রাজশাহীতে ২০ বছর ধরে রাস্তাটির বেহালদশা!

রাজশাহী

কথা রাখেননি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপৰ। মহানগরীর বড় মসজিদ থেকে কুমারপাড়া মোড় পর্যন্ত চলতি মাসে (ফেব্র্বয়ারি) রাস্তাটির উন্নয়ন কাজ শুর্ব করার কথা থাকলেও তা হয় নি। আবারো ধারাবাহিক বক্তব্য আগামী মার্চ মাসে প্রজেক্ট পাস হলে উক্ত রাস্তার উন্নয়ন কাজে হাত দেয়া সম্ভব হবে। এ ব্যাপারে ব্যাপক ৰোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নগরীতে কয়েকটি রাস্তার বেহাল দশার মধ্যে অন্যতম ওই রাস্তাটি। তাকালেই নজরে পড়ে সংশিৱষ্ট কর্তৃপৰের অবহেলা। এ ব্যাপারে নগরীর স’ানীয় সংবাদপত্রগুলোতে উক্ত রাস্তায় চলাচলকারী মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ করে। কিন্ত আমলে নিচ্ছে না রাসিক কর্তৃপৰ।

এলাকাবাসী ও সেখানকার ব্যবসায়ীরা ৰোভ প্রকাশ করে জানান, গত ২০ বছর ধরে এই হাল। রাস্তা থেকে পাথর উঠে বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি চলাফেরার অযোগ্য হয়ে পড়ে। কাদা-পানি ও উঠে যাওয়া পাথর ছিটকে প্রতিনিয়ত মানুষ আহত হচ্ছে নষ্ট হচ্ছে, পরিহিত জামা-কাপড়। এটি কোন উপজেলা বা গ্রামের সড়ক নয়। মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন বড় মসজিদ হতে কুমারপাড়ার মোড় পর্যন্ত বিকল্প এই রাস্তায় যে কোন মুহূর্তে অনাকাঙিৰত ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। রাস্তাটি অবিলম্বে সংস্কার প্রয়োজন বলেও তারা দাবি করেন। কিন’ কোন ভ্র্বৰেপ নেই রাসিক কর্তৃপৰের।

এ ব্যাপারে তুহিন ফার্নিচারের মালিক  শাহাদাত হোসেন জানান, তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে সেখানে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। রাস্তাটির এমন কর্বণ অবস’া এর আগে কখনো দেখেন নি। সংশিৱষ্ট কর্তৃপৰের অবহেলায় প্রতিদিন সেখানকার ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় রাস্তার বিভিন্ন স’ানে খন্ড খন্ড গর্তে পরিণত হয়েছে, পাথর উঠে গেছে, গরমের দিনে ধুলো বালি এবং সামান্য বৃষ্টি হলে রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। আর ধুলোবালির কারণে দোকানে বসা যায় না, শ্বাসকষ্ট হয়, মুছামুছি করতে গিয়ে শো-র্বমের ফার্নিচারগুলো দাগ পড়ে যায়, কাস্টমার সেগুলো কিনতে চান না। এছাড়াও গাড়ি চলাচলের সময় নোংরা পানিতে জামা-কাপড় নষ্ট হয়, রাস্তার পাথর ছুটে এসে স্কুল, কলেজ শিৰার্থী ও পথচারীর আহতের ঘটনাও একাধিক ঘটেছে। রাস্তাটি বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।  এ দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ চান ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও তিনি বলেন, তৎকালিন সময়ে উন্নয়নের প্রতিক মেয়র এএইচএম খায়র্বজ্জামান লিটন উক্ত রাস্তার উন্নয়নে উদ্যোগ নিলেও দায়িত্বে না থাকায় আর সম্ভব হয়ে উঠেনি।

এ ব্যাপারে সাবেক মেয়র ও বর্তমান মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়র্বজ্জামান লিটন এর সত্যতা স্বীকার করে জানান, উক্ত রাস্তার জরাজীর্ণ অবস’া ও এলাকাবাসীর দুর্ভোগ সম্পর্কে তিনি সমপ্রতি অবগত হয়েছেন। তিনি বিষয়টি আন্তরিকভাবে দেখবেন বলেও জানান

এ ব্যাপারে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক জানান, মহনগরীর বড় মসজিদ হতে কুমারপাড়ার মোড় পর্যন্ত কয়েকটি খারাপ রাস্তার মধ্যে একটি। প্রজেক্ট পাস হলে কাজটি হাত দেয়া সম্ভব হবে। তবে চলতি (ফেব্র্বয়ারি) মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শুর্ব করার কথা থাকলে সেটি সম্ভব হচ্ছে না। আগামী মার্চ মাসের মধ্যে প্রজেক্ট পাস হলে সম্ভব হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

তৎকালিন সময়ে রাস্তাটি রাজশাহী-নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে যাতায়াতের জন্য প্রধান সড়ক হিসাবে ব্যবহার করা হতো। ১৯৮২ সালে নগরীর আলুপট্টি থেকে সোনাদিঘির মোড় পর্যন্ত দৈর্ঘ্য, প্রস’ বাড়িয়ে নতুন বড় রাস্তাটি চালু করা হয়। এতে করে কালের সাথে উক্ত রাস্তার কদর কমে যায়। এ ব্যাপারে অনতিবিলম্বে সংশিৱষ্ট কর্তৃপৰের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ওই এলাকার ব্যবসায়ীরা।

খবরঃ Sonali Sangbad

4 thoughts on “রাজশাহীতে ২০ বছর ধরে রাস্তাটির বেহালদশা!

  1. রাজশাহীবাসী ভোট দিতে ভুল করেনি ভুল করান হয়েছে । দলীয় অন্তকোন্দল, কতিপয় সুবিধাবাদীদের কারনে নির্বাচনে পরাজয় হয় । যাদের কারনে পরাজয় হয় এরা এখন দলের ভিতর তৎপর ।

Comments are closed.