রাজশাহীর আফ্রিদীর একহাতে কলম অন্য হাতে পুশ করা স্যালাইন

দুর্গাপুর রাজশাহী

দুর্গাপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৭ নম্বর কক্ষের দরজার কাছে যেতেই দেখা গেল কক্ষের মেঝেতে শুয়ে থেকে এক ছাত্র পরীক্ষা দিচ্ছেন। তার এক হাতে কলম, অন্য হাতে পুশ করা হয়েছে স্যালাইন। আর জানালার গ্রীলের সাথে ঝুলানো রয়েছে স্যালাইনের ব্যাগ। গত ৪ দিন ধরে সে অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে।

বুধবার থেকে শুরু হওয়া জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে তাকে অসুস্থতাকেও হার মানাতে হয়েছে। অসুস্থতার কাছে নিজে হার না মেনে তাই শুয়ে থেকেই পরীক্ষায় অংশ নেয় সে। পরীক্ষায় অংশ নেয়া ওই ছাত্রের নাম শহীদ আফ্রিদী। দুর্গাপুরের উজালখলসী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সে এবারের জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

আর টানা ৩ ঘন্টা সে শুয়ে থেকেই পরীক্ষা দেয়। একই সাথে তার অন্য হাতে পুশ করা স্যালাইনও চলতে থাকে।অসুস্থ পরীক্ষার্থী শহীদ আফ্রিদীর মা হাজেরা বিবি জানান, তার ছেলে গত ৪দিন ধরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। এ অবস্থায় তারা ধরেই নিয়েছিলেন তার ছেলে এবারের জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেনা।

কিন্তু ছেলের মনোবলের কাছে হেরে যান মা হাজেরা বিবি। বুধবার পরীক্ষায় অংশ নিতে অন্য পরীক্ষার্থীদের মতো ছেলেকে নিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় কেন্দ্রে পৌছাতে পারেননি। চলন্ত ভ্যান গাড়ীতে স্যালাইন পুশ করা অবস্থাতেই রাস্তায় কয়েকবার তার ছেলে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়েছে।

এ অবস্থায় তার ছেলের শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হয়। দীর্ঘক্ষন বসে থেকে পরীক্ষা দেবে সে শক্তিটুকুও শরীরে নেই। কেন্দ্রে পৌছেই বিষয়টি কেন্দ্র সচিবকে জানালে কেন্দ্র সচিব তাকে শুয়ে রেখে পরীক্ষা দেয়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। টানা ৩ ঘন্টা শহীদ আফ্রিদী শুয়ে থেকেই পরীক্ষা দিয়েছে। এই ৩ ঘন্টা এক হাতে কলম চললেও অন্য হাতে স্যালাইন পুশ করা ছিল।

দুর্গাপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) ও কেন্দ্র সচিব শফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তাকে অবহিত করা হলে তিনি তাৎক্ষনিক ভাবে ওই পরীক্ষার্থীকে শুয়ে রেখে পরীক্ষা দেয়ানোর ব্যবস্থা করেন। অসুস্থতা আরো বেড়ে গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সার্বক্ষনিক মেডিকেল টিমের একজন সদস্যকে সেখানে রাখা হয়।

কেন্দ্র সচিব শফিকুল ইসলাম আরো বলেন, দুর্গাপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এবারের জেএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে উপজেলার ২৫ টি বিদ্যালয়ের মোট ১ হাজার ৪৪৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়ার কথা থাকলেও ৩০ জন অনুপস্থিত ছিলেন।

ফলে প্রথম দিনে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় তার কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ হাজার ৪১৯ জন। কোন ধরনের বিশৃংখলা ছাড়াই পরীক্ষা সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ জন্য কেন্দ্রের দায়িত্বরত সকল শিক্ষক-কর্মচারী, পুলিশ ও ইউএনও প্রতিনিধির সহযোগীতাকেও স্মরন করেন তিনি।

খবরঃ ডেইলি সানশাইন

2 thoughts on “রাজশাহীর আফ্রিদীর একহাতে কলম অন্য হাতে পুশ করা স্যালাইন

Comments are closed.