রাজশাহীর আকাশ পথে সম্ভাবনার হাতছানি

রাজশাহী

‘এপ্রিল মাসে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্লেনে ঢাকা যাওয়ার সময় প্রথম অফার পেয়েছিলাম। পাঁচ মাস পেরিয়ে গেছে। কিন্তু দেখলাম অফার শেষ হয়নি। একে তো প্লেনে ভ্রমণ, তার উপর আবার ডিসকাউন্ট! কে হারাবে এমন সুযোগ? তাই এখন প্লেনেই ভ্রমণ করছি। অর্থ সাশ্রয় ও সময় দু’টোই বাঁচছে।’
রাজশাহী-ঢাকা রুটে চলাচলকারী চাকরিজীবী আহসান হাবিব উৎফুল্ল কণ্ঠে এভাবেই বলছিলেন হজরত শাহ মখদুম (র.) বিমানবন্দরের প্যাসেঞ্জার লাউঞ্জে।
বলছিলেন ডিসকাউন্ট মূল্যে পাওয়া ইউএস-বাংলার টিকেটের কথা। তার ভাষ্য, ‘এ অফার ভ্রমণের আনন্দকে দ্বিগুণ করছে।’
শুধু চাকরিজীবী আহসান হাবিবই নন, বর্তমানে রাজশাহী-ঢাকা রুটে প্লেনে চলাচকারী অনেকের বক্তব্য প্রায় এমনই। দেখা গেছে, বিলাসবহুল প্লেনে সাধারণ যাত্রীদের তুলতে সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করছে এয়ারলাইন্সগুলো। আর কোনো কোনো যাত্রী সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আকাশপথে রোমাঞ্চকর ভ্রমণের স্বাদ নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ নিজের জরুরি প্রয়োজন মেটাচ্ছেন।
প্লেন যাত্রী সিহাব রহমান জানান, তিনি গ্রামীণফোনের স্টার গ্রাহক। আর স্টার প্রোগ্রামের আওতায় কয়েকদিন আগে নভোএয়ারের রাজশাহী-ঢাকা রুটের টিকেটে ১০ শতাংশ ডিসকাউন্ট পেয়েছেন। তাই ডিসকাউন্টেরর সুযোগটা নিতে নভোএয়ারে ঢাকা যাচ্ছেন। ফিরবেনও নভোএয়ারে।
এই ডিসকাউন্ট অফার তার যাত্রার আনন্দে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করেন সিহাব রহমান।
ডিসকাউন্ট প্রশ্নে ইউএস-বাংলার রাজশাহী স্টেশন ইনচার্জ মোশারফ হোসেন বলেন, বাংলা নববর্ষ  উপলক্ষে গত পয়লা বৈশাখ থেকে তাদের  এই স্পেশাল অফার শুরু হয়। কিন্তু বৈশাখী উৎসব শেষ হওয়ার পরও ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ এই অফার অব্যাহত রেখেছেন।
‘তাই সাধারণ প্লেনযাত্রীরা ডিসকাউন্ট মূল্যে নিরাপদ ভ্রমণের আনন্দ উপভোগ করতে পারছেন।’
বর্তমানে বৈশাখী অফারের আওতায় ২ হাজার ৯৯৯ টাকায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে একজন যাত্রী রাজশাহী-ঢাকা রুটে চলাচল করতে পারছেন।
তিনি জানান, ইউএস-বাংলার সর্বনিম্ন টিকেট মূল্য ৩ হাজার ২০০ টাকা। আর সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৫০০ টাকা। এই প্লেনে আসনের কোনো শ্রেণী নেই। সবাই একই সুযোগ-সুবিধায় ভ্রমণ করতে প‍ারছেন। এতেই যাত্রীদের মধ্যে সাড়া পড়েছে।
এদিকে নভোএয়ারের রাজশাহী স্টেশন ইনচার্জ সোমেন চৌধুরী জানান, জিপি স্টার গ্রাহকদের জন্য তাদের ১০ শতাংশ ডিসকাউন্ট অফার চলছে। এতে ৩ হাজার ২০০ টাকার টিকেট ২ হাজার ৯০০ টাকায় পাচ্ছেন স্টার গ্রহকরা।
রাজশাহী ছাড়াও শহরে ১১টি এজেন্সির মাধ্যমে নভোএয়ারের টিকেট সংগ্রহ করা যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
বিমানবন্দর কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা যায়, আট বছর বন্ধ থাকার পর ২০১৫ সালের ৭ এপ্রিল ফের রাজশাহীর হজরত শাহ মখদুম বিমানবন্দর থেকে প্লেন চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে প্রতিদিনই ঢাকায় ফ্লাইট চলাচল করে।
প্রথম দিকে রাজশাহী-ঢাকা রুটে ডানা মেলে পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট। বিমানের দেখানো পথে হাঁটে বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা।
‘ফ্লাই ফাস্ট-ফ্লাই সেফ’ স্লোগানে ওই বছরের ১১ জুলাই থেকেই সংস্থাটির ফ্লাইট। আর চলতি বছরের এপ্রিলে যাত্রী পরিবহন শুরু করে নভোএয়ার।
এর মধ্যে সপ্তাহের শুক্রবার, রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার এই চারদিন ফ্লাইট পরিচালনা করছে বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সপ্তাহে শনিবার, সোমবার ও বুধবার ফ্লাইট চালাচ্ছে ইউএস-বাংলা। আর শুক্রবার, সোমবার ও বুধবার উড়ে নভোএয়ারের প্লেন।
শাহ মখদুম বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক সেতাফুর রহমান বলেন, ‘চলতি বছর আপাতত এভাবেই প্লেন চলাচল করবে। তবে ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় অভ্যন্তরীণ রুটে আরও বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে কিনা তা নতুন বছরে কর্তৃপক্ষ তা বিবেচনা করবেন।’

খবরঃ বাংলানিউজ

4 thoughts on “রাজশাহীর আকাশ পথে সম্ভাবনার হাতছানি

Comments are closed.