রাজশাহীতে হাত মেশিনে তৈরি সেমাই

তানোর রাজশাহী

ঈদ কাছে আসলেই বাড়ির মেয়েরা ব্যস্ত হয়ে পড়তেন চাল-গমের আটার তৈরি সেমাই তৈরি করতে। হাতে তৈরি এ সেমাইয়ের কদর ছিলো বেশ। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবার এটি। এমন সেমাই ছাড়া ঈদের উৎসব যেনো মানাতো না। কিন্তু এখন এখন এমন চিত্র দেখা মেলা ভার।

একযুগ আগেও গ্রামের ঘরে ঘরে গমের আটা দিয়ে হাতে তৈরি সেমাইয়ের দেখা প্রায় বাড়িতেই মিলতো। কিন্তু বর্তমান সময়ে দেখা মেলা ভার। বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলোর সেমাইয়ের কারণে হাত মেশিনে তৈরি সেমাই হারিয়ে যেতে বসেছে। নতুন প্রজন্মের অনেকেই জানেন না এ সেমাইয়ের কথা।

পিতলের তৈরি আঁকা-বাঁকা সেমাই তৈরির মেশিন টেবিল অথবা চেয়ারের সঙ্গে নাট-বোল্ট দিয়ে আটকে একসঙ্গে ১০ থেকে ১২ জন গৃহিণী ঘানির মতো ঘুরিয়ে চাল বা গমের আটার সেমাই তৈরি করতেন। বানানো সেমাই দুই তিন দিন রোদে শুকিয়ে নেয়ার পর নারিকেল দিয়ে রান্না করা হতো। শুধু নিজেরা রান্নায় করতে না, হাতে তৈরি সেমাই মেয়ের জামাইয়ের বাড়িতে না পাঠালে ‘জামাই সাজন’ তৈরিতে খুঁত থেকে যায়। এমন রীতি প্রচলিত অনেক জায়গায় আছে।

যুগের সাথে সাথে হারিয়ে যাওয়া হাতের মেশিনে সেমাই এখনো চাঁপাইনবাবঞ্জ জেলার কিছু অঞ্চল ও রাজশাহীর তানোর-গোদাগাড়ী উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে গৃহবধূরা এ সেমাই তৈরি করে থাকে। তবে, আগে ব্যাপকভাবে তৈরি হলেও এখন খুব সীমিতভাবে তৈরি হয়।

শুক্রবার সকালে হাতে তৈরি গমের আটার সেমাই বানাতে দেখা মিল রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাঁচন্দর গ্রামে। কয়েকজন গৃহবধূ পিতলের তৈরি আঁকা-বাঁকা সেমাই তৈরির মেশিন চেয়ারের সঙ্গে চেয়ারের সঙ্গে নাট-বোল্ট দিয়ে আটকে ঘানির মতো ঘুরিয়ে চাল বা গমের আটার সেমাই তৈরি করছে।

সাহিদা নামের এক গৃহবধূ জানান, ঈদের উৎসব হাতে তৈরি সেমাই ছাড়া অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাই তারা বাজারের সেমাইয়ের পাশাপাশি নিজেদের তৈরি সেমাই দিয়ে ঈদ উপভোগ করেন।

তিনি আরো বলেন, হাতের তৈরি সেমাই ভেজালমুক্ত। গুড়, দুধ ও নারিকেল দিয়ে হাতে তৈরি সেমাই খেতেও মজা। এছাড়া তারা মেয়ের জামাই বাড়ি সেমাই পাঠান তিনি।

একই উপজেলার সাহাপুর গ্রামের গৃহবধূ রোজিনা জানান, আগে ঘরে ঘরে এ হাতের তৈরি সেমাই বানানো হলেও বর্তমান যুগে বাজারে হরেক রকম কোম্পানির সেমাই আসায় মানুষ সেগুলোতে ঝুঁকেছে।

খবরঃ দৈনিক সানশাইন

1 thought on “রাজশাহীতে হাত মেশিনে তৈরি সেমাই

Comments are closed.