রাজশাহীতে ১৪ হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান হবে: পলক

রাজশাহী

অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্কের। মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহী মহানগরীর জিয়ানগর এলাকায় তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর এই পার্কের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সীমানা প্রাচীর ও গেইট নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছেন তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

এর আগে এ বছরের ১৩ জানুয়ারী হাই-টেক পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন প্রতিমন্ত্রী পলক। এরপর সেখানে ভরাটের কাজ চলে। এবার উদ্বোধন হলো সীমানা প্রাচীর ও গেইট নির্মাণের। এর মধ্যে দিয়েই দৃশ্যমান হতে শুরু করল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক।

নির্মাণ কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, হাই-টেক পার্কের নির্মাণ শেষে এখানে ১৪ হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। ২০২১ সাল নাগাদ রাজশাহীকে সারা বিশ্বই চিনবে এই হাই-টেক পার্কের মধ্য দিয়ে।

তিনি বলেন, রাজশাহীর মানুষ শুধু শ্রমনির্ভর থাকবে না। ভারতের ব্যাঙালোর, আমেরিকার সানফ্রান্সিসকো ও ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন সিটির মতো বঙ্গবন্ধু হাই-টেক পার্কে বিশ্বমানের সফটওয়্যার তৈরি হবে। শুধু মেধার বিকাশ ঘটিয়ে রাজশাহীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করা হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকল্পের পরিচালক একেএম ফজলুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন- রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন ও সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি আক্তার জাহান।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, মহানগরের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহীন আক্তার রেণী, সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ হবিবুর রহমানসহ বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর রাজশাহীতে এক জনসভায় রাজশাহীতে এই সিলিকন সিটি নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন সিটি মেয়র থাকা অবস্থায় এটি নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠান। এরপর গতবছরের ২৩ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। এরপরই এর নির্মাণ কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির আদলেই এর অবকাঠামোগত নির্মাণ হবে। হাই-টেক পার্কের ভেতর ১০ তলা একটি ভবন নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া ৬২ হাজার বর্গফুট আয়তনের পাঁচতলা বিশিষ্ট একটি আইটি ইনকুবেটর কাম ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করা হবে। সব কাজ শেষ হবে আগামি তিন বছরের মধ্যে। পদ্মাপাড়ের ৩১ দশমিক ৬৩ একর জমির ওপর গড়ে উঠতে যাওয়া এই পার্কটি নির্মাণে ব্যয় হবে ২৮১ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

খবরঃ দৈনিক সানশাইন