রাজশাহীতে রেললাইন ঘেঁষে বাড়িঘর, দোকান

রাজশাহী

রেললাইনের দুই পাশে বাড়িঘর আর দোকানপাট। বাঁশি না বাজালে বোঝার উপায় নেই যে চলন্ত ট্রেন কতটা কাছে এসেছে পড়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাজশাহী নগরের বর্ণালির মোড় এলাকায় কিছু বুঝে ওঠার আগেই ট্রেনে কাটা পড়েন এক ব্যক্তি। নগরের রেললাইনের দুই পাশের অনেক দোকান রেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে করা হলেও সব বসতবাড়ি জমি দখল করে নির্মিত হয়েছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, পর্যাপ্ত তহবিল না থাকায় অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না। নগরের বহরমপুর এলাকায় রেললাইনের ধারে বাড়ি করে আছেন আনোয়ারা বেগম (৫০)। ঘরবাড়ির মধ্য দিয়ে কখন তাঁর বাড়ির কাছে ট্রেন চলে আসে বোঝাই যায় না। তাঁর বাড়ির পাশেই বাচ্চারা রেললাইনের ওপর বসে খেলছে। আনোয়ারা বেগম বলেন, তাঁরা পাকিস্তান আমল থেকে এখানে বাড়ি করে আছেন। এখানেই বড় হয়েছেন। তাঁদের বাচ্চারা কখনো ট্রেনে কাটা পড়ে না। ট্রেন এলে বাচ্চারা ঠিকই বুঝতে পারে। বাইরের লোকজন যাঁরা এই এলাকায় নতুন আসেন, তাঁরাই বুঝতে পারেন না। আর তাঁরাই ট্রেনে কাটা পড়েন।

একই এলাকার বাসিন্দা মনিরা বেগম (২৫) বলেন, তিনিও এখানে বড় হয়েছেন। এখানেই তাঁর বিয়ে হয়েছে। স্বামী রিকশা চালান। রেলের জমিতেই বাড়ি করে আছেন তাঁরা। যাওয়ার কোনো জায়গা নেই তাঁদের। তিনি বলেন, মাঝেমধ্যে ভেঙে দেয়। আবার তাঁরা আসেন। জায়গা কারও নিজের নয়। কিন্তু কেউ ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় অন্য কারও কাছে ঘরবাড়ি বেচে দিয়ে যান। নতুন যিনি আসেন, তিনি শুধু ঘরের দামটুকু দেন। রাজশাহী নগরের সিটি বাইপাস রেলক্রসিংয়ের পশ্চিম পাশে ঠিক রেললাইন ঘেঁষে একটি লাকড়ির দোকান রয়েছে। এই দোকানের কারণে পশ্চিম দিক থেকে কোনো ট্রেন এলে ঠিক লাইনের ওপরে না উঠলে দেখার উপায় নেই। এখানেই কয়েক বছর আগে ছোট বাচ্চাকে মোটরসাইকেলের পেছনে বসিয়ে লাইনের ওপর উঠে গিয়েছিলেন বাবা। তিনি আর গাড়ি ঘোরাতে পারেননি। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। বাচ্চাটি পেছন থেকে নেমে যাওয়ায় বেঁচে যায়। দোকানের মালিক ফাতেমা বেগম দাবি করেন, তিনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে ২৫ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছেন। এ বছরও চার হাজার টাকা ইজারামূল্যও তিনি পরিশোধ করেছেন।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর এরশাদ আলী নামে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি এক কর্মকর্তা রাজশাহী নগরে ভিসা-সংক্রান্ত কাজে এসেছিলেন। এই এলাকায় এসে রেললাইন পার হতে গিয়ে কিছু বুঝে ওঠার আগেই ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি। বছর দুই আগে একইভাবে নগরের কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, অনেক দোকানপাট ইজারা নিয়ে করা হয়েছে। কিন্তু রেললাইন থেকে অন্তত ১০ ফুট জায়গা ছাড়ার কথা। আর এই জায়গাটাই কেউ ফেলে রাখতে চায় না। এটাই সমস্যা। আর বাড়িঘর যারা করেছে, অবৈধভাবে করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের ১ হাজার ৮০০ কিলোমিটার রেলপথের পাশের ৫০ হাজার একর জমি নিষ্কণ্টক রাখার জন্য অবৈধ দখলমুক্ত করতে বছরে বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। এই টাকা দিয়ে বিশাল এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো সম্ভব হয় না।

খবরঃ প্রথম আলো

3 thoughts on “রাজশাহীতে রেললাইন ঘেঁষে বাড়িঘর, দোকান

Comments are closed.