রাজশাহীর উন্নয়নে ৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

রাজশাহী

আধুনিক ও পরিকল্পিত নগর গড়তে চায় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)। এরই অংশ হিসেবে তিন হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে নগর সংস্থা। প্রকল্পটি একনেক অনুমোদনের অপেক্ষায়।

নগর কর্তৃপক্ষ বলছে, এই প্রকল্পটির আওতায় নগরীতে ছয়টি ফ্লাইওভার নির্মাণ, ৫০টি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি নির্মাণ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থানে ১৭টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ ও ৩০টি গণশৌচাগার নির্মাণ করা হবে।

এছাড়া নির্মাণ করা হবে গোরস্থান এবং জলাশয়ের পাশে ওয়াকওয়ে। সবমিলিয়ে প্রায় ৬৯টি ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে এই প্রকল্পে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নগরের দৃশ্য বদলে যাবে।

রাসিক জানায়, নগরীর অবকাঠামোগত উন্নয়নে বর্তমানে পাঁচ প্রকল্প চলমান। এর মধ্যে রয়েছে ১৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহী মহানগরীর রাজশাহী-নওগাঁ প্রধান সড়ক থেকে মোহনপুর-রাজশাহী-নাটোর সড়ক পর্যন্ত পূর্ব-পশ্চিম সংযোগ সড়ক নির্মাণ, ১৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহী মহানগরীর জলাবদ্ধতা দূরীকরণে নর্দমা নির্মাণ, ১২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর কল্পনা সিনেমা হল থেকে তালাইমারি মোড় পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন, ১৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার উন্নয়ন এবং ৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে সড়ক ও নর্দমাসমূহের উন্নয়ন।

শিগগিরই তিন হাজার কোটি টাকার আরেকটি মেগা প্রকল্প অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রকল্প অনুমোদন পেলে নগরীর উন্নয়নে মাইলফলক স্পর্শ করবে।

নতুন এই প্রকল্পের মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশনে অযান্ত্রিক যানবাহন লেনসহ চারলেন সড়ক নির্মাণ করা হবে ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার, কার্পেটিং সড়ক নির্মাণ করা হবে ৩৬৮টি; যার দৈর্ঘ্য হবে ৯৯ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার, কার্পেটিং সড়ক পুনর্নির্মাণ করা হবে ২৫৮টি, কার্পেটিং সড়ক প্রশস্তকরণ করা হবে ৫৩টি; যার দৈর্ঘ্য হবে ৩০ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার, সিমেন্ট কনক্রিট সড়ক নির্মাণ করা হবে এক হাজার ৮০৭টি; যার দৈর্ঘ্য ১৮৫ দশমিক ৩০ কিলোমিটার।

এছাড়া সিমেন্ট কনক্রিট সড়ক পুনর্নির্মাণ করা হবে ৫৯৮টি; যার দৈর্ঘ্য ৭৯ দশমিক ৬১ কিলোমিটার। ছয়টি প্রাইমারি নর্দমা নির্মাণ করা হবে; যার দৈর্ঘ্য হবে চার দশমিক ৫১ কিলোমিটার। ১৪৯টি সেকেন্ডারি নর্দমা নির্মাণ করা হবে; যার দৈর্ঘ্য হবে ৫৯ দশমিক ৩৩ কিলোমিটার।

টারশিয়ারি নর্দমা নির্মাণ করা হবে ২৪১১টি; যার দৈর্ঘ্য ২৯২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার। ফুটপাত নির্মাণ করা হবে ৪১ দশমিক ৯২ কিলোমিটার, গোরস্থান ও জলাশয়ের পাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে ৬২ দশমিক সাত কিলোমিটার।

জলাশয়সমূহে সৌন্দর্যবর্ধনমূলক কাঠামো নির্মাণ করা হবে ১৯টি। গণশৌচাগার নির্মাণ করা হবে ৩০টি। পার্ক নির্মাণ করা হবে চারটি। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার করা হবে, ফ্লাইওভার ছয়টি, ফুটওভার ব্রিজ ১৭টি, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ৫০টি, কাঁচাবাজার চারটিসহ জলাশয় খনন ও সড়ক আলোকায়নসহ ৬৯টি ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে।

রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, গত বছর জুলাই মাসে স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকল্প যাচাই কমিটির সভায় প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছে। এই মাসেই প্রকল্পটি একনেকে পাস হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ নতুন রূপে গড়ে উঠবে রাজশাহী।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ জাগোনিউজ২৪