রাজশাহীতে স্কুল ছাত্র নির্যাতন, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য আটক

বাঘা রাজশাহী

রাজশাহীর বাঘায় মোবাইল চুরি অভিযোগে এক স্কুল ছাত্রকে পায়ে দড়ি বেঁধে নির্যাতন করেছেন এক পুলিশ সদস্য ও তার দুই ভাই। নির্যাতনকারী পুলিশ সদস্য হাফিজুল ইসলাম ওরফে জিল্লুরকে আটক করেছে বাঘা থানা পুলিশ।

নির্যাতিত স্কুল ছাত্র মনিরুল ইসলাম আহত অবস্থায় বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। নারায়ণপুর গাঁওপাড়া গ্রামের মিঠু আলীর ছেলে মনিরুল বাঘা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্র।

সোমবার (২৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার নারায়ণপুর বাজারে নির্যাতনের এ ঘটনা ঘটে। বিকেলে বাঘা থানা পুলিশ নির্যাতনকারী পুলিশ সদস্যকে আটক করলেও তার অন্য দুই ভাই পালিয়ে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চকছাতারী গ্রামের হারান প্রামাণিকের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন, তার ভাই পুলিশ সদস্য হাফিজুল ইসলাম ওরফে জিল্লুর ও অপর ভাই মহিদুল ইসলাম নারায়ণপুর মাছ বাজার থেকে স্কুল ছাত্র মনিরুলকে টেনে-হিঁচড়ে নারায়ণপুর বাজারের বিপ্লব আলীর স’মিলের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে মনিরুলকে মোবাইল চুরির অভিযোগ তুলে বেধড়ক মারপিট করতে থাকে।

এক পর্যায়ে মনিরুলের পায়ে দড়ি বেঁধে জনৈক আনোয়ার হোসেনের মোবাইলের দোকানের বাঁশের আড়ার সাথে উল্টো করে ঝুলিয়ে তাকে পেটানো হয়।

স্কুল ছাত্রকে নির্যাতনের খবর বাজারে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। খবর পেয়ে বাঘা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নির্যাতনের শিকার স্কুল ছাত্র মনিরুল ইসলাম চিকিৎসাধীন অবস্থায় জানায়, সে মোবাইল চুরি না করলেও তাকে বেধড়ক মারপিট করেছে পাষণ্ডরা। খবর পেয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাকে উদ্ধার করে বলেও জানায় মনিরুল।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কৌশিক রায় জানান, মনিরের পায়ে দড়ির দাগ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে।

পুলিশ সদস্য হাফিজুল ইসলাম ওরফে জিল্লুর নামে এক নির্যাতনকারীকে আটক করা হয়েছে জানিয়ে বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মাহমুদ জানান, অন্য দুই নির্যাতনকারী প‍লাতক রয়েছেন। ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

খবরঃ বাংলানিউজ