদের নজর বিভিন্ন কারুকরা পোশাকে। আর ছেলেরা ঝুঁকছেন পাঞ্জাবিতে।

রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার আরডিএ মার্কেট, নিউমার্কেট, কোর্ট নিউমার্কেট ও ফুটপাতসহ সব মার্কেটেই ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকারি চাকরিজীবীরা ঈদ বোনাস রমজানের মাঝামাঝিতেই পাওয়ায় বেচাকেনা মূলত শুরু হয়েছে ২০ রোজার পর থেকে।

এবার ঈদের টানা ৯ দিনের ছুটি শুরু হতে যাচ্ছে শুক্রবার থেকে। যারা স্বজনদের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটাতে বাড়ি যাবেন, তারাও সেরে নিচ্ছেন ঈদের কেনাকাটা।

সব মিলিয়ে রাজশাহীর ঈদের বাজার এখন বেশ জমজমাট। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর মার্কেটগুলো। আশপাশ জেলার ক্রেতারাও ভিড় করছেন রাজশাহীর মার্কেটগুলোতে।

দোকান মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের পোশাকের দাম একটু বেশি। বিভিন্ন ধরনের কারুকাজ করা থ্রি-পিস ও শাড়ি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ২২ হাজার টাকার মধ্যে। আর ছেলেদের পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, শার্ট, জিনস প্যান্ট পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ১২ হাজার টাকার মধ্যে।

এ বছর ঝিলিক, পাখি, বাজিরাও এবং সারারাসহ ভারতীয় নানা পোশাক থাকলেও এসবের দিকে ক্রেতাদের নজর একটু কম বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। তবে হাতের কারুকাজ করা দেশি বিভিন্ন ধরনের থ্রি-পিস ও শাড়ি কাপড়ের দিকে ঝুঁকছেন তারা।

নগরীর আরডিএ মার্কেটে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা কলেজছাত্রী ফারজানা ইয়াসমিন জানালেন, তিনি বাজিরাও থ্রি-পিস কেনার জন্য বাজারে এসেছিলেন। কিন্তু কারুকাজ করা দেশীয় থ্রি-পিস ভালো লাগায় তিনি সেটিই কিনলেন।

এদিকে ঈদ উপলক্ষে মার্কেটে ছেলেদের বিভিন্ন ধরনের শার্ট, টি-শার্ট এলেও পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে পাঞ্জাবি। অধিকাংশ ছেলেই পাঞ্জাবি কিনছেন। নগরীর নামিদামি বিপণিবিতান ও ফ্যাশন হাউজসহ ফুটপাতে রয়েছে পাঞ্জাবির সমাহার। যে যার সাধ্যমত পাঞ্জাবি কিনছেন। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে পাঞ্জাবির দোকানগুলোতেও ভিড় তত বাড়ছে।

ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, দোকানে ক্যাজুয়াল, সিল্ক, ভয়েল জর্জেট, অ্যান্ডি, জামেবার, এক্সক্লুসিভ ও ওয়েডিংসহ বাহারি সব পাঞ্জাবি ৫০০ থেকে শুরু করে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এসব পাঞ্জাবির মধ্যে সুতির কাজ করা পাঞ্জাবির চাহিদা আবার একটু বেশি।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী থেকে নগরীতে পাঞ্জাবি কিনতে আসা এসএম নাসিম উদ্দিন বলেন, ‘ভারতীয় ও পাকিস্তানি পাঞ্জাবির চেয়ে এবার দেশি পাঞ্জাবি বেশ উন্নত। আমার কাছে দেশি পাঞ্জাবিই ভালো লেগেছে। দেশি পাঞ্জাবির দামও ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে।’

এদিকে বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, এবার ৭ থেকে ১২ বছর বয়সি শিশুদের পরিমনি ড্রেস ৮০০ থেকে ১৯০০ টাকা, লেহেঙ্গা ৭০০ থেকে ১৫০০ টাকা, ফ্রক ৫০০ থেকে দেড় হাজার টাকা, থ্রি-পিস ৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা এবং কিরণ মালা ৬০০ থেকে ১৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আর ছেলেদের শার্ট ৩০০ থেকে ৯০০ টাকা, চেক ফতুয়া ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, গেঞ্জি ২০০ থেকে ৮০০ টাকা, থ্রি কোয়ার্টার ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং হাফ প্যান্ট ৩০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খবরঃ রাইজিংবিডি