রাজশাহীতে ২শ’ বিঘা জমি জলাবদ্ধার আশংকা

পবা রাজশাহী

রাজশাহীর পবা উপজেলায় অপরিকল্পিত পুকুরখনন রোধে কোন পদক্ষেপ নেই প্রশাসনের। এসব অবৈধ পুকুরখননের একটিও বন্ধ করেনি প্রশাসন। প্রেক্ষিতে দিন দিন এই উপজেলায় জ্যামিতিক হারে পুকুরখনন এগিয়ে চলেছে। জলাবদ্ধাতার আশংকায় প্রশাসনে আবেদন করেও কোন কাজ হচ্ছে না। প্রশাসনের এমন নীরব ভুমিকায় পুকুরখনন সিন্ডিকেট উৎসাহিত হচ্ছে বলে সচেতনমহল জানিয়েছেন।

বর্তমানে উপজেলার শুধু দামকুড়া ইউনিয়নের মধুপুর মৌজার বিলসহ উপজেলার প্রায় ১০টি স্থানে রাত-দিন চলছে পুকুর খননের কাজ। এতে মধুপুর বিল সংলগ্ন কয়েকটি গ্রামসহ প্রায় ২শ’ বিঘা ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতার আশংকা করা হচ্ছে। এলাকাবাসি পুকুর খনন বন্ধে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন।

জানা গেছে, সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে পবার দামকুড়ার মধুপুর এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় চলছে পুকুর খননকাজ। একটি স্বার্থান্বেষি মহল স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে তিন ফসলি জমিকে পুকুরে রুপান্তর করছেন। এরফলে পানি নিস্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় একদিকে বর্ষার সময়ে একটু বৃষ্টিতে তলিয়ে যাচ্ছে ওই পুকুরের পাশের শতশত বিঘা ফসলের ক্ষেত, অন্যদিকে খরার সময়ে সেচের পানির অভাবে ফসল নষ্ট হচ্ছে। শুধু যে ক্ষেতের ফসলের ক্ষতি হচ্ছে তাই নয়। পুকুর খননের কাজে ব্যবহৃত এক্সেভেটর ও মাটি পরিবহনে ব্যবহত ট্রাক্টরে গ্রামীণ সংযোগ সড়কগুলো ভেঙ্গে মরণফাদে পরিনত হচ্ছে। যে কারণে রাস্তাগুলো বছর খানেকের মধ্যেই নস্ট হয়ে যাচ্ছে। আবার পুকুরগুলো রাস্তা ঘেষা হওয়ায় তা ভেঙ্গে পুকুরে পতিত হচ্ছে।

পবার মুরারিপুর এলাকার ঈশাসহ কয়েকজন জেলা প্রশাসক বরাবরে করা তাদের আবেদনে বলেছেন, পবার বালিয়া এলাকার রসুল ঘোষ দিং মধুপুর মৌজায় তাদের আবাদি জমিতে কোন নিয়মনিতির তোয়াক্কা না করে ইজারদার দিয়ে ড্রেজার নামিয়ে পুকুর খনন শুরু করেছে। এতে করে ওই জমির পাশে থাকা তারসহ এলাকার লোকজনের প্রায় ২শ’ বিঘা জমি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। শুধু তাই নয় বর্ষার সময়ে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় পানিতে তলিয়ে থাকবে বিলের অন্যান্য জমি। আর জমির মালিকরা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাবে। একই অবস্থা পবার অন্যন্য এলাকাতেও। এলাকাবাসি তদন্ত সাপেক্ষে অবৈধ পুকুরখনন বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

খবরঃ দৈনিক সানশাইন