রাজশাহীতে ‘লকডাউন’ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত রোববার

রাজশাহী

সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের পর এবার করোনায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বিভাগীয় শহর রাজশাহী। প্রতিদিনই বাড়ছে সংক্রমণ, করোনা শনাক্তের হার প্রায় ৫০ শতাংশের কাছে।

এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে করোনা মোকাবিলায় নিম্ন আয়ের মানুষকে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে রাজশাহীতে ‘কঠোর লকডাউন’ দেওয়ার দাবিতে রাজশাহী জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দিয়েছেন ১৪ দলীয় জোটের রাজশাহীর নেতারা।

শনিবার (৫ জুন) বিকেলে রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিলের কাছে স্মারকলিপি দেন জোটের স্থানীয় শীর্ষ নেতারা।

এতে রাজশাহীতে ভয়াবহ করোনার উচ্চ সংক্রমণ ঠেকাতে জনগণের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসককে ‘কঠোর লকডাউন’ ঘোষণা করতে আহ্বান জানানো হয়। এ নিয়ে বিকেলে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সঙ্গে আলোনায় বসেন ১৪ দলের নেতারা। তারা কেবল রাতের বেলায় রাজশাহীতে বিধিনিষেধ জারিকে অপর্যাপ্ত বলে উল্লেখ করেন এবং সম্পূর্ণ  লকডাউনের জন্য জেলা প্রশাসককে অনুরোধ জানান।

জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, নগর পুলিশ ও সিটি মেয়র যদি রাজি থাকেন এবং কঠোর লকডাউন কার্যকরে ভূমিকা রাখেন তাহলে লকডাউন দিতে তার কোনো আপত্তি নেই।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক আরও বলেন, কঠোর লকডাউন দিলে ১৫ হাজার রিকশাচালক, ১ লাখ বস্তিবাসীর দায়িত্ব কে নেবে? ২০০০ কোটি টাকার আম ব্যবসার কী হবে? তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া কীভাবে সম্ভব? কঠোর লকডাউন দিতে হলে কাঁচাবাজারসহ সবই বন্ধ করতে হবে। এছাড়া সম্পূর্ণ লকডাউন সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

১৪ দলের নেতারা সম্মিলিত উদ্যোগের কথা বললে জেলা প্রশাসক সমন্বয় সভার প্রস্তাব দেন। সেই অনুযায়ী রোববার (৬ জুন) বেলা ৩টায় সিটি মেয়র, সংসদ সদস্য, ডিসি, পুলিশ কমিশনার, এসপি, সিভিল সার্জন ও ১৪ দলের নেতাদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়। সেখানে সমন্বিত আলোচনার পর ‘কঠোর লকডাউন’ প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলেও ১৪ দল নেতাদের জানানো হয়।

শনিবারের সভায় রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রামাণিক দেবু, মহানগর জাসদের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ শিবলী, বাংলাদেশ জাসদের মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, জাসদের মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিরুল হক বাবু, মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য আব্দুল মতিন, মনির উদ্দিন পান্না, মহানগর সদস্য সীতানাথ বণিকসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

রাজশাহীর করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, গত এক মাসে রাজশাহীজুড়ে করোনা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে। মৃত্যু ও সংক্রমণের সংখ্যা প্রতিদিনই নতুন রেকর্ড গড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। রামেক হাসপাতাল তার পরিধি অনুযায়ী করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে অনেকটাই হিমশিম খাচ্ছে।

করোনা মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের আরোপিত বিধিনিষেধ ‘পর্যাপ্ত নয়’ উল্লেখ করে স্মারকলিপিতে বলা হয়, মৃত্যু ও সংক্রমণর উদ্বেগজনক এমন পরিস্থিতিতে গত ২ জুন স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে যে ‘বিধিনিষেধ’ আরোপ করা হয়েছে তা বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী পর্যাপ্ত নয়। মানুষের জীবন রক্ষা করতে হলে এবং করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই মুহূর্তে বিকল্প পদ্ধতি ‘কঠোর লকডাউন’ দিতে হবে।

করোনা সংক্রমণ বাড়ায় গত বুধবার (০২ জুন) বিকেল ৪টার দিকে রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন বিধিনিষেধ জারি করেন।

বিধিনিষেধ অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত শপিংমলসহ অন্যান্য দোকানপাট বন্ধ রাখতে হবে। তবে দোকানপাট থেকে অনলাইনে পণ্য বিক্রি করা যাবে। কোনো ক্রেতা সশরীরে দোকানে যেতে পারবেন না। অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে যাওয়া যাবে না। খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ খোলা থাকবে। তবে সেখান থেকে কেবল খাবার সরবরাহ করা যাবে। কোনো অবস্থাতেই হোটেলে বসে আর খাওয়া যাবে না।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ বাংলানিউজ