রাজশাহীতে সুমনের নাক-কান কেটে দাঁতগুলো তুলে ফেলেছিল বন্ধুরা

রাজশাহী

বন্ধুদের বর্বর নির্যাতনে মারাত্মকভাবে আহত স্কুলছাত্র সুমন আলী (১২) মারা গেছে। নির্যাতনের সাত দিনের মাথায় রোববার মধ্যরাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার।

সুমন জেলার তানোর উপজেলার সাহাজীপাড়া গ্রামের হাসান আলীর ছেলে। এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়তো সে।

গত ৬ জুন বন্ধুরা তার নাক ও দুই কান কেটে নেয়। হাতুড়ি পেটায় ভেঙে ফেলে বুকের কয়েকটি হাড়। ফেলে দেয় সবগুলো দাঁত। ওই দিনই মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে রামেক হাসপাতালে নেয়া হয়। এরপর থেকে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিল ওই স্কুলছাত্র।

রামেক হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মোশাররফ হোসেন জানান, রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে। রামেকের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার বিকেলে মরদেহ নিয়ে গেছেন স্বজনরা।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তানোর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল ইসলাম বলেন, আগের হত্যাচেষ্টার মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রুপান্তর হবে। মামলার আসামিরাও সব কারাগারে আছে। তদন্ত শেষে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

অভিযোগের বরাত দিয়ে ওসি বলেন, গত ৬ জুন তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুমনের উপর বর্বর নির্যাতন চালায় তারই তিন বন্ধু। ওই দিনই ছেলেকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন সুমনের বাবা হাসান আলী।

আসামিরা হলো, উপজেলার তাঁতিহাটি হাটখোলাপাড়া গ্রামের সুশীল চন্দ্রের ছেলে গোবিন্দ চন্দ্র (১৫), সুলতানের সরেনের ছেলে রকি সরেন (১৩) এবং বড়পুকুরিয়া হঠাৎপাড়ার কাদন সরেনের ছেলে আপন সরেন (১৩)। মামলার পরই পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে আদালতে তোলে। বর্তমানে কিশোর সংশোধণাগারে রয়েছে তারা।

খবরঃ জাগো নিউজ

13 thoughts on “রাজশাহীতে সুমনের নাক-কান কেটে দাঁতগুলো তুলে ফেলেছিল বন্ধুরা

  1. এরা কি মানুষ।। এই ভাবে কাওকে মারতে পারে। মারবি যখন একবারে মার ছেলে টা ৭ দিন।।। ভাবা যাই।।।

  2. এত কম বয়সের ছেলেদের যদি এমন আচারন হয় তাহলে বাকী বয়স তো পড়ে আছে।

Comments are closed.