রাজশাহীতে হচ্ছে বৃদ্ধাশ্রম কমপ্লেক্স

রাজশাহী

আপনের চেয়ে পর ভালো, পরের চেয়ে বৃদ্ধাশ্রম। কঠিন এক সত্য, কঠিন এক বাস্তবতা। আর এ সত্যকে মেনেই অনেক বৃদ্ধ মা-বাবা আশ্রয় নেন বৃদ্ধাশ্রমে। সন্তানের কাছে যাদের বেশি কিছু চাওয়ার নেই। শেষ বয়সে আদরের সন্তানের পাশে থেকে সুখ-দুঃখ ভাগ করবার ইচ্ছা এতোটুকুই যা চাওয়ার। আর এ নিয়েই প্রতিটি পিতা-মাতা প্রহর গুণতে থাকেন দিন-রাত। কিন্তু অনেকেরই সেই সন্তানের কাছে আশ্রয় হয় না। আশ্রয় হয় আপনজনহীন বৃদ্ধাশ্রমে।

আবার একটি পরিবারের একমাত্র সন্তানটি যদি মাদকাসক্ত হয়। তবে বলাই বাহুল্য সেই সন্তান মা-বাবার একটা যন্ত্রণা। বৃদ্ধকালে নয় কোন সময়ই সেই সন্তান বাবা-মায়ের সেবা ও সংসারের প্রয়োজন মেটাতে সমর্থ হয় না। হয় সেটি ধনী পরিবার, নয় গরীব পরিবার। সংসারের অসহ্য যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে তারাই বৃদ্ধাশ্রমের মত একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান খুঁজে ফিরে।

বৃদ্ধাশ্রম মানে বৃদ্ধদের আশ্রয়স্থল। কিন্তু রাজশাহী জেলার পবা উপজেলার আলাইবিদিরপুরের এ বৃদ্ধাশ্রমটি হবে অনেকটা ভিন্নধর্মী। স্বজনদের থেকে আলাদা হওয়া বৃদ্ধদের প্রয়োজনীয় সেবা ও আশ্রয়ের পাশাপাশি তাদের মধ্যে উদ্যোমী বয়স্কদের থাকছে কর্মক্ষেত্র। আবার রাজশাহী মহানগরীসহ আশে-পাশের বাড়ি থেকেও এই বৃদ্ধাশ্রমের সেবা পাবেন প্রবীনরা। এমন বিষয়টিই জানালেন সার্ভিস সেন্টার ফর এন্ডারলি পিপল ট্রার্স্ট’র অন্যতম সদস্য ড. প্যাট্রিক বিপুল বিশ^াস।

বর্তমানে ছোট পরিবার হলে সুযোগ সুবিধা বেশী পাওয়া যায়। সুশিক্ষা ও উচ্চ শিক্ষা অর্জণ সম্ভব হয়। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে এসব শিক্ষিত সন্তানরা তাদের লক্ষ্যপূরণ ও চাকরি নিয়ে পরিবারের বাইরে দেশে ও বিদেশে চলে যায়। তাই ইচ্ছা থাকলেও বাবা-মাকে যত্ন নিতে পারছেন না আদরের সন্তানরা।

বাড়ি আছে, গাড়ি আছে, টাকা আছে এবং সম্পদও আছে- কিন্তু বয়স নাই। কাছের কেহ না থাকায় কর্মক্ষমতা হারানো প্রবীণরা তাই অনেক কিছু থাকার পরেও দুঃসহ জীবন যাপন করতে বাধ্য হন। প্রবীনদের সার্বিক দেখভাল ও প্রয়োজনীয় সেবাদানে এই প্রথম রাজশাহীতে মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর পবা উপজেলার আলাইবিদিরপুরে সার্ভিস সেন্টার ফর এল্ডারলি পিপল কমপ্লেক্স এর ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন এক সময় বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু অনেক নীচে। এখন দেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১-৭২ বছরে। অনেক আগেই ভেঙ্গেছে যৌথ পরিবার। এরপরে থেকেই কমতে শুরু করেছে পরিবারের সদস্য। আমাদের দেশের জন্য ছোট পরিবার একান্ত জরুরী। তবে সন্তানরা বিবাহের কারণে ও উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে এবং চাকরি নিয়ে বিদেশে অবস্থান করায় বৃদ্ধ পিতা-মাতারা সবকিছু থাকার পরেও সেবা পাচ্ছেন না। হোল্ডিং ট্যাক্স, পানির বিল, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে পারছেন না।

আজকে যারা নবীণ আগামী দিনে তারাই প্রবীণ। কর্মক্ষমতাহীন প্রবীণের মাঝে ধনী-গরিবের পার্থক্য তেমন নাই। প্রবীনরা সবায় সেবা পেতে চায়। এই প্রত্যয় ও লক্ষ্য নিয়েই নির্মান হচ্ছে সার্ভিস সেন্টার ফর এল্ডারলি পিপল কমপ্লেক্স। রোটালিয়ান লাইলা রওশনের দানকৃত সাত বিঘা জমির ওপরে হচ্ছে এই কমপ্লেক্স। দু’টি ভবনের মধ্যে একটি অফিস ভবন এবং অন্যটি আবাসন। সাথে থাকছে পুকুরে মাছচাষ ও হাঁস-মুরগী পালনের সুবিধা।

প্রফেসর ড. খালেকুজ্জামানের সভাপতিত্বে কমপ্লেক্স এর ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন। প্রকৌশলী লুৎফুর রহমানের উপস্থপনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, নরওয়ে থেরেক আগত মি. ড্যাগ ভ্যালে, দেশ বরেণ্য কন্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রফেসর সামসুল আলম। বক্তব্য রাখেন, মেট্রোপলিটন রোটালিয়ান ক্লাবের সভাপতি প্রদীপ মৃধা।

এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ট্রার্স্টের সদস্য হন, রোটালিয়ান কালিপদ সাহা, সাইদুল হক, মনজুর মুর্শেদ, মঞ্জুরুল হক, খন্দকার হাসান কবীর এবং প্রধান অতিথি আয়েন উদ্দিন সোলার প্যানেলের প্রতিশ্রুতি দেন। উপস্থিত ছিলেন, নওহাটা পৌরসভা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল বারী খান, পবা উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক তফিকুল ইসলাম, জেলা মিশুক-সিএনজি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দিদার হোসেন ভুলু, নওহাটা পৌরসভা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান প্রমুখ।

খবরঃ দৈনিক সানশাইন

20 thoughts on “রাজশাহীতে হচ্ছে বৃদ্ধাশ্রম কমপ্লেক্স

  1. দুঃসংবাদ কেন অাস‌লে যারা অব‌হে‌লিত যা‌দের ঠাই নেই তাদের তো একটা স্থান হল । অাবার অ‌নেক নিঃসন্তান বৃদ্ধ অা‌ছেন যা‌দের শেষ বয়সটা‌তে দেখার কেউ থা‌কে না তা‌দের উপকার হ‌বে।

Comments are closed.