রাজশাহীতে শাহাবুল হত্যা: হদিস মেলেনি ৮ লাখ টাকার

রাজশাহী

জমি কেনাবেচার টাকার দ্বন্দ্বের জের ধরেই খুন হতে পারেন ব্যবসায়ী শাহাবুল ইসলাম। এ নিয়ে রুবেলের সঙ্গে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব ছিল শাহাবুলের। তাই প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা এ জন্যই তাকে পরিকল্পিতভাবে তুলে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়াও অপহরণের দিন ব্যংক থেকে তোলা শাহাবুলের ৮ লাখ টাকার কোন হদিস পায়নি পুলিশ।

এই অবস্থায় শাহাবুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অন্যতম আসামি টাইগারকে (৩৫) তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পবা থানা পুলিশ। মঙ্গলবার আদালতে রিমান্ড মঞ্জুরের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে থানা হেফাজতে নেয়া হয়। তার কাছ থেকেই এই ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তবে অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার ও মামলার তদন্ত স্বার্থে এখনই সব তথ্য বলা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পবা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হাসমত আলী।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ী শাহাবুলকে দু’টি কারণে হত্যা করা হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে জমিজমা বিক্রি টাকা নিয়ে শাহাবুলের সঙ্গে প্রতিপক্ষ রুবেলের দ্বন্দ্ব বেশী গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এছাড়া মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে তারা আরও একটি কারণ খুঁজে পেয়েছেন। সেটি হল ক্রিকেট বেটিং। সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হাসমত আলী বলেন, জমিজমা কেনাবেচার টাকা নিয়ে রুবেলের সঙ্গে শাহাবুলের দ্বন্দ্ব চলছিল। চার মাস আগে রুবেল ৯ লাখ টাকায় রাজশাহী মহানগরীর ফেত্তাপাড়া এলাকায় সাত কাঠা জমি কেনেন। পরে প্রায় একই দামে জমিটি শাহাবুলের কাছে বিক্রি করেন রুবেল। এক মাস আগে রুবেলকে ৬ লাখ টাকা পরিশোধ করেন শাহাবুল। কিন্তু বাকি টাকা দিয়ে জমিটি দ্রæত রেজিস্ট্রির জন্যও শাহাবুলকে চাপ দিচ্ছিল রুবেল। ২১ সেপ্টেম্বর অপহরণের দিন শাহাবুল ব্যাংক থেকে ৮ লাখ টাকাও তোলেন। কিন্তু পরে তার কাছ থেকেই আর সেই টাকা পাওয়া যায়নি।

নিহতের স্বজনদের বরাদ দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, রাজশাহী নগরের দাশপুকুর এলাকায় শালুর চেম্বারে দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেটের বেটিং (বাজি) নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রুবেল ও টাইগার বেটিং চক্রের মূল হোতা ও শালুর ডান হাত হিসেবে কাজ করত। মাছ চাষ ও জমি কেনাবেচা ব্যবসার পাশাপাশি শাহাবুল ওই চেম্বারে নিয়মিত ক্রিকেট বেটিং খেলতেন। কয়েক মাস আগে শাহাবুল ৪০ লাখ টাকা জিতেও নেন। কিন্তু তাকে টাকা না দিয়ে ঘুরাতে থাকে শালু, রুবেল ও টাইগার। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে শাহাবুলের দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

পবা থাানার পুলিশ পরিদর্শক হাসমত আলী আরও বলেন, শাহাবুল হত্যায় টাইগারকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে বেশকিছু তথ্যও পাওয়া গেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। অন্যরা গ্রেপ্তার হলে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হবে বলেও আশা করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, গত ২২ সেপ্টেম্বর পবা উপজেলার দারুশা ইউনিয়নের কৈকুড়ি এলাকার রাজশাহী-গোদাগাড়ী সড়কের পাশের জঙ্গল থেকে মাছ ব্যবসায়ী শাহাবুল ইসলামের (৩২) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি মহানগরীর কাশিয়াডাঙা ফেত্তাপাড়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। ওইদিনই শাহাবুলের মা মালেকা বেগম পবা থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আসামিরা হলেন, নগরের দাশপুকুর চামারপাড়া এলাকার রাব্বুল, রাব্বুলের তিন ছেলে রুবেল, সোহেল ও লাভলু এবং রুবেলের গাড়িচালক বাবলু ও একই এলাকার টাইগার। এর মধ্যে টাইগারকে গ্রেপ্তার করে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

খবরঃ ডেইলি সানশাইন

1 thought on “রাজশাহীতে শাহাবুল হত্যা: হদিস মেলেনি ৮ লাখ টাকার

Comments are closed.